১৬ গুণীকে চসিকের একুশে পদক ও সাহিত্য পুরস্কার প্রদান

বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ৯ জন বিশিষ্ট গুণীজনের হাতে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও বিশিষ্ট ৭ জন গুণী সাহিত্যিকের হাতে সাহিত্য সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেয়া হয়েছে। নগরীর মুসলিম ইনস্টিটিউট হল চত্বরের একুশ মঞ্চে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এ সম্মাননা তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে একুশে পদক ও সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তরা অনুভূতি প্রকাশকালে লেখালেখির কর্মকাণ্ডে অবাধ স্বাধীনতা চান। তারা সব সাইনবোর্ড সরকারের আইন মেনে বাংলায় লেখা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমি সংরক্ষণ করার প্রস্তাব করেন।

শিক্ষায় প্রফেসর ড. বিকিরন প্রসাদ বড়–য়া, ক্রীড়ায় মো. হাফিজুর রহমান, সাংবাদিকতায় এম নাসিরুল হক, সমাজসেবায় আলহাজ মো. আজিম আলী, ভাষা আন্দোলনে শেখ মোজাফফর আহমেদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে বেগম মুশতারী শফি, সঙ্গীতে শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণব (মরণোত্তর) ও মরমী সঙ্গীতে আবদুল গফুর হালী, (মরণোত্তর), চিকিৎসাসেবায় প্রফেসর ডা. এ এস এম ফজলুল করিমকে মহান একুশে স্মারক সম্মাননা পদক এবং কথাসাহিত্যে মোহিত উল আলম, কবিতায় অরুণ দাশগুপ্ত, শিশুসাহিত্যে বিপুল বড়–য়া, নাটকে মিলন চৌধুরী ও কবি অভিক উসমান, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় ডা. মাহফুজুর রহমান এবং প্রবন্ধে ড. মাহবুবুল হককে সাহিত্য সম্মাননা পুরস্কার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণবের পক্ষে তার ছেলে প্রেম সুন্দর বৈষ্ণব, আবদুল গফুর হালির পক্ষে তার নাতি মাইনুল হক জুয়েল, শেখ মোজাফফর আহমদের পক্ষে তার ছেলে শেখ শহিদুল আনোয়ার, বেগম মুশতারী শফির পক্ষে তার ছেলে মেরাজ তাহ্সিন শফি এবং মো. হাফিজুর রহমানের পক্ষে তার ছেলে সাকিবুর রহমান পদক ও পুরস্কার গ্রহণ করেন। অন্যরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে পদক ও পুরস্কার গ্রহণ করেন।

এ সময় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেনে, বাঙালি জাতির স্বকীয়তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক অমর একুশ। তিনি বাংলা ভাষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অন্যান্য ভাষাও শিখতে অনুরোধ জানান। মেয়র নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি গভীর আগ্রহ সৃষ্টি এবং তাদের দেশ ও জাতির জন্য আত্মত্যাগী হওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

একুশে সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশে বইমেলা কমিটির আহ্বায়ক এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ডিউক। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন, উপস্থাপনায় ছিলেন মেয়রের একান্ত সচিব কবি ও ছড়াকার মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম (মানজুর মাহমুদ)। এ সময় মেয়র বলেন, বইমেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের মধ্যে একটা মেল বন্ধন গড়ে ওঠে। সিটি কর্পোরেশন বিনামূল্যে বুকস্টল বরাদ্দ দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র প্রকাশকদের জন্যও আগামীতে সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এবারের বই মেলায় আঞ্চলিকতাকে পরিহার করে উদার দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সর্বজনীন বইমেলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বহু বছর থেকে বইমেলা চলে এলেও এবারের আঙ্গিক ও পরিসর ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। তিনি বলেন, পরিকল্পনা আছে আগামী বছর থেকে বছরের সুবিধাজনক সময়ে বাংলা একাডেমি ও ঢাকার সব প্রকাশনী সংস্থা এবং চট্টগ্রামসহ সারা দেশের প্রকাশনী সংস্থা, লেখক ও পাঠকদের সমন্বিত করে নতুন আঙ্গিকে বইমেলার আয়োজন করার।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj