অহিংসপ্রাণ এক বাউলের মুক্তিযুদ্ধ

শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬

সরকারি অনুদানে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ভুবন মাঝি’। সব কাজ শেষে এখন সেন্সর ছাড়পত্রের অপেক্ষায় চলচ্চিত্রটি। ‘ভুবন মাঝি’র বিভিন্ন দিক নিয়ে নির্মাতা ফখরুল আরেফিন খানের সঙ্গে আলাপকালে প্রথমেই উঠে আসে বাউলদের জীবন প্রসঙ্গ। এর আগে তিনি লালন সাঁইকে নিয়ে নির্মাণ করেছেন প্রামাণ্যচিত্র ‘হকের ঘর’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বর্তমান চলচ্চিত্র ‘ভুবন মাঝি’ও একজন বাউলের জীবনকে কেন্দ্র করে। তার অধিকাংশ কাজেই বাউলদের প্রতি এক ধরনের টান লক্ষ্য করা যায়। বাউলদের প্রতি বিশেষ এই অনুভূতি পেছনের উৎসটা কোথায়? আমার জন্ম কুষ্টিয়ায়। ছোটবেলা থেকেই তাদের সান্নিধ্য পেয়েছি। তখন থেকেই বাউলদের জীবন-যাত্রা, মতাদর্শের সঙ্গে আমি পরিচিত। এসব কারণেই বাউলদের প্রতি আমার এক ধরনের স্পর্শকাতরতা কাজ করে- বলেন ফখরুল আরেফিন খান।

এবার আসা যাক, ভুবন মাঝি’র প্রসঙ্গে। ‘ভুবন মাঝি’র কেন্দ্রীয় চরিত্র নহির বাউল। কে এই নহির বাউল? তিনি জানান, ‘ভুবন মাঝি’ সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র। কুষ্টিয়ার একজন বাউল মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের জীবনকে নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে চলচ্চিত্রটি। সেই বাউল মতিউর রহমানই ‘ভুবন মাঝি’র নহির বাউল। তিনি আরো বলেন, এটি মূলত একজন অহিংসপ্রাণ বাউলের মুক্তিযোদ্ধা হয়ে ওঠার গল্প। মুক্তিযুদ্ধের সময় কুষ্টিয়া থেকে ভারত আবার ভারত থেকে কুষ্টিয়া; এই যে জার্নিটা মতিউর রহমান করেছিলেন সেটিই তুলে ধরা হয়েছে ‘ভুবন মাঝি’তে। এখানে তার বীরত্বের চেয়ে বেঁচে থাকার গল্প, বেঁচে থাকতে ভালোবাসার যে গল্প সেটিই তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমার গল্পটা না হয় জানা গেল, কিন্তু ‘ভুবন মাঝি’ নামের গল্পটা কী?

ফাখরুল আরেফিন ‘ভুবন মাঝি’ নামের রহস্য ভেদ করে বলেন, নামটি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফের দেওয়া। সিনেমাটির গল্প ১৯৭০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। দুটি প্রজন্ম, দুটি ভুবনকে সংযোগ করা হয়েছে এই সিনেমায়। মাঝিরা সাধারণত নদীর এপার-ওপার সংযোগ তৈরি করেন।

এই ভাবনা থেকেই নামকরণ করা বলে জানান নির্মাতা।

‘ভুবন মাঝি’র কেন্দ্রীয় চরিত্র কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা পরমব্রত এই সিনেমার একটি গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন। পরমকে দিয়ে গান গাওয়ানোর ভাবনা কী করে এল? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ভাবনাটি মূলত চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক কালিকা প্রসাদের মাথা থেকে এসেছে। পরমব্রত অনেক ভালো গান করেন। শুটিং শেষে প্রতি সন্ধ্যায় পরমব্রত গান গাইতেন। পরমব্রত নিজেই গিটার বাজিয়ে গান গাইতেন। তো কালিকা প্রসাদ যখন পরমব্রতকে দিয়ে এই সিনেমায় গান গাওয়ানোর আইডিয়াটা দিল তখন আমারও ভালো লাগল আইডিয়াটা। প্রথমে অবশ্য পরম গান গাইতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত আমাদের অনুরোধে গেয়েছেন। ‘পদ্মা নদীর নৌকা ভিড়ল হুগিল নদীর তীরে’ শিরোনামে আকাশ চক্রবর্তীর কথায় গানটির সুর ও সঙ্গীতায়োজনও করেছেন কালিকা প্রসাদ।

:: কবীর হোসাইন

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj