টাঙ্গাইলের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ‘ডিসি লেক’ উদ্বোধন

শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬

কাগজ প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল : জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত জেলাবাসীর একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ‘ডিসি লেক’ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে এর উদ্বোধন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এ সময় টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাংসদ খন্দকার আবদুল বাতেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ মনোয়ারা বেগম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহমেদ, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন ও পুলিশ সুপার মো. মাহবুব আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন যোগদান করেই বুঝতে পারলেন এখানে সুস্থ চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। সে জন্য ভূমি দস্যুদের হাত থেকে দখলমুক্ত করলেন পরিত্যক্ত বিশাল জলাভূমি। জেলা সদরের সার্কিট হাউজের পাশে প্রায় সাড়ে ৩৩ একর জমিতে অত্যাধুনিক বিনোদন কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিলেন। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু করলেন ‘ডিসি লেক’।

‘ডিসি লেক’ প্রকৃতি আর প্রযুক্তির অপূর্ব সমন্বয়। কি নেই এখানে। জলে যেমন রয়েছে শত প্রজাতির মাছ, তেমনি রয়েছে নানা রঙের পাখ-পাখালি। জলে রয়েছে শালুক, লাল-সাদা শাপলাসহ নানা ধরনের জলজ উদ্ভিদের অপূর্ব সংগ্রহশালা। কোকিলের ডাক শুনেননি অনেকদিন বা যে পানকৌড়ি আজ বিলুপ্তির পথে তার সবকিছুই আছে এ লেকে। রয়েছে লাল-হলুদ রঙের নৌকা। এখানে এলে নৌকায় উঠে লেক ঘুরে দেখতে ইচ্ছে হবে।

লেকের মাঝে লাল ইটের ছাদে বড় গম্বুজাকৃতির দ্বিতল মঞ্চটি সবাইকে মুগ্ধ করবে। গোধূলি লগনে এলে এর লাল-নীল-বেগুনি-হলুদ আলোকসজ্জায় দৃষ্টি সম্মোহিত হতে বাধ্য। এখানে রয়েছে অপরাজিতা, জবা, হাসনাহেনা কিংবা বাগানবিলাস ফুলের সমারোহ। হারিয়ে যাওয়া দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ জারুল, তমাল, রাধাছড়াসহ অনেক বৃক্ষের সমারোহ বৃক্ষপ্রেমীদের মোহিত করবে। কচি কৃষ্ণচূড়ায় কিশলয় কিংবা মেহগিনির ডালে হলুদ রঙের নাম না জানা পাখি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। পাখিদের বসবাসের জন্য এখানে রয়েছে কৃত্রিম বাসস্থান। নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি তাদের খাবারও দেয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তি আর সৌন্দর্য্যরে মিলনের ব্যবস্থা রয়েছে লেকের পানির ওপর নির্মিত ‘লেকার্স ভিউ’। এখানে বসে সবাই ফ্রি ওয়াইফাই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। সম্পূর্ণ ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধার কারণে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হয়ে ঘুরছেন হয়তো আফ্রিকার গহীন জঙ্গলে অথবা নায়াগ্রা জলপ্রপাতে।

শিশুদের চিত্ত বিনোদনের জন্য রয়েছে ‘শিশু পার্ক’। শিশুরা হবে সিন্দাবাদের জাহাজের নাবিক আবার হবে ইঞ্জিন চালিত ট্রেনের চালক। ঘোড়ায় চড়ে পাড়ি দেবে তেপান্তরের মাঠ কিংবা নাগরদোলায় দোল খাবে। হঠাৎ বাঘ মামার দেখা পেয়ে ভয় পাবে না, পিঠে বসে খেলা করবে।

জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন জানান, নির্ধারিত কাজের বাইরে সহকর্মী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে ‘ডিসি লেক’ কে পূর্ণাঙ্গ বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে এখানে ঝুলন্ত ব্রিজ থাকবে। বসার জন্য থাকবে আরো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, শিশুদের সাঁতার শেখার জন্য সুইমিং পুলসহ নতুন নতুন বিষয় যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj