কমেনি মাহির কদর

শনিবার, ১৮ মার্চ ২০১৭

শ্রাবণী হালদার :: চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি সিনেমায় পা রাখেন শাহিন সুমনের ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবির মাধ্যমে। ছবিতে তার নায়ক ছিলেন বাপ্পি চৌধুরী। এই নায়কের সঙ্গে অনেকগুলো ছবি করেছেন মাহি। পাশাপাশি আরিফিন শুভ, শাকিব খান, সাইমন সাদিকসহ অনেকের বিপরীতেই অভিনয় করেছেন এই দর্শকপ্রিয় মুখ। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে একসময় ভিনদেশি নায়কদের সঙ্গেও কাজ করতে শুরু করেন মাহি। মাহির প্রথম বিদেশি নায়ক ছিলেন অঙ্কুশ। অশোক পাতি পরিচালিত ‘রোমিও জুলিয়েট’ ছবিতে মাহির নায়ক ছিলেন। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে ভালো ফল করেছিল। দর্শকরা পছন্দও করেছিলেন ছবিটি। এটি ছিল যৌথ প্রযোজনার ছবি। পরে আরো একটি যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘অগ্নি টু’-তেও মাহি পান বিদেশি নায়ক। ওমের সঙ্গে আরো ছবি করার কথা থাকলেও ‘অগ্নি টু’র পরে আর হয়নি। নতুন করে ভারতীয় নায়করা ঝুঁকছেন মাহির দিকে। সোহমের অভিনয় করার কথা রয়েছে অনন্য মামুন পরিচালিত ‘ময়না’ ছবিতে। সোহম এর আগে মিমের বাহুবন্দি হয়েছেন ‘ব্লু্যাক’ ছবিতে। তিশার সঙ্গেও কাজ করতে পারেন এই টলিমুখ। আপাতত মাহির সঙ্গেই কাজের সম্ভাবনা তার। এদিকে সোহম যখন ঝুলছেন অনিশ্চয়তায়, তখন নিশ্চিতভাবে জানা যায়, ওপারের বনি আসছেন মাহির কাছে। হার্টবিট প্রোডাকশনের জয়েন্ট ভেঞ্চার ছবি ‘মনে রেখো’তে অভিনয় করছেন মাহি ও বনি। এই প্রথম তারা জুটিবদ্ধ হয়েছেন। সোহম ও বনি যুক্ত হলে মাহির ভিনদেশী নায়কের খাতায় সবমিলিয়ে চারটি নাম লিপিবদ্ধ হবে। অঙ্কুশ ও ওমের মতো সোহম-বনিকে দর্শকরা কীভাবে গ্রহণ করেন তা জানতে আমাদের বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হচ্ছে! মাহির আসমানে পরদেশি মেঘের আনাগোনা কতটা রাঙাতে পারবে দর্শকদের মন তার জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গোনা ছাড়া উপায় নেই! এদিকে গতকাল শুক্রবার থেকেই ঢাকায় শুরু হয়েছে বনি-মাহির ‘মনে রেখো’ ছবির শুটিং। রোমান্টিক-অ্যাকশন ঘরানার গল্পে নির্মিত সিনেমাটি গল্প ও চিত্রনাট্য করেছেন দেলওয়ার হোসেন দিল। ‘মনে রেখো’ সিনেমার নির্মাতা ওয়াজেদ আলী সুমন। ‘মনে রেখো’ গল্পটি নাকি পুরোদস্তুর মৌলিক গল্পের সিনেমা। এমনটাই দাবি করলেন নির্মাতা। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযোজনায় নির্মিতব্য সিনেমাটির প্রযোজনা করছে হার্টবিট প্রোডাকশন। অন্যদিকে মোশাররফ করিম এবং মাহিয়া মাহির মধ্যে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি। একজন টেলিভিশনে লোক হাসিয়ে মারেন। যে কোনো চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। নেন সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক। আরেকজন সিনেমার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত নায়িকা। রোমান্সের অপর নাম এখন মাহিই। এই দুজনের প্রথম ছবি ‘ফালতু’। এই ছবিটিও পরিচালনা করবেন ওয়াজেদ আলী সুমন। দেশীয় প্রযোজনায় নির্মিত হবে ছবিটি। এতদিন মোশাররফ করিম চূড়ান্ত ছিলেন। তার নায়িকা নিয়ে ছিল জল্পনা-কল্পনা। কল্পনা শেষে ধরা দিলেন মাহি। নিশ্চিতই চমকপূর্ণ জুটি হতে চলেছে মোশাররফ-মাহি। ওয়াজেদ আলী সুমন জানান, মাহি ও মোশাররফকে চূড়ান্ত করেছেন। শিগগিরই শুটিংয়ের প্রস্তুতি নেবেন। কিছুদিন আগেও নায়িকাদের পারিশ্রমিক ৫ লাখের ঘরের আশপাশে থাকত। তবে জাজ মাল্টিমিডিয়া বিচ্ছেদ-হঠাৎ বিয়ে আর মামলা জটিলতা পেরিয়েও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি বসে আছেন প্রথম বেঞ্চে! এ মুহূর্তে তিনিই নায়িকাদের মধ্যে ছবিপ্রতি সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। যেটা অনেক আলোচিত নায়কের সমানে সমান কিংবা কাছাকাছি। আর তা একেবারে ১০-এর ঘরে। ছবিপ্রতি মাহির দর এখন ১০ লাখ টাকা। তবে ছবির গল্প যদি নায়িকার মন গলাতে পারেন, সেক্ষেত্রে কিছুটা ডিসকাউন্ট থাকেই। আর তাহলে ১ লাখ কমিয়ে ৯ লাখে রাজি হয়ে যান মাহি। যেমনটা ঘটেছে মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ছবি ‘জান্নাত’-এ। এখানে মাহি ৯ লাখ টাকায় রাজি হয়েছেন। তবে সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হওয়া একটি ছবিতে দেড় গুণ টাকা পেয়েছেন এ নায়িকা। ‘ময়না’ ছবিতে তাকে দেয়া হয়েছে ১৫ লাখ টাকা! মাহি বললেন, আমি সাধারণত ১০ লাখ টাকাই নিই। কিন্তু ‘ময়না’ ছবিতে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভার্সেটাইল মিডিয়া আমাকে ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করে। এটা তারাই প্রস্তাব দেয়। ‘ময়না’ ও ‘জান্নাত’ ছাড়াও বর্তমানে মাহিয়া মাহি আরো চারটি ছবিতে স্বনামে কাজ করছেন। নামগুলো হলো ‘গোলাপতলীর কাজল’, ‘দুরন্ত মেঘলা’, ‘প্রেমের বাঁধন’ ও ‘তুমি আমার সুন্দরী’। মাহির শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল ‘অনেক দামে কেনা’।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj