আইটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল গ্রেপ্তারের পর কারাগারে

শনিবার, ২০ মে ২০১৭

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : ইসলামিক ট্রেড অ্যান্ড কমার্স লিমিটেডের (আইটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এসডিএস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে গত বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি মামলায় তার সাজা হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি অশোক কুমার সিংহ জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের নগরজলফৈ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঢাকা থেকে বাসে এসে সেখানে নেমেছিলেন। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতে গ্রাহকদের করা চারটি মামলায় ইতোমধ্যে সাজা হয়েছে। এ ছাড়া ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা জানান, ১৯৯০ সালের পর ইসমাইল হোসেন সিরাজী তার তিন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সংসদ (এসডিএস) নামক একটি সংগঠন করেন। টাঙ্গাইল সমাজসেবা বিভাগ থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে শুরু হওয়া এই সংগঠন টাঙ্গাইল শহর ও আশপাশের এলাকায় ক্ষুদ্র ঋণ ও সঞ্চয় কার্যক্রম শুরু করেন। চার উদ্যোক্তার ঐক্য দৃঢ় করার জন্য চার বন্ধু একই পরিবারের চার মেয়েকে বিয়ে করে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হন। এসডিএসের প্রসার ঘটার পর ১৯৯৬ সালে তারা এর অঙ্গ সংগঠন হিসেবে আইটিসিএল প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে আমানত সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে। খুব অল্প সময়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এর কার্যক্রম। আমানত সংগ্রহের পাশাপাশি তারা বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন। আমানত সংগ্রহ কার্যক্রম বিস্তৃতি লাভ করার পর ঢাকার গুলশানে তারা অফিস নেন। তাদের অবৈধ কার্যক্রমের সুবিধার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতাদের উপদেষ্টা পদে উচ্চ বেতনে নিয়োগ দেন। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারাবাড়ি এলাকায় দুই শতাধিক একর জমির ওপর কৃষি খামার গড়ে তোলে এসডিএস।

২০০২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আইটিসিএলের আমানত সংগ্রহকে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর গ্রাহকরা টাকা তোলার জন্য ভিড় করেন আইটিসিএলের বিভিন্ন কার্যালয়ে। গ্রাহকদের চাপের মুখে এক পর্যায়ে আইটিসিএল-এসডিএসের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কর্মকর্তারা সব গা ঢাকা দেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে আইটিসিএল কর্তৃপক্ষের নামে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা মামলা করেন। ওই বছর টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বৈঠক করতে আসলে পুলিশ ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে গ্রেপ্তার করে। সাড়ে আট বছর জেলহাজতে থাকার পর সিরাজী জামিন লাভ করেন। তিনি আদালতে প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন আইটিসিএল-এসডিএসের নামে থাকা সব সম্পত্তি বিক্রি করে জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত তহবিলে জমা রাখবেন এবং সেখান থেকে গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু তিনি জামিন পেয়ে আর টাঙ্গাইল আসেননি।

সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দেবেন- এই প্রতিশ্রæতি দিয়ে জামিনে মুক্তি লাভ করেন ইসমাইল হোসেন সিরাজী। কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও একজন গ্রাহকের টাকাও তিনি ফেরত দেননি। গ্রাহকদের করা একাধিক প্রতারণা মামলায় তার অনুপস্থিতিতেই সাজা হয়েছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ