আলম তালুকদার’র গুচ্ছছড়া

সোমবার, ৪ জুলাই ২০১৬

হারিয়ে গেলে পাখনা মেলে

ভাবনা গুলু গুলু

হঠাৎ আবার হারিয়ে গেল

আমার পোষা ভুলু।

ভুলুর সাথে আমিও হারাই

খুঁজতে থাকি সাতটা পাড়াই।

ভুলু কোথায়? আমি কোথায়?

ভুলুর সাথে নিজেও হারাই

নদীর পাশে নৌকা সারাই

করছে দেখি দীনু কাড়াই

ভুলুর খোঁজে একটু দাঁড়াই।

তাকে আমি কষ্ট বলি

শুনে বলে বোকাই রলি

ঐ দেখা যায় ভুলুর ছায়া

ভুলু তোমার বাড়তি মায়া

ভুলু আছে ভুলুর স্থানে

সোজা কথার বুঝবে মানে।

নিজকে খোঁজো হারিয়ে থেকে

রোদটা দেখো যাচ্ছে বেঁকে

সূর্য গেল কোথায় ঠেকে

দিনের আলো যাচ্ছে ঢেকে।

জানতে হবে হারিয়ে গেলে

সকল কিছু পাখনা মেলে।

বঙ্গবন্ধুর নামে

একটি ছড়া লিখেছিলাম

বঙ্গবন্ধুর নামে

সেই ছড়াটা হচ্ছে বিক্রি

অনেক চড়া দামে।

ছড়ার একটা লাইন হঠাৎ

আকাশ হতে নামে

নামতে নামতে বুঝতে পারি

আমার বুকে থামে।

থামার পরে কি যে হলো

দারুণ অনুভবে

আশপাশের সবাই মুখর

‘বঙ্গবন্ধু’ রবে।

বঙ্গবন্ধুর নামটি এখন

সব শিশুদের মনে

বড় হবার স্বপ্ন দেখায়

আলো প্রতিক্ষণে।

পরি যখন পরী হলো

পরি নামের একটি মেয়ে

হঠাৎ হলো পরী

ঘটলোটা কী? আসো আমরা

সেই ঘটনা পড়ি।

ফুল বাগানে পরী গেল

তাকে হঠাৎ পরী পেল

পরীর হাতে দেখছি গজায় ডানা

কথা বলতে করল পরী মানা।

ডানা হাতে উড়তে থাকে পরী

ইচ্ছা হলো পরীর পায়ে ধরি।

ধরার আগেই পরী গেল উড়ে

কাছে কিংবা দূরে।

ডালিম গাছে বসলো পরী

পাকা ডালিম খাচ্ছে পরী

শীতের সকাল ঘটছে কি সব

মাথার ভিতর কী কলরব।

শিউলি ঝরা ফুলের কাছে

গ্রামের যত শিশির আছে

সেই শিশিরের মালা হাতে

মিলিয়ে দিচ্ছে তারার সাথে

পরি আবার গানের সুরে

গানের কলি পাঠায় দূরে

এসব দেখে বিভোর আমি

আকাশ দেখি দিচ্ছে হামি।

পরীর পায়ে আলতা দেখি

আলতা পায়ে ফুটছে দেখি

নানান রকম ফুল

সত্যি বলি। নেই দেখাতে ভুল।

আকাশের তারা সংবাদ

আচ্ছা। আকাশের তারারা

কাঁদে না হাসে?

তাতে কার কী যায় আর আসে

তারপর ধরো এই পৌষ মাসে

শীতের রাতে তাকায় কে আকাশে?

ধরো যদি কাঁদে

তাহলে কী হতে পারে?

কান্নার শব্দ কী পাবে

তুমি কী আকাশে যাবে

নাকি আকাশ তোমার কাছে ‘আবে’?

অথবা কান্না কী শিশির হয়ে ঝড়ে

নাকি বৃষ্টি। টাপুর টাপুর পড়ে?

হয়তো বা তাই

হলে হবে না হলে নাই।

আবার মনে করি হাসে

আর মনের সুখে হাডুডু খেলে

অথবা ঘোরে মোটর কিংবা রেলে

তারা থাকে আমাদের ফেলে

আমরা দেখি দুচোখ মেলে

অনুমান করি তারা হাসে

প্রতিক্ষণ প্রতি মাসে

আমাদের ভালোবাসে।

হাসির টুকরা যায় খসে

আমরা দেখি মাঠে বসে

অথবা হাসির ছটায় বিদ্যুৎ চমকায়

দুষ্টদের তারা ধমকায়।

হতে পারে। এগুলো সব কল্পনা

কোনো দাম নেই তা আমি বলব না

তবে আকাশের তারা হাসুক কিংবা কাঁদুক

করুক যা ইচ্ছা তাই

আমার কিন্তু চিন্তা করার

কোনো বাধা নাই।

ঈদ সাময়িকী ২০১৬'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj