মির্জাগঞ্জে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় ভবন বিক্রির অভিযোগ

শনিবার, ২০ মে ২০১৭

মো. রফিকুল ইসলাম সাদ্দাম, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) থেকে : উপজেলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সুন্দ্রাকালিকাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, ভবনটি ১৯৯২-১৯৯৩ সালে পটুয়াখালীর ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবন বিক্রি করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ডিজির কাছ থেকে লিখিত অনুমোদন এনে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করতে হয়। এসব নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা ও বিকল্প শ্রেণি কক্ষের ব্যবস্থা না করে গত ১৪ মে থেকে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান বন্ধ রেখে বিদ্যালয় ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিদ্যালয় বন্ধ ও ভবন ভাঙার কথাও জানায়নি বলে জানা যায়। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৭-৮ জন লোক ভবনটি ভাঙার কাজ করছে। লাইব্রেরি কক্ষের বইগুলো মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. রাজ্জাক মাস্টার স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় বিদ্যালয়টি নদীর খুব কাছে দেখিয়ে গোপনে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ভবনটি বিক্রি করে দেয়। বিকল্প শ্রেণিকক্ষ না থাকায় প্রধান শিক্ষক মৌখিকভাবে বিদ্যালয় বন্ধ রাখেন।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. রাজ্জাক মাস্টার জানান, আমরা ৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে সভাপতির নির্দেশে ভবনটি বিক্রি করছি। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গাজী মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন বলেন, স্কুলটি নদীর তীরে হওয়ায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ভবনটি বিক্রি করা হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিদ্যালয়টি বন্ধ এবং ভবন বিক্রির বিষয় আমি কিছুই জানি না। যদি বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ