বৈয়ক্তিক বৈগুণ্যতায় : রবিউল হুসাইন

সোমবার, ৪ জুলাই ২০১৬

আজকের দিনে জম্নগ্রহণকারী সব নিঃশ্বাসজীবী প্রাণিকুল মারা যাবে। নৈসর্গিক রাশিচক্রে সব গ্রহ নিজ নিজ কক্ষপথে ঘূর্ণীয়মান সবার ওপর সব গ্রহ প্রভাবান্বিত। আজ শূন্যবার, শূন্য মাসের শূন্য তারিখ, শূন্য বছর। এরকম হয়ে চলেছে সহস্র সহস্র বছর ধরে। এভাবেই চলবে আগামী সময় চিরটাকাল। আদিবাসী পরিবারের শিশুসহ চার সদস্য খুন।

খবর আকর্ষণীয় হয়ে থাকে ধর্ষণ, হত্যা ও খুন-জখমে। তাই ও প্রথমেই খবরের কাগজটির পাতায় হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, গুম, হওয়া এইসব খবর খোঁজে। সঙ্গে দুর্ঘটনারও। খুটিয়ে খুটিয়ে বেশ কয়েকটি এই ধরনের খোঁজ পায়।

মিরপুরে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ, আটক তিনজন।

প্রথম পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা এগারো কলাম চারে, পাতা উল্টায়।

ছাত্রীটি বাড্ডায় পরিবারের সঙ্গে থাকে। সকালে প্রাইভেট পড়তে যায় এবং শেষে এক বন্ধু তাকে শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় নেয় শুধু বেড়াতে। সে সরল বিশ্বাসে তার বন্ধুর সঙ্গে যায়। সেখানে তাকে কোমল পানীয় খেতে দেয়া হয়। খাওয়ার পর মেয়েটির মাথা ঝিম ঝিম করে এবং সে জ্ঞান হারায়। এই সুযোগে তার বন্ধুসহ অন্যরা তাকে ধর্ষণ এবং ওই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে। জ্ঞান ফিরলে সেখান থেকে বিধ্বস্ত শরীরে বেরিয়ে সে আত্মীয়স্বজনদের খবর দেয়। তারা তখন থানায় যায় অভিযোগ করতে এবং সেই ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদিবাসী পরিবারের ঘটনাটি আরো ভয়াবহ রকমের নৃশংস!

সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে আর সে। ভালোই চলছিল। এক ছেলের বয়স ছয়, আরেক ছেলের তিন ও মেয়েটি চার মাসের সবাইকে নিয়ে মা রাতে ঘুমিয়ে ছিল। এই সময়ে স্বামী চুপি চুপি ঘরে ঢুকে একে একে সবাইকে চাপাতি দিয়ে খুন করে এবং হৈচৈ কান্নাকাটিতে প্রতিবেশীরা জেগে ওঠে। পরে তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের সন্দেহে স্বামীটি এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটায় যার কোনো প্রমাণ নেই। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিতে কোনো শত্রুতা কাজ করেছে বলে পুলিশের সন্দেহ। সাংসদপুত্র এক, তার লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে মাতাল অবস্থায় গভীর রাতে ইচ্ছাকৃতভাবে দুই পথচারীর দিকে গুলি ছুড়ে হত্যা করে। ক্ষমতা আর অর্থ তাকে অস্বাভাবিক যথেচ্ছাচার আচরণে উব্দুদ্ধ এবং এই অমানবিক সমাজচ্যুত চরিত্রে পর্যবসিত করেছে। পুলিশ তাকে ধরেছে এবং তার বিচার চলছে।

আর একটা খবর আরো মারাত্মক।

এক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, যে মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যার হোতা ছিল, সে বলেছে কাকে হত্যা করার জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো, সেটি তার বোধগম্য হচ্ছে না। এখনই সময় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা তাহলে সে বুঝতে পারবে কেন তাকে এই দণ্ড দেয় হয়েছে, মানুষজন তেমনটিই মন্তব্য করে চলেছে।

তবে প্রতিবেশী দেশের আচরণ, চালচলন খুবই ভয়ানক ও অবিবেচণাপ্রসূত, অথচ এরাই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় কী আন্তরিকতায় সহযোগিতা সমর্থন করেছিল। বাংলাদেশের বর্ডার গার্ডের এক সদস্যকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী পুলিশ এতদিনেও তাকে মুক্ত করেনি হাতে হ্যান্ডকাপ দিয়ে কোমরে শিকল বেঁধে বন্দি করে রেখেছে। বার বার আশ্বাস দিয়েও ছাড়ছে না। সবাই মনে করছে রোহিঙ্গা মুসলিমদের মিয়ানমারে ঢুকতে দিয়ে তাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়া না দেয়ার বিষয়টি নিয়ে দর কষাকষি করতে এই ক‚টকৌশল নেয়া হয়েছে। সবচেয়ে নিদারুণ সংবাদ ওই বিজিবি সদস্যকে রাতের অন্ধকারে অপহরণ করা হয়েছে প্রাগুক্ত হীন লক্ষ্য সামনে রেখে। বাংলাদেশ অবশ্য ইতোমধ্যে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে সেই বন্দিকে মুক্ত করে এনেছে। বোয়ালখালীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রায় সত্তর হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল কর্ণফুলী নদীতে পড়ে অন্তত বিশ কিলোমিটার এলাকার খাস-বিল ও পরিবেশ দূষিত করে ফেলেছে। এতে নদীর পানিসহ মাছ ও জলজ প্রাণী, পাড়ের গাছপালা, উদ্ভিদ, পক্ষীকুল ধ্বংসের সম্মুখীন। এই প্রাকৃতিক দৈবতা ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসা দরকার। তা না হলে খুব ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। আশার কথা সরকার জনগণের সহযোগিতায় এই সমস্যার সমাধান এগিয়ে এসেছে।

ব্রাজিল থেকে আমদানি করা নিম্নমানের গম নিয়ে দেশ বিপাকে।

আগে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য থেকে গম নেয়া হয়েছে, এরকম কোনো অঘটন ঘটেনি। ব্রাজিল যে এরকম বাটপারী করবে সেই অভিজ্ঞতা ছিল না বলে তাই বুঝা যায়নি স্বয়ং খদ্যমন্ত্রীর এরকম বয়ান। তবে আগের এক চিনি কেলেঙ্কারির চিনি-মন্ত্রীর মতো এই খাদ্যমন্ত্রী পচা গম মন্ত্রী হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

আঠারো কোটি টাকার জাল স্ট্যাম্পসহ একজন আটক।

নোয়াখালীতে বিকাশ এজেন্টের আঠোরো লাখ টাকা ছিনতাই। ব্যাগ ভর্তি টাকা মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন গাছের সঙ্গে দুই দিকের রশি বাঁধার সঙ্গে সাইকেল পড়ে গেলে তাদের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ নিয়ে তিনজন তাদের মোটরসাইকেলে করে উধাও। পুলিশ বলেছে এতগুলো টাকা নিয়ে কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছাড়া চলা উচিত হয়নি। তারা এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীদের ধরার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রভাবশালীদের দখলে দুই হাজার একর জমি, সংসদে ভূমিমন্ত্রী বলেছেন এবং জমিগুলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের।

সঞ্চয়পত্রের ওপর সুদের হার কমানোর বাজেটের আলোচনায় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

সপ্তম পাঁচসালা পরিকল্পনায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক জরুরি।

২০৪০ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে আবির্ভূত হবে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলে বাংলাদেশে সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব ছিল।

এ বছর শেষে বাংলাদেশের রিজার্ভ বেড়ে পঁচিশ বিলিয়ন ডলার হবে।

পদ্মাসেতু চালু হলে মুন্সীগঞ্জ হবে সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল। অর্থনীতিবিদরা ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি দিয়ে এমনই মন্তব্য করেছেন ও কায়মনোবাক্যে এই ফলাফলের পূর্ণ সফলতা কামনা করে।

বর্ণবাদকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ক্ষয়রোগ হিসেবে ইয়েমেন সংকটে অস্ত্রবিরতি ছাড়াই আলোচনা শেষ। ইরাক ও সিরিয়ার স্বঘোষিত খেলাফত প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারকারী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের আত্মপ্রকাশের এক বছর পার হতে চললো কিন্তু তাদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি নেই। অস্ত্রে সজ্জিত আইএস এখনো অত্যন্ত অর্থপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন। বিশ্লেষকদের অভিমত আগামীতে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের রাজত্ব চলবে।

জানা গেছে, আগের বছরের তুলনায় এ বছর সন্ত্রাসের জেরে মৃত্যু আশি শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গেল বছরে বিশ্বব্যাপী প্রায় তেত্রিশ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে যার আশি শতাংশ কারণ হিসেবে মূলত ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও নাইজেরিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের তৎপরতা দায়ী।

ওভাবে, আমেরিকাও এর জন্য দায়ী এবং সেই মতো কাজ করছে। তা না হলে তারা এতকিছু পারে তো এটা ঠেকাতে পারছে না কেন। এটা ঠেকালে তাদের যুদ্ধাস্ত্রের লাভজনক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে তাই!

এসব বুঝতে পেরে এবং জেনেও মনে মনে খুব আশান্বিত আবার বেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আরও জেনেছে এই সঙ্গে বসে বসে কাজ করলে, টিভি দেখলে, কম্পিউটার চালালে, শুয়ে শুয়ে বিশ্রাম করলে অন্যদের তুলনায় বেশি বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতে হয়। এরপর মোটা হয়ে গিয়ে ওজন বাড়া, হৃদরোগ, রক্তচাপ বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটবে। ওর মনে হয় এইসব তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।

দুই.

এতক্ষণ ধরে কাগজ পড়তে পড়তে একটা জিনিস সে লক্ষ্য করে যে, দেশে-বিদেশে আন্তর্জাতিক বা ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে কোথাও শান্তি বা একটা ভালো খবর নেই। সবকিছু প্রায় নেতিবাচক, ক্ষতিকর এবং খারাপ ধরনের সংবাদ। খবরের কাগজ কি শুধু খারাপ খবরই পরিবেশন করে। আশা, সুসংবাদ, স্বপ্ন, আনন্দ, প্রাণময়তা, শান্তি ও কল্যাণকর খবরাদি কি কোনো সংবাদের পর্যায়ে পড়ে না। খবরের কাগজ কী যুগে যুগে শুধু খারাপ সংবাদই ছেপে যাবে। ওর মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। ও খুব ভেঙে পড়ে। নিরাশ আঁধারে কোনো আশার আলোর খোঁজ পায় না দৈনিক খারাপ খবরে।

শেষ পর্যন্ত আজকের রাশিচক্র পড়া শুরু করে এবং নিজের মতো করে সাজিয়ে-গুছিয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। কারণ ও লক্ষ্য করেছে যে জেগে থাকার চেয়ে ঘুমিয়ে থাকা খুব শান্তি আর নিরাপদের। ঘুম হলো স্বর্গ থেকে প্রবাহিত হয়ে আসা এক বায়ু প্রবাহ। আজকের সময়হীন, বারহীন, দিনহীন, সপ্তাহহীন, মাসহীন ও বছরহীন কালে যার জন্ম তিনি জীবনে কিছুই হতে চান না। কারণ তার এই জন্মের ইচ্ছাটা তার নিজের ইচ্ছায় হয়নি। যে জন্য যার দ্বারা এই জন্ম লাভ, তিনিই সব জানেন, তার কিছুই করার নেই, আশা নেই, স্বপ্ন নেই, কোনোকিছু হওয়া বা না হওয়ারও ইচ্ছে নেই। তবে আজকে যে জন্মগ্রহণ করবে, সে সবার মতো একদিন মরে যাবে আর কখনো আবার জন্মলাভ করবে না।

মেষ : ৭ চৈত্র-৭ বৈশাখ।

আপনি অপমানিত ও নিন্দিত হবেন। বিদেশ যাওয়া হবে না এবং ফিরে আসাও হবে না। সিঁড়িতে উঠতে গিয়ে হোঁচট খাবেন, তবুও উঠে যাবেন উপরে। তবে আপনার আর নিচে নামা হবে না, শুধু শূন্যে ঝুলে থাকবেন মাথা নিচু করে হাত নিচে ঝুলিয়ে, পা দুটো উপরে উঠিয়ে, তবুও আপনার বোধে কিছু জেগে উঠবে না।

বৃষ : ৮ বৈশাখ-৭ জ্যৈষ্ঠ।

ষাঁড় হওয়া সহজ তবে শিং গজাবে না, যেহেতু আপনি একজন মানুষ। চুক্তি হবে দুর্ভাগ্যের সঙ্গে। মাথা বাঁচিয়ে চলবেন, এই জন্য হেলমেট পরবেন মাথায়। দৌড় দিয়ে ফিতে স্পর্শ করতে ছুটবেন কিন্তু সামনে কোনো ফিতে খুঁজে পাবেন না এবং তাই কোনোদিন দৌড় দেয়া শুরু করা আপনার দ্বারা হবে না। যখন হবে তখন মাথাসুদ্ধ হেলমেটটি কোলে নিয়ে কবন্ধ অন্ধকারের দিকে দিকহীন দৌড়ে যাবেন উদ্দেশ্য, উদ্দেশ্য ও দ্রষ্টব্য লক্ষ্য খুঁজে পাবেন।

মিথুন : ৮ জ্যৈষ্ঠ-৭ আষাঢ়।

সঙ্গমে সফল হবেন তবে যাকে চাইবেন তাকে কোনোদিন পাবেন না। পরে এ কারণে খুব ছোট ভাববেন নিজেকে। সম্পর্ক এক গলিত পদার্থ। ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ওই যে পাাহাড় ওটাও একদিন গলে গলে নদীর স্রোতজলে ভেসে যাবে। মানুষরা তার মধ্যে উদোম হয়ে সাঁতার কাটবে এবং বিবর্তনে মৎস্যাকারে পরিণত হয়ে কালযাপনে সক্রিয় হবে। দূরের যাত্রা অতি নিকটে সাধিত হবে।

কর্কট : ৮ আষাঢ়-৭ শ্রাবণ।

আপনার মৃত্যু হবে কর্কট রোগে। হঠাৎ করে নিজেকে নিজের মনের কাছে খুব অপমানিত বোধ হওয়ার বিপরীতে বেশ সম্মানিত বোধ করবেন। হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান জিনিস কখনো খুঁজে পাবেন না। পেলেও কাছে থাকবে না, বুকের মাঝখান থেকে হাওয়া হয়ে যাবে। হৃদয়ের মধ্যে এক পদ্মা-গঙ্গা নদী যার বুকে কংক্রিটের ফারাক্কা আঙ্গিয়া, মা গঙ্গার বিষম অসন্তুষ্টি ও রাগ-জর্জরিত ক্রোধ যেহেতু তিনি সাবলীলভাবে প্রবাহিত হতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন, তাই সেই বাঁধ ভেঙে চৌচির হয়ে প্রবল স্রোতে সবকিছু ভাসিয়ে নিতে শুরু করে এবং আপনি আনন্দচিত্তে সেই দৃশ্য অবলোকন করতে করতে কর্কট রোগের দুঃসহ বেদনা ভুলে যেতে থাকবেন।

সিংহ : ৮ শ্রাবণ-৮ ভাদ্র।

মানুষ কী কখনো সিংহ হতে পারে, হুঙ্কার দিলেও না। নিষ্ফলা রাগ দেখানোকে কোনোদিন ব্যক্তিত্ব প্রকাশ বলে ভাববেন না। বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতি প্রীতির সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বেন কিন্তু কোনোদিন মিলিত হতে পারবেন না, সিংহের মতো গর্জন করলেও না। রাশিতে সিংহ হলেই যে রাগি, অহঙ্কারী আর অকারণে খামাখা বেমানানভাবে আত্মগর্বী ও আত্মম্ভরী হতে হবে এর কোনো যুক্তি নেই। আয়নায় নিজেকে দেখুন এবং ভাবুন বিম্বটি কী আর কে।

কন্যা : ৯ ভাদ্র-৮ আশ্বিন।

আপনি একজন কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা বা মাতা। আপনার কন্যার বিয়েতে কোনো খরচপাতি নেই, যেহেতু সে চুপিসারে সবার অজান্তে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করবে। এ কারণে তাকে আপনি তার বরসহ বাহ্বা দিয়ে গ্রহণ করবেন সর্বান্তকরণে। এই জন্য বিবাহশিল্পে আপনার অবদান স্বীকৃত হবে, যেহেতু আপনি হেসে হেসে সব ঝামেলা সহ্য করে হাস্য-বাণিজ্যের সার্বিক উন্নতিতে এক সহায়ক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়ে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে মনে রাখবেন ঘরের বিশেষ করে যে ঘরে বাসরসজ্জা করা হয়েছে সেটার বৈদ্যুতিক লাইন ঠিকমতো আছে কিনা ভালো করে পরীক্ষা করবেন। কেননা জানা গেছে খবরের কাগজে এই রকম যে, ও রকম এক বাসর ঘরে নতুন বর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেঘোরে ভবলীলা সাঙ্গ করেছেন। অতএব সাবধান!

তুলা : ৯ আশ্বিন-৮ কার্তিক।

তুলা দিয়ে কাপড় বোনা একটি বস্ত্রশিল্পের প্রয়োজনীয় উপকারী মাধ্যম। তুলার বান্ডিল খুলে সব বাতাসে উড়িয়ে দিন। তুলা সব আকাশের উঁচুতে পৌঁছে মেঘ হবে। তারপর জমে জমে ঘন হয়ে বৃষ্টি হবে এবং নিচে ঝরে ঝরে পড়বে। তাতে দেশ ও দশের এবং শস্য ও ফসলের, জল ও মৎস্যের, ফুল ও প্রজাপতি-মৌমাছিদের, ফল ও জীবজন্তু-কীটপতঙ্গের প্রসার ও প্রাণময়তার বিস্তার হবে। আপনি স্নান করার সময় উলঙ্গ হবেন, বস্ত্র গায়ে স্নান পূর্ণতা পায় না এবং প্রকাশ্যে অবশ্যই আপনি তুলার তৈরি জামা পোশাক পরিধান করতে বিরত হবেন না। আপনি অবশ্যই বিশ্বাস করবেন যে, ব্রিটিশরা তাদের হীন চক্রান্তে নিজেদের বস্ত্রশিল্প প্রসার ও প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলার মসলিন শিল্প যা বিশ্বশিল্প ঐতিহ্যের উজ্জ্বল অংশ, সেটিকে চিরকালের জন্য ধ্বংস ও লোপ করার অপরাধে অবশ্যই তাদের বিশ্ব আদালতে বিচার শেষে চরম শাস্তি ভোগ করতে হবে। তুলা রাশির জাতকসহ সবার এই জোর দাবি রইল।

বৃশ্চিক : ৯ কার্তিক-৮ অগ্রহায়ণ।

যখনই বৃশ্চিক দেখবেন, তখনই ওকে হাতে তুলে নিবেন, কখনো মারবেন না। কারণ ওরা আপনার জ্ঞাতি ভাই ও বোন। এদের মারলে এরা শত শত হয়ে জন্মাবে। মাঝে মাঝে এদের উত্তেজিত করে বিষদংশ গ্রহণ করবেন। এতে আপনার মন ও শরীর চাঙ্গা এবং সতেজ হয়ে উঠবে। এরপর কেউ যদি আপনাকে কামড়ায় বা আঘাত করে, তাহলে সে অচিরেই বিষের প্রতিক্রিয়ায় প্রাণপাত করবে। তাই আপনি সর্বদা সংযত ও সংহত আচরণ করবেন। মনে রাখবেন মানুষ আর অমানুষে কোনো পার্থক্য নেই, পার্থক্য শুধু ব্যবহার আর আচরণে। আপনি বৃশ্চিক হয়েও মানুষ হিসেবে সব দিক দিয়ে সফলকাম হতে পারবেন।

ধনু : ৯ অগ্রহায়ণ-৭ পৌষ।

ছিলা টেনে ধনুক ছুড়বেন। সেই তীর গিয়ে জোড়া বকের একটির গায়ে লেগে সে মারা যাবে। তখন জীবিতটি করুণ সুরে তাকে ডেকে ডেকে বিচ্ছেদ-বেদনা নিয়ে চারদিকে উড়বে এবং সেই বকের ক্রন্দনধ্বনি শুনে আপনি কবিতা রচনা করতে উদ্বুদ্ধ হবেন। কিন্তু জেনে রাখবেন এইসব প্রাণঘাতী নিষ্ঠুরতা নিয়ে কোনোদিন কোনো কবিতা হয়ে উঠবে না। কবিতার উৎসমুখ বেদনাদীর্ণ ঠিকই, তবে এত মর্মন্তুদ নয়। হৃদয়মথিত কাল-কথামালা স্বতোৎসারিত হয়ে ধনু জাতকের ধনী উপলব্ধিতে ধ্বনিত হয়ে ওঠে যখন প্রাকৃতিকতার রহস্যময় অব্যাখ্যামূলক কারণ-অকারণে, তখন হয়তো তা কবিতার কথকতা, কে জানে। কেউ জানে না। কেউ না, যারা কবি, তারাও না।

মকর : ৮ পৌঁষ-৭ মাঘ।

বেকারেরা সাকার হলেও হতে পারেন কিন্তু আকার পাবেন না। সাফল্য আপনার পায়ে পায়ে বিড়াল হয়ে ঘুরবে আর আপনি তাকে পায়ে ঠেলে দেবেন তাতে আপনার কিছুই আসে যাবে না। সফলতা আর বিফলতার মাঝে একটি সূ² রেখা বিদ্যমান, আপনার চোখে তা ধরা পড়ে না বা স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয় না। তাই আপনি সব কিছুকেই সফলতা হিসেবে দেখে থাকেন। এই উদারতা অবশ্যই একটি মানবিক গুণ, তবে তা কখনো বাস্তব বিচারে পরিশীলিত নয়। সফলতা আসে সফল হলে আর বিফলতা বিফল হলে। দুটি পৃথক এবং আলাদা। ভাবাবেগে এটাকে এক করে দেখার কোনো কৃতিত্ব নেই, বরং এর ভেতর দিয়ে ব্যক্তিত্বের ভিত্তিকে দুর্বল ও দুই করে তোলে। মকর রাশির জাতকের তাই এত ইতস্তত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ঝরা পাতাকে বাতাসের মধ্যে পড়ন্ত অবস্থায় তাকে ধরে একটু আদর করলেই সেটি পাখি হয়ে শূন্যে উড়ে যায়।

কুম্ভ : ৮ মাঘ-৬ ফাল্গুন।

আপনাদের বেয়াদবি আর নির্লজ্জ ব্যবহারের কোনো তুলনা হয় না। কেউ অপমান করলে আপনারা কিছুতেই অপমানিত বোধ করেন না। অবশ্য এতে অপমানকারীদের ব্যক্তিত্ব, যদিও তা ঠুনকো ও হাস্যকর, সে সব বহুগুণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। প্রিয়জনের সঙ্গে বুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই। কারণ আপনি যেভাবে অভদ্রের মতো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ভদ্রতা বা ভব্যতার জলাঞ্জলি দিয়ে তাতে সম্পর্ক আর জোড়া লাগার নয়। এটা কোনোদিন বিয়োগান্ত রূপে প্রকাশ পাবে না। তাই কালের গর্ভে চিরকালের জন্য হারিয়ে যাবে, কোনো পিছুটান থাকবে না। এভাবে সময়ের জঞ্জাল আর জমবে না। বিদেশ যাত্রার সুযোগ আপনার কোনোদিন হবে না। বড়জোর সিলেটের হাকালুকি বিলে বর্ষাকালে নৌবিহারে যেতে পারেন।

মীন : ৭ ফাল্গুন-৬ চৈত্র।

আপনি খুব প্রেমপিয়াসী, অনেক বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রতি আকর্ষণবোধ করেছেন তারা বিবাহিতই বেশির ভাগ। কিন্তু যেই মাত্র তাদের নিজ নিজ স্বামী বা স্ত্রীকে দেখা পেলেন, অমনি ওদের প্রতি আনপাদের বিবমিষা জেগে ওঠে। আর তাদের দিকে আকর্ষণ বোধ করেন না। খুব ঘেন্না হয়, ওইসব বেঢপ-বিশ্রী মানুষগুলো তাদের শরীর জড়িয়ে কী জঘন্যভাবে যে আদিম খেলা চালিয়ে যাচ্ছে আর আপনি ভালোবেসে সেইসব ব্যবহার্য বস্তু স্পর্শ করে ধন্য হবেন! ছি: গভীরভাবে ভাবলে শরীর মন সব বিপরীত বিক্রিয়ায় রি রি করে ওঠে! এই সবের দ্বারা আপনার বিচক্ষণতার কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হবেন। মাছের রাজ্যে আপনি মৎস্য রাজা বা মৎস্যরানী। আপনাদের মৎস্যপুত্র হবে কিন্তু মৎস্যকন্যা জন্মাবে না। সারাজীবন আপনারা জলের অরণ্যে সাঁতার কেটে যাবেন, মাৎস্যন্যায় ঘটাবেন না। জলের মধ্যে স্বপ্নের বুদবুদি তৈরি করে জলের জয়গান ও জলগান গাইবেন। জলের গ্রামে জলের বাতাস, জলের বৃষ্টি, জলের মধ্যে ঝির ঝির টিপ টিপ। কিছুই ভিজবে না, কিছুই ধুয়ে যাবে না। জলের আর্তিতে প্রতিবিম্বগুলো মৎস্যকুল হয়ে সাঁতার কাটে। আর শৈশবকাল থেকে এখন পর্যন্ত। এই জলপত্র পরিক্রমার জল পথযাত্রা শেষ হবে না।

তিন.

মাঝরাতে ওইসব ভাবতে ভাবতে ও হঠাৎ করে স্বপ্নের হাত ধরে ফেলে জেগে ওঠে। স্বপ্ন খুব বিব্রতবোধ করে কড়া এক ধমক দেয়। বেশি সাহস হয়ে গেছে বুঝি! ঘুম এক নির্দোষ-নিষ্পাপ নিদ্রাযাপন। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্নের মধ্যে রাত্রি ভ্রমণ করতে হয়। স্বপ্ন-নিদ্রায় একবার পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছেছিলাম। তারপর কী মনে করে সেখান থেকে দিলাম এক লাফ। অন্ধকারে ওই পতিত পবনে পড়ছি তো পড়ছি এর কোনো থামাথামি নেই। পড়ছি তো পড়ছিই। আকাশে আকাশ নেই, মাটিতে মাটি নেই, জলে জল নেই। শুধু অসীম, গভীর, নিস্তরঙ্গ সুড়ঙ্গ পথ। কেউ নেই, সেখানে কিছুই নেই, শুধু জ্বলজ্বল করে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে একটি হীরকখণ্ড- অসামান্য একটি স্বপ্নের টুকরো বৈয়ক্তিক বৈগুণ্যতায় বেপথুমান অন্ধকার আকাশের গায়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অগুণন নক্ষত্র, তারা আর গ্রহ হয়ে শূন্য শূন্য অতিথি শূন্যতায় চিরকালের জন্য অথিতু হতে থাকার প্রক্রিয়ায় পর্যবসিত হলো।

ঈদ সাময়িকী ২০১৬'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj