রামগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা

শনিবার, ২০ মে ২০১৭

রামগঞ্জ (লক্ষীপুর) প্রতিনিধি : লক্ষীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রামগঞ্জ জোনাল অফিস কর্তৃক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে বিলের কপি পাঠিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, মিটার রিডিংয়ে বিশেষ ধরনের কারসাজি করে গ্রাহকদের এপ্রিল ও মে মাসে (৭-৪-১৭/৭-৫-১৭) ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল আগের কয়েক মাসের বিলের চেয়ে দ্বিগুণ/তিনগুণ দেখানো হয়েছে। এ ভুতুড়ে বিল দেখে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা হতবাক হয়ে পড়েছেন।

অভিযোগকারী গ্রাহকরা জানান, পল্লী বিদ্যুতের চলতি মে মাসের বিলে কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করেই প্রথম ¯ø্যাব ৭৫ অতিক্রম করিয়ে অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়েছে। কারণ প্রথম ৭৫ ইউনিটের জন্য গ্রাহকদের দিতে হয় ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ৮০ পয়সা এবং ৭৫ অতিরিক্ত প্রতি ইউনিটের জন্য ৫ টাকা ১৪ পয়সা। এর ফলে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এই ধরনের কারসাজিতে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও এর কোনো সমাধান তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। কারসাজির মাধ্যমে টাকা আয়ের কৌশল গ্রাহকদের সঙ্গে চরম প্রতারণা উল্লেখ করে লক্ষীপুর পল্লী বিদ্যুতের জিএম ও এজিএমের অপসারণ এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান অভিযোগকারী গ্রাহকরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, রামগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের শ্রীপুর পাটওয়ারী বাড়ির বিদ্যুৎ গ্রাহক মনিরুল ইসালামের বিদ্যুৎ বিলের কপিতে ব্যবহৃত ইউনিট গত এপ্রিল মাসে ছিল ৯০ ইউনিট ও বর্তমান মে মাসে ১৬০ ইউনিট এবং বিল প্রস্তুতের এক সপ্তাহ পর ১৫ মে ইউনিট বেড়েছে মাত্র ৩ ইউনিট, শরীফ হোসেনের বিদ্যুৎ বিলের কপিতে ব্যবহৃত ইউনিট গত এপ্রিল মাসে ছিল ৯০ ইউনিট ও বর্তমান মে মাসে ১৭০ ইউনিট এবং বিল প্রস্তুতের এক সপ্তাহ পর ১৫ মে মিটারে বিল কপির চেয়ে কম দেখাচ্ছে ৫ ইউনিট, মো. নূর নবীর বিদ্যুৎ বিলের কপিতে ব্যবহৃত ইউনিট গত এপ্রিল মাসে ছিল ৭০ ইউনিট ও বর্তমান মে মাসে ১৪০ ইউনিট এবং বিল প্রস্তুতের এক সপ্তাহ পর ১৫ মে ইউনিট বেড়েছে ১৩ ইউনিট, মো. আবু জাফরের বিদ্যুৎ বিলের কপিতে ব্যবহৃত ইউনিট গত এপ্রিল মাসে ছিল ৫৫ ইউনিট ও বর্তমান মে মাসে ১১০ ইউনিট এবং বিল প্রস্তুতের এক সপ্তাহ পর ১৫ মে ইউনিট বেড়েছে মাত্র ১ ইউনিট, মো. বশির আহাম্মদের বিদ্যুৎ বিলের কপিতে ব্যবহৃত ইউনিট গত এপ্রিল মাসে ছিল ১০০ ইউনিট ও বর্তমান মে মাসে ১৯০ ইউনিট এবং বিল প্রস্তুতের এক সপ্তাহ পর ১৫ মে ইউনিট বেড়েছে মাত্র ৪ ইউনিট। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের চলতি মাসের বিলে অতিরিক্ত বিল দেখানো হয়েছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে। যা পূর্ববর্তী মাসগুলোর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এই ধরনের অতিরিক্ত বিল করার জন্য বছরের চার/পাঁচ মাস অন্তর এই কৌশল অবলম্বন করে বলেও বিভিন্ন গ্রাহক অভিযোগ তোলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুতকারী জানায়, পর পর দুই মাস ইচ্ছে করেই ব্যবহৃত ইউনিটের কম দেখানোর পরবর্তী তৃতীয় মাসে মিটারে স্বাভাবিকভাবেই বেশি ইউনিট দেখাবে। এ ছাড়াও এসব বিদ্যুৎ বিলের কপিতে আগাম ২৫/৩০ ইউনিট বেশি দেখানো হয়ে থাকতে পারে। কারণ বিল প্রস্তুতের এক সপ্তাহ পরে গ্রাহকদের বিলের কপি দেয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে মিটারের রিডিং ইউনিট স্বাভাবিকভাবে ২৫/৩০ ইউনিটের বেশি বেড়ে যায়। তাই গ্রাহক সহজে এ কারসাজি বুঝতে পারে না। আর ৭৫-এর অতিরিক্ত ইউনিট হলেই ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩৪ পয়সা অতিরিক্ত দিতে হয় গ্রাহকদের। আর এই কারসাজি করার জন্য মিটার রিডার বা বিল প্রস্তুতকারীদের রয়েছে প্রয়োজনীয় মেধা ও প্রশিক্ষণ। এ ব্যাপারে জানতে লক্ষীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রামগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ডিজিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ডিজিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কারসাজির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, দুই-একটি বিদ্যুৎ বিলে এমন ভুল হতেই পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ