তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচনের ফলাফল

সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৬

সারা দেশ ডেস্ক : তৃতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। ভোরের কাগজ প্রতিনিধিদের পাঠানো নির্বাচনের ফলাফল-

নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) : উপজেলার বাইশারীতে নৌকা প্রতীকের মোহাম্মদ আলম কোম্পানি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেন। তিনি ৯টি ভোট কেন্দ্রে পেয়েছেন ৮ হাজার ১০৫ ভোট। কেন্দ্রে তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী ধানের শীষের মনিরুল হক মনু পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭৯ ভোট। এ ইউনিয়নে মোট ভোটের সংখ্যা ৮ হাজার ৮১৮। অপর দিকে দৌছড়ি ইউনিয়নে ৯ কেন্দ্রের মধ্যে একটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এ কেন্দ্রের ভোটের সংখ্যা ৩৭২ ভোট। রাতে নির্বাচন অফিসের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল মতে- বাইশারী ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ভোট কেন্দ্র-১নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ আলম কোম্পানি নৌকার প্রতীকে পেয়েছেন-৩০২ ভোট আর ধানের শীষের মনিরুল হক মনু পেয়েছেন-১০২ ভোট। ২ নম্বর ওয়ার্ডে নৌকা ৩৮০ ভোট আর ধানের শীষ পেয়েছেন ২৩০ ভোট। ৩ নম্বর ভোট কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছেন ৩৬০ ভোট আর ধানের শীষ পেয়েছেন ২০৩ ভোট।

৪ নম্বর কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে ৩৬৫ ভোট ধানের শীষ পেয়েছে ৪৫৪ ভোট। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নৌকা পেয়েছে ৩৯৭ ভোট আর ধানের শীষ ২৪৫ ভোট। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নৌকা ৪১২ ভোট আর ধানের শীষ ১০১ ভোট। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নৌকা পেয়েছে ৬৭৬ ভোট আর ধানের শীষ পেয়েছে ৫৭৩ ভোট। ৮নং ওয়ার্ডে নৌকা পেয়েছে ৬০৫ আর ধানের শীষ ৫৯৬ ভোট। ৯নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীকের আলম কোম্পানি পেয়েছেন ৫০৮ ভোট আর ধানের শীষের মনু পেয়েছেন ২৭৫ ভোট। এদিকে দৌছড়ি ইউনিয়নে ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি কেন্দ্রের মোট হলো ৪১৩০ ভোট। এখানে নৌকা প্রতীকের আলহাজ হাবিবুল্লাহ পেয়েছেন ১৭৬৩ ভোট ধানের শীষের রশিদ আহমদ পেয়েছেন ১৩৩২ ভোট। আর ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট চলাকালে বিশৃংখলা সৃষ্টি হওয়ায় এ কেন্দ্রে ভোট স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে এ ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের সমন্বয়কারী তসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, অভিযুক্ত ভোটের চাইতে প্রাপ্ত ভোট বেশি। সুতারাং আলহাজ হাবিবুল্লাহই চেয়ারম্যান নির্বাচিত। এ ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার আবু আহমদ জানান যদি এ ধরনের ব্যবধান হয় তবে নৌকা প্রতীকের আলহাজ হাবিবুল্লাহকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

লালমনিরহাট : কালীগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬টিতে আওয়ামী লীগ, ১টিতে বিএনপি এবং অপর ১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে। এদের মধ্যে জয় লাভ করা আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা হলেন কাকিনা ইউনিয়নে শহিদুল ইসলাম, চলবলা ইউনিয়নে মিজানুর রহমান মিজু, দলগ্রাম ইউনিয়নে শফিকুল ইসলাম, তুষভাণ্ডার ইউনিয়নে নুর ইসলাম, গোড়ল ইউনিয়নে মাইদুল ইসলাম ও ভোটমারী ইউনিয়নে আহাদুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়াও চন্দ্রপুর ইউনিয়নে বিএনপির জাহাঙ্গীর আলম এবং মদাতি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কাদের চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়।

খোকসা (কুষ্টিয়া) : দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কুষ্টিয়ার খোকসার ৯টি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। ৪টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী। খোকসার ৯টি ইউনিয়নের ৪টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়। এর আগে ৫টি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছিল। এ নিয়ে ৯টি ইউনিয়নের সব ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী এককভাবে জয়ী হয়েছে। উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নৌকা প্রতীকে ৪২৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী নুরজাহান বেগম মশাল প্রতীকে পেয়েছেন ২২৬৪ জন। গোগ্রাম ইউনিয়নে আলমগীর হোসেন নৌকা প্রতীকে ৭৪৩২ পেয়ে বিজয়ী হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী মাসুদ আহসান শিবলী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১০০৫। শোমসপুর ইউনিয়নে বদর উদ্দিন খান নৌকা প্রতীকে ৭৮৫৪ পেয়ে বিজয়ী হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী শামীমা সুলতানা আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৯৯। ওসমানপুর ইউনিয়নে আনিচুর রহমান নৌকা প্রতীকে ৫৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ওহিদুল ইসলাম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯৬৮। এর আগে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে একটানা ৪টা পর্যন্ত বিরতীহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলে। সকালে আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের গোসাইডাঙ্গী কেন্দ্রে নৌকা এবং মশাল প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি এবং র‌্যাবের টহল জোরদার করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্র থেকে শামিম এবং ইদবার নামে দুজনকে আটক করে বিজিবি। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একঘণ্টা পরে ছেড়ে দেয়া হয়। দুপুরে শোমসপুর ইউনিয়নের বি-মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাধারণ ২ মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ২ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভোট গ্রহণ শেষে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বেতবাড়ীয়া ইউনিয়নের চাদট গ্রামে ফারুক মেম্বার এবং আব্দুল মান্নানের সমর্থকদের মধ্য ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া ৯টি ইউনিয়নের ৭৮টি ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়।

সিলেট : জেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফলে আওয়ামী লীগ ৬টি ও বিএনপি ৩টিতে জয়ী হয়। দুইটি ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, ১টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়। জৈন্তাপুর উপজেলায় ১নং নিজপাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মঞ্জুর এলাহি স¤্রাট, ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নে এখলাছুর রহমান ও ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নে আমিনুর রশিদ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়। বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন ৪নং দরবস্ত ইউনিয়নে বাহারুল আলম বাহার, ৫নং ফতেহপুর ইউনিয়নে আব্দুর রশিদ এবং ৩নং চারিকাটা ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তোফায়েল আহমদ চৌধুরী বিজয়ী হয়। কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বেসরকারি প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী- ২নং লক্ষীপ্রসাদে (স্কটিশ বংশোদ্ভূত) লিও ফারগুসন নানকা, ৩নং দিঘীরপাড় পূর্ব ইউনিয়নে আলী হোসেন কাজল, ৪নং সাতবাঁকে মস্তাক আহমদ পলাশ, ৭নং দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউপিতে মাসুদ আহমদ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন।

এ উপজেলায় ৬নং সদর ইউপিতে বিএনপি সমর্থিত মামুন রশিদ ও ৮নং ঝিঙ্গাবাড়ী ইউপিতে বিএনপির বিদ্রোহী আব্বাস উদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে ফখরুল ইসলাম, ১নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নে ডাক্তার ফয়াজ উদ্দিন, ৫নং বড়চতুলে মাওলানা আবুল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়। প্রার্থীদের কন্ট্রোলরুম সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেলেও সোয়া ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের কন্ট্রোলরুম থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

চকরিয়া : কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও সহিংসতা ছাড়াই চকরিয়ার ১২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। নির্বাচনে ১২ ইউনিয়ন পরিষদের মোট ১১১টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলে। এদিকে ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে কৈয়ারবিল ইউপি ছাড়া বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের ৬ জন, বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ ২ জন, জাতীয় পার্টি লাঙ্গল ১ জন, স্বতন্ত্র ২ জন।

তারা হলেন, ফাঁশিয়াখালীতে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী (নৌকা), সুরাজপুর-মানিকপুর আজিমুল হক (নৌকা), সাহারবিল মহসিন বাবুল (নৌকা), কাকারা শওকত ওসমান (নৌকা), চিরিঙ্গা জসিম উদ্দিন (নৌকা), হারবাং মিরানুল ইসলাম (নৌকা), বমুবিলছড়িতে আবদুল মতলব (ধানের শীষ), বরইতলীতে জালাল উদ্দিন সিকদার (ধানের শীষ), ডুলাহাজারায় নুরুল আমিন (লাঙ্গল), খুটাখালীতে মাওলানা আবদুর রহমান (জামায়াত-স্বতন্ত্র), লক্ষ্যারচরে গোলাম মোস্তফা কাইছার (জামায়াত-স্বতন্ত্র)। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কৈয়ারবিল ইউপি নির্বাচনের ফলাফল পাওয়া যায়নি।

এদিকে ভোটের দিন সকাল থেকে চকরিয়ার ১২ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভোটার দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে স্বতস্ফর্‚তভাবে ভোট দিচ্ছেন। সবচাইতে লক্ষনীয় ব্যাপার হলো নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি। বেশকয়েকজন নারী ভোটার জানান, কোনো ধরনের আতঙ্ক ও হুমকি ছাড়াই তারা নির্ভয়ে ভোট দিচ্ছেন। অপরদিকে ভোট গ্রহণ কালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল বেশি। নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের তৎপরতা ছিল প্রশংসনীয়। তারা প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সার্বক্ষণিক নজরদারীতে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন। চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান চকরিয়ার ১২ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয় কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই।

ডিমলা (নীলফামারী) : ডিমলায় ৩য় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭টি ইউনিয়নের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬টিতে নৌকা ও ১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়। ডিমলা সদর ইউনিয়নে আবুল কাশেম সরকার (আ.লীগ), পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক সরকার (আ.লীগ), বালাপাড়া ইউনিয়নে জহুরুল হক ভূইয়া (আ.লীগ), নাউতরা ইউনিয়নে সাইফুল ইসলাম লেলিন (আ.লীগ), খালিশা চাপানি ইউনিয়নে আতাউর রহমান সরকার (আ.লীগ), ঝুনাগাছ চাপানীতে মোজাম্মেল হক (আ.লীগ) এবং পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান (আনারস) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়।

হবিগঞ্জ : জেলার বানিয়াচং উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১০ এবং বিএনপি ৩ বিজয়ী হয়। বিজয়ীরা হচ্ছেন ১নং বানিয়াচং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়ন, গিয়াস উদ্দিন (বিএনপি), ২নং বানিয়াচং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়ন, ওয়ারিশ উদ্দিন খান (বিএনপি), ৩নং বানিয়াচং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়ন, আরফান উদ্দিন (আওয়ামী লীগ), ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়ন, মো. লুৎফুর রহমান (আওয়ামী লীগ), ৬নং কাগাপাশা ইউনিয়ন, মো. এরশাদ মিয়া (আওয়ামী লীগ), ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন, হাবিবুর রহমান (আওয়ামী লীগ), ৮নং খাগাউড়া ইউনিয়ন, শওকত আরেফীন সেলিম (আওয়ামী লীগ), ৯নং পুকড়া ইউনিয়ন, আনোয়ার হোসেন (আওয়ামী লীগ, বিদ্রোহী), ১০নং সুবিদপুর ইউনিয়ন, আবুল কাশেম চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), ১১নং মক্রমপুর ইউনিয়ন, আব্দুল আহাদ (আওয়ামী লীগ), ১৩নং মন্দরী ইউনিয়ন, শেখ শামছুল হক (আওয়ামী লীগ), ১৪নং মুরাদপুর ইউনিয়ন, মো. মধু মিয়া (বিএনপি), ১৫নং পৈলারকান্দি ইউনিয়ন, মো. ফজলুর রহমান (আওয়ামী লীগ)।

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) : নাগেশ্বরীর ১৪ ইউনিয়নে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ ৪, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ২, বিএনপি ১, বিএনপির বিদ্রোহী ১, জাতীয় পার্টি ৫ ও জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী ১ ইউনিয়নে জয়লাভ করে।

বেসরকারিভাবে নির্বাচিত চেয়ারম্যানারা হলেন রামখানা ইউনিয়নে আব্দুল আলীম সরকার (নৌকা), সন্তোষপুরে লিয়াকত আলী লাকু (নৌকা), রায়গঞ্জে আ স ম আব্দুল্লাহ আল ওয়ালিদ মাসুম (নৌকা), বামনডাঙ্গায় আমজাদ হোসেন (লাঙ্গল), বেরুবাড়ীতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মোত্তালেব (মোটরসাইকেল), ভিতরবন্দে আমিনুল হক খন্দকার (লাঙ্গল), হাসনাবাদে গোলাম মাওলা আজাদ (ধানের শীষ), নেওয়াশীতে আমজাদ হোসেন সরকার (লাঙ্গল), কালিগঞ্জে মতিয়ার রহমান ব্যাপারী (লাঙ্গল), কেদারে মাহবুবুর রহমান (নৌকা), কচাকাটায় আব্দুল আউয়াল (লাঙ্গল), বল্লভেরখাসে জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আকমল হোসেন (চশমা), নুনখাওয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবুল হোসেন (চশমা) ও নারায়নপুর ইউনিয়নে বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবর রহমান (আনারস)। সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাচন অফিসার মশিউর রহমান এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

নেত্রকোনা : মোহনগঞ্জ ও কেন্দুয়ায় ২০ ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০টিতে আওয়ামী লীগ, তিনটিতে বিএনপি ও ৭টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার মোহনগঞ্জের ৭টি ইউনিয়নের ৭ জনই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়। বড়খাশিয়া বিরামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. মোতাহার হোসেন চৌধুরী, বড়তলী বানিহারী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত হাজি মুখলেছুর রহমান, তেতুলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রফিকুল ইসলাম মুরাদ, মাঘান সিয়াধার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত আবু বক্কর সিদ্দিক, সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত আমিনুল ইসলাম খান সোহেল, সুয়াইর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত কামরুল হাসান সেলিম ও গাগলাজোর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত হাবিবুর রহমান হাবিব। অন্যদিকে জেলার কেন্দুয়ার ১০টি ইউনিয়নে ৩টিতে আওয়ামী লীগ, ৩টিতে বিএনপি ও ৭টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়।

তারা হলেন- গনডা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত সাজেদুল ইসলাম সনজু, সান্দিকোনায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. আজিজুল ইসলাম, মোজাফরপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত নূরুল আলম মো. জাহাঙ্গীর চৌধুরী, কান্দিউড়া ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত মো. শহীদুল্লাহ কায়সার, চিরাং ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত মাহবুব আলম খান জরিপ, বলাইশিমুলে বিএনপি মনোনীত আলী আকবর মল্লিক, নওয়াপাড়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শফিকুল ইসলাম শফিক, আশুজিয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী রফিকুল ইসলাম, দলপা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আমিনুর রহমান অলি, মাসকায় বিএনপির বিদ্রোহী মোস্তাফিজুর রহমান খুকুমণি, পাইকুড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হুমায়ুন কবীর চৌধুরী, গড়াডোবায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মজিবুর রহমান ওরফে বাবলু, রোয়ইলবাড়ি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এস এম ইকবাল রুমী।

শ্রীপুর (মাগুরা) : শ্রীপুর উপজেলার ৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয় লাভ করে এবং ১টিতে ফলাফল স্থগিত রয়েছে। শ্রীকোল ইউনিয়নে বারইপাড়া কেন্দ্রে ভোট কারচুপির অভিযোগে ভোট গ্রহণ স্থগিত হওয়ায় এই ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এগিয়ে রয়েছে। বিজয়ী চেয়ারম্যানরা হচ্ছেন গয়েশপুর ইউনিয়নে আব্দুল হালিম, আমলসারে সেবানন্দ বিশ্বাস, শ্রীপুর সদরে মশিয়ার রহমান, দ্বারিয়াপুরে জাকির হোসেন কানান, কাদিরপাড়ায় লিয়াকত হোসেন, সব্দালপুরে নূরল হোসেন মোল্লা, নাকোলে হুমাউনুর রশিদ মুহিত বিজয়ী হয়েছেন।

তানোর (রাজশাহী) : তানোর উপজেলার ৭ ইউপিতে আ.লীগ নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয় অর্জন করে। তবে, জামায়াত ও বিএনপি পৃথক প্রার্থী দেয়ায় তাদের ভরাডুবি হয়। বেসরকারিভাবে এ ফলাফল নিশ্চিত করে রিটার্নিং অফিসার রবিউল আলম, আমিরুল ইসলাম ও সাদিকুজ্জামান। আ.লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিতরা হলেন- উপজেলার কলমা ইউনিয়নে লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না তার নিকটমত বিএনপির প্রার্থী হযরত আলীর চেয়ে ৩৫৬৬ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়, বাঁধাইড় ইউনিয়নে আতাউর রহমান তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান হেনার চেয়ে ১৯১৬ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়, পাঁচন্দর ইউনিয়নে আবদুল মতিন তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী মোমিনুল হক মমিনের চেয়ে ৩৫৬৫ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়, সরণজাই ইউনিয়নে আবদুল মালেক তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী মোজাম্মেল হকের চেয়ে ১৫৯৬ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়, তালন্দ ইউনিয়নে আবুল কাশেম, তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী আখেরুজ্জামান হান্নানের চেয়ে ১২০৫ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়, কামারগাঁ ইউনিয়নে মোসলেম উদ্দিন তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন জুয়েলের চেয়ে ৪৫০ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয় ও চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নে মজিবুর রহমান তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী মফিজ উদ্দিনের চেয়ে ২২৪ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : জেলার ফরিদগঞ্জে ১নং বালুথুবা (পশ্চিম) সফিকুর রহমান নৌকা, ২নং বালুথুবা (পূর্ব) হারুন অর রশিদ স্বতন্ত্র, ৩নং সুবিদপুর (পূর্ব) মাও. সারাফত উল্লাহ নৌকা, ৪নং সুবিদপুর (পশ্চিম) মহসিন হোসেন ধানের শীষ, ৫নং গুপ্টি (পূর্ব) আবদুল গনি বাবুল পাটওয়ারী নৌকা, ৬নং গুপ্টি (পশ্চিম), আবুল কালাম ভূইয়া, ৭নং পাইকপাড়া (উত্তর) আলী আক্কাছ ভূইয়া নৌকা, ৮নং পাইকপাড়া (দক্ষিণ) শওকত বিএসসি নৌকা, গোবিন্দপুর (উত্তর) সোহেল চৌধুরী নৌকা, ১০নং গোবিন্দপুর (দক্ষিণ) আবদুল হান্নান ধানের শীষ, ১১নং চর দুখিয়া (পূর্ব) স্থগিত, ১২নং চরদুখিয়া (পশ্চিম) হাসান আ. হাই নৌকা, ১৫নং রূপসা (উত্তর) ওমর ফারুক ফারুকী নৌকা, ১৬নং রূপসা (দক্ষিণ) ইসকান্দার আলী নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়।

লামা (বান্দরবান) : লামা উপজেলায় অনুষ্ঠিত ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫টিতে আওয়ামী লীগ ও ২টিতে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই লামা সদর, গজালিয়া, আজিজ নগর, ফাইতং, ফাঁসিয়াখালী, রূপসীপাড়া ও সরই ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হয়। লামা ইউনিয়নের মেরাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে পুলিশ এক রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে। এতে ১ জন আহত হয়। আজিজ নগর ইউনিয়নের চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুচ্ছফাসহ তিন জন আহত হয়। তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নং রিপুজি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও সাপের গারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। বৈল্যার চর কেন্দ্রে ধানের শীষ সমর্থিত এক মহিলাকর্মী আহত হলে তাকে লামা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেন্দ্র ভিত্তিক প্রাপ্ত ফলাফলে নৌকা প্রতীকের গজালিয়া ইউনিয়নে বাথোয়ই চিং মার্মা, লামা সদর ইউনিয়নে মিন্টু কুমার সেন, ফাইতং ইউনিয়নে জালাল আহমদ, আজিজ নগর ইউনিয়নে জসিম উদ্দিন, রূপসী পাড়া ইউনিয়নে ছাচিং প্রæ মার্মা, ধানের শীষ প্রতীকে সরই ইউনিয়নে ফরিদ আহমদ ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে জাকের হোসেন মজুমদার প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj