শেখ ফরিদের চশমা : এজাজ ইউসুফী

সোমবার, ৪ জুলাই ২০১৬

মাগো কী যে পাপে দ্বাদশ বছর ঝুলে আছি

ক্রন্দসী বৃক্ষের ডগায় বাদুড় ঝোলা হয়ে।

তোমার জন্মের প্রপঞ্চের প্রতিদান দিতে

হায়! নশ্বর শরীর প্রণিহিত আদি-বৃক্ষে।

শাশ্বত শরীর ঠুকরে খাচ্ছে নিরুদ্দেশ

কাকের অনন্ত স্ফ‚র্তি।

জননী গো, হাড় থেকে খুলে যাচ্ছে

দিন-যাপনের স্মৃতি; অথচ জন্মান্ধ

তপস্যার প্রতিচক্ষু থেকে ঝরছে অশ্রæ অবিরল।

তাপিনী বৃদ্ধার মতো তুমি দু’পা আমার শৃঙ্খলে

বাঁধলে ষষ্ঠীর ষড়ৈশ্বর্যে, শুনিয়েছো

দৈববাণী সত্যবাদীর বয়ানে।

তুমি তবু ধর্মাচারে মগ্ন থেকে পাঠিয়েছো

তামাদি শকুন, ঠুকরে খাচ্ছে কলজে-ঘিলু-চক্ষু।

আর পা উল্টো করে ঝুলিয়ে মাথাটি পাহাড়ের

শীর্ষদেশে; বানিয়েছো চশমা শেখ ফরিদের।

তোমার তো তিনশ বছরের আয়ু-

কবে ফুরোবে মা?

মন্বন্তরে মরছে মানুষ, ধেনোমদে

ভেসে যাচ্ছে নির্বল ধর্মোপাসনা,

লেলাক্ষ্যাপা কাঠ-ঠোকরা জিনের আসর হয়ে

ক্লিন্ন-দংশনে লোপাট করেছে লোকাতীত কুমারিত্ব।

লৈঙ্গিক লেহনে সঙ্ঘারামে

সজল সজারু খুঁড়েছে সঘন গোর।

তবুও কী মাগো তোমার ক্ষমার

অক্ষম পুরুষ আমি কাতরাতে থাকবো-

আপসকামী ব্যভিচারে?

মাগো, কৃপা করো হীনজনে,

দয়া করো দীন-বৈষ্ণবেরে।

না হয় অশ্রæর অভিশাপে-

বার আউলিয়ার পাহাড়ে আরো এক জোড়া

চশমা বানাবো জননী- শেখ ফরিদের।

ঈদ সাময়িকী ২০১৬'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj