৭০ এ পা সোহেল রানার

শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

একুশে ফেব্রয়ারি এেেলই চলচ্চিত্রের কাছের কয়েকজন মানুষ দাওয়াত ছাড়াই হাজির হয়ে যান সোহেল রানার বাসায়। কারণ অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানার জন্মদিন ২১ ফেব্রয়ারি। ১৯৪৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। তবে জন্ম ঢাকায় হলেও পৈতৃক নিবাস বরিশাল। এক সময় তিনি ছিলেন তুখোড় ছাত্রনেতা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর তিনি চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে ‘মাসুদ পারভেজ’ এবং অভিনেতা হিসেবে ‘সোহেল রানা’ নাম ধারণ করে। মাসুদ পারভেজ বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর পরই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। প্রযোজক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন পারভেজ ফিল্মস এবং এ প্রতিষ্ঠানের ব্যানারেই চাষী নজরুল ইসলামের পরিচালনায় নির্মিত হয় বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। মুক্তি পায় ১৯৭২ সালে। এরপর যে ছবিগুলো নির্মিত হয় এ প্রতিষ্ঠান থেকে সেগুলো হলো- ওরা ১১ জন, মাসুদ রানা, দস্যু বনহুর, গুনাহগার, জবাব, যাদুনগর, জীবন নৌকা, যুবরাজ, নাগর পূর্ণিমা, বিদ্রোহী, রক্তের বন্দী, লড়াকু, মাকড়সা, বজ্রমুষ্টি, ঘেরাও, চোখের পানি, ঘরের শত্রু, গৃহযুদ্ধ, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা, শত্রু সাবধান, খাইছি তোরে, ভালোবাসার মূল্য কত, অন্ধকারে চিতা, ভয়ঙ্কর রাজা, ডালভাত, চারিদিকে অন্ধকার, রিটার্ন টিকিট ও মায়ের জন্য পাগল।

অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু ১৯৭৩ সালে। কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত কাল্পনিক চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের একটি গল্প অবলম্বনে মাসুদ রানা চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘সোহেল রানা’ নাম ধারণ করে। একই ছবির মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবে মাসুদ পারভেজ নামে অভিষেক ঘটে তার। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পে তার অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত করেন।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj