অন্ধকার : অসীম সাহা

সোমবার, ৪ জুলাই ২০১৬

চারিদিক থেকে ধেয়ে আসছে কালো অন্ধকার।

যে-স্বচ্ছ সাদা মেঘ চিত্রল হরিণীর মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিলো

নীলাভ আকাশে- তারা এখন কালাপাহাড়ের ভয়ে

ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলেছে গহন অরণ্যের দিকে।

আর যে-দিগন্তকে মনে হচ্ছিলো বিহঙ্গের ডানার মতো মুক্ত

তাকেই এখন গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে

পাথরের মতো ঘন মেঘ- মনে হচ্ছে বজ্র আর বিদ্যুতের

যৌথ আক্রমণে মাথার উপরে ভেঙে পড়বে আকাশ।

এই পৃথিবী, এই প্রকৃতি, এই লোকালয়

এতো ভয়ংকর আর্তনাদ কখনো শোনেনি।

এই কর্ণকুহর ভেদ করা মানুষের এমন গগনবিদারী চিৎকার

কখনো আছড়ে পড়েনি মৃত্তিকার বুকে!

তবে কি ঘন কালো মেঘের শরীর অতিক্রম করে

আর কখনো বেরিয়ে আসবে না জ্যোৎস্নাভেজা রাত?

রাত্রির অন্ধকার ছিঁড়েখুঁড়ে বেরিয়ে আসবে না

সূর্যোদয়ের ভোর?

এ কেমন মেঘ এসে জমেছে আকাশে?

এ কেমন বজ্রপাত- বিদ্যুতের সর্বগ্রাসী বিষম দংশন?

এ কি তবে প্রকৃতির প্রতিশোধ?

এ কি তবে নেমেসিস- আমাদের নির্মম নিয়তি?

এ আমরা কোথায় এলাম?

কালো রাত্রির সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে

যে-আলোর সন্ধানে আমরা এসেছিলাম-

প্রবল ঘূর্ণিবায়ু আর বানের তোড়ে সেই ভূমিতে

এখন ধস নেমেছে- পর্বতের চূড়া থেকে

গড়িয়ে পড়ছে পাথরের বড়-বড় চাঁই,

আর তারই আঘাতে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে

বহুশ্রমে গড়ে ওঠা আমাদের সাধের বসতি।

পৃথিবীর শান্ত, স্নিগ্ধ প্রকৃতির মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে যে নদী

পর্বতের সানুদেশ বেয়ে নেমে আসছে যে-ঝর্ণাধারা

তার জলে স্নান করে পৃথিবীকে প্রাণভরে দেখবার আশায়

যখনি চোখ মেলে তাকাতে চাইছি আমরা,

তখনই এক প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে পৃথিবী,

দিগন্তের স্তরে-স্তরে নেচে উঠছে মৃত্যুর উৎসব।

এই সর্বগ্রাসী কালো মেঘের বেষ্টনীর ভেতর থেকে

বেরিয়ে আসার কোনো পথ আমাদের জানা নেই।

হে-সময়, হে-কালগ্রন্থি, হে-সূর্যোদয়ের ভোর

তোমরাই বলে দাও- তা হলে এখন আমরা কোথায় যাবো?

চারদিকে থেকে ধেয়ে আসছে প্রবল অন্ধকার

কালাপাহাড়ের মতো ছুটে আসছে ঘন কালো মেঘ

যেন বেজে চলেছে অন্তিমের ঘণ্টাধ্বনি।

এই জীবনবিনাশী মৃত্যুর হাত থেকে যে-বাঁচাতে

পারে আমাদের- বিশল্যকরণীর সন্ধানে

ছুটে যাওয়া সেই অধিদেবতার জন্যে

অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই?

এখন আমাদের চারিদিকে এতো অন্ধকার?

ঈদ সাময়িকী ২০১৬'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj