বিনিয়োগের পালে পিপিপির হাওয়া : অর্থমন্ত্রী

শুক্রবার, ৪ নভেম্বর ২০১৬

কাগজ প্রতিবেদক : বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) কর্তৃপক্ষের চুক্তির ফলে দেশের হাওর অঞ্চলে বিনোয়োগের সুবাতাস বইবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, চেষ্টা করেও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো যায়নি। সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়েনি। তবে বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির ফলে বিনিয়োগের পালে হাওড়ের বাতাস লাগবে। বিনিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে চিন্তা ছিল তা দূর হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে পিপিপি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আফসার এইচ উদ্দিন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা নিজ নিজ চুক্তিতে সই করেন।

এ চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে ১৪টি ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকল্পে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করবে। চুক্তি অনুযায়ী, এখন থেকে হাওর এলকার বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করবে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ৭ বছর ধরে আমি পিপিপির (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) কথা বলছি। কিন্তু এর দেখা পাওয়া যায়নি। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আজ থেকে পিপিপির পালে হাওড়ের হাওয়া লাগবে। তিনি বলেন, আমার দুঃখের দিন শেষ হচ্ছে। বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হতে চলছে। ইতোমধ্যেই আমরা বেশ কিছু বিনিয়োগের প্রস্তাব পেতে শুরু করেছি।

তিনি আরো বলেন, এফডিআই (ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট বা সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ) আসছে। ঢাকা থেকে পায়রাবন্দর পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথ হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আমাদের কাছে এমন প্রস্তাবই দিয়েছেন। বাংলাদেশ এখন বেশ আশাব্যাঞ্জক অবস্থানে আছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাজকর্ম মোটামুটি বিশ্বনন্দিত।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা এখন খুব ভালো অবস্থানে আছি। আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখন ৭ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২১ সালের মধ্যেই আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ। অতিদ্রুত আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি হওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এবি ব্যাংক লিমিটেড, বিআইএফএফএল, ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল লিমিটেড, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, গ্রীণ ডেল্টা ক্যাপিটাল লিমিটেড, আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড, আইডিসিওএল, আইআইডিএফসি, মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড, দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড।

ওই অনুষ্ঠানে ব্যাংক এন্ড ফিন্যানশিয়াল ডিভিশনের সেক্রেটারি ইউনুসুর রহমান, ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আনিস এ খানসহ সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ