’৯৬ শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলা : তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মঙ্গলবার, ২২ মার্চ ২০১৬

কাগজ প্রতিবেদক : ১৯৯৬ সালে শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আমিরুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট ইস্যু) জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। পুঁজিবাজার মামলা নিষ্পত্তিতে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ভবনে স্থাপিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুমায়ুন কবীর গত রোববার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার এ আদেশ জারি করেন।

১৯৯৬ সালের প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করা হয়। এ ছাড়া মামলার বাদী ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশেনের (বিএসইসি) সাবেক নির্বাহী পরিচালক এম এ রশীদ খানের বিরুদ্ধেও ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়। বিএসইসির প্যানেল আইনজীবী মাসুদ রানা খান বলেন, প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ মামলায় প্রফেসর আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এবং এম এ রশীদ খানের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২০ মার্চ নির্ধারিত তারিখ ছিল। কিন্তু উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এদিকে ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৭ মার্চ মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ওই দিন এ মামলায় বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন আহমেদ ও ১৯৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির সদস্য প্রফেসর জহুরুল হকের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার মামলার আসামি প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান, পরিচালক অনু জাগীরদার ও সাঈদ এইচ চৌধুরী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আমিরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। তিন মাস পর ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ তদন্ত কমিটি সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রিমিয়ার সিকিউরিটিজের শেয়ার কেলেঙ্কারির বিষয়টি উঠে আসে। মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামিরা প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের নামে ১৯৯৬ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন করেছেন। এ সময়ে তারা মিতা টেক্সটাইল, প্রাইম টেক্সটাইল, বাটা সুজ ও বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার লেনদেন করেন। প্রতিষ্ঠানটি ওই সময়ে মোট ১২৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা লেনদেন করে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি শুধু ফরেন ডেলিভারি ভার্সেস পেমেন্টের (ডিভিপি) মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা লেনদেন করে।

এ সময় ১ নম্বর আসামি প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ ওই সময়ে ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৩টি শেয়ার বিক্রি করে, যার মূল্য ছিল ৬৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। স্টক এক্সচেঞ্জের রেকর্ড মোতাবেক আসামিরা এসিআই লিমিটেডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১৯টি শেয়ার বিক্রি করেন। অথচ ব্যাংক রেকর্ড অনুযায়ী শেয়ার বিক্রির পরিমাণ ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৮টি, যার মধ্যে ফরেন ডিভিপির মাধ্যমে লেনদেন অনিষ্পত্তি হওয়া শেয়ারের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। একইভাবে আসামিরা ডিভিপির মাধ্যম ছাড়াও স্থানীয়ভাবে শেয়ারের অন্যতম ক্রেতা-বিক্রেতা ছিলেন। আসামিরা ওই সময়ের মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মার ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৫টি শেয়ার বিক্রি করেন। এর মধ্যে ডিভিপির মাধ্যমে ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭০০টি শেয়ার বিক্রি করেন। আর এখানেও অনিষ্পত্তি হওয়া শেয়ার ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৫০০টি। এসব ফরেন ডিভিপির মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য প্রতিষ্ঠানটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ইন্দোসুয়েজ ব্যাংক ব্যবহার করত। আসামিদের এ ধরনের কার্যকলাপ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি, অপকার ও নষ্ট করেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ-১৯৬৯ এর ২১ ধারা বলে গঠিত তদন্ত কমিটি ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে আসামিরা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ-১৯৬৯ এর ১৭ ধারার ই(২) বিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। আর সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের ২৪ ধারার অধীনে আসামিদের শাস্তি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj