পঞ্চাশেও মহিমান্বিত মাধুরী

শনিবার, ২০ মে ২০১৭

মেলা ডেস্ক : হাজারো পুরুষের হৃদয় কাঁপানো নায়িকা মাধুরী দীক্ষিত। চিরযৌবনা এই নায়িকা বলিউডে নিজের আবেদন ধরে রেখেছেন এখনো। নিজের গুণ, অভিনয়, নাচ ও সৌন্দর্য দিয়ে হাজারো দর্শককে মাতিয়ে রাখেন তিনি। অসাধারণ হাসি ও চোখের অভিব্যক্তি দিয়ে যে কারো মন জয় করে ফেলতে পারেন মুহূর্তেই। গত সোমবার ছিল তার জন্মদিন। এবার ৫০ বছরে পা দিলেন তিনি। কিন্তু তাকে দেখে বয়স বোঝার কোনো উপায় নেই। আজো জন্মদিনে অজস্র ফ্যানলেটার পান। সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুভেচ্ছা বার্তা আসে। সব কিছু সামলে পরিবারের সঙ্গেই এই দিনটা সেলিব্রেট করতে চান তিনি। ঘরোয়া পার্টিতে আনন্দ করাই তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়। ১৫ মে ১৯৬৭ সালে বাবা শঙ্কর দীক্ষিত ও মা সঞ্চলতার ঘরে মুম্বাইতে জন্মগ্রহণ করেন মাধুরী দীক্ষিত। এক ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে মাধুরী ছিলেন সবার ছোট। ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করার খাতিরে বেশ ধার্মিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন তিনি। মুম্বাইয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা মাধুরীর ছোটবেলা কেটেছে মুম্বাইতেই। তার স্কুল ছিল ডিভাইন চাইল্ড হাইস্কুল। পরবর্তী সময়ে মুম্বাই ইউনিভার্সিটিতে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। মাধুরী সবসময়েই ভালো ছাত্রী ছিলেন। তবে তিনি পড়ার ব্যাপারে ছিলেন বেশ ফাঁকিবাজ। ছোটবেলা থেকেই তার একটি ব্যাপারে ভীষণ আগ্রহ ছিল। আর তা হলো নাচ। তিনি কত্থক নাচ শিখতেন ছোটবেলা থেকেই। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন তিনি। আর তার নাচের জন্য তিনি স্কুলের শিক্ষক ও হেডমাস্টারদের কাছে খুব প্রিয় ছিলেন। এমনকি তিনি নাচের জন্য জাতীয় বৃত্তিও পেয়েছেন। কিন্তু পড়াশোনায় মন দিতে গিয়ে নাচের বৃত্তি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি একজন প্রডিউসারের কাছ থেকে সিনেমায় অভিনয় করার প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৪ সালে ‘অবোধ’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। এরপর বিভিন্ন চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করার পর ১৯৮৮ সালে ‘তেজাব’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে প্রথম নায়িকার চরিত্রে তার অভিষেক হয়। প্রথম ছবিতেই তিনি ফিল্ম ফেয়ারের নমিনেশন পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এরপর তিনি একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের।

তবে বয়স ধরে রাখা, দীর্ঘদিন ধরে একটানা দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়ার রহস্যটা কী? মাধুরী নিজে সে বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি কোনোদিনই। তবে তার ক্যারিয়ারের দিকে চোখ রাখলে বোঝা যাবে কিছু জন্মগত ক্ষমতাকে খুব সহজ কিছু নিয়মে বেঁধে রেখেছেন নায়িকা।

হাসি : মাধুরীর হাসি নিয়ে অনেক চর্চা রয়েছে সিনে মহলে। একবাক্যে অনেকেই স্বীকার করেন এই হাসিতে জাদু রয়েছে। যা দিয়ে বছরের পর বছর দর্শকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন তিনি। লাল লিপস্টিক মাধুরীর পছন্দের। তিনি মনে করেন, তার ত্বকের রঙের সঙ্গে লাল লিপস্টিকই ভালো মানায়।

অভিনয় : শুধু সৌন্দর্য নয়। অভিনয়েও যে তিনি সেরা তা একাধিকবার প্রমাণ করেছেন মাধুরী। ‘তেজাব’, ‘দিল’, ‘বেটা’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘গুলাব গ্যাং’- একাধিক বক্স অফিস হিট দিয়েছেন তিনি। তেমনই বিভিন্ন পুরস্কারও জিতেছে তার অভিনীত ছবি।

নাচ : ফিল্ম হোক, স্টেজ অথবা রিয়েলিটি শো- মাধুরীর নাচে মন্ত্রমুগ্ধ দর্শক। দীর্ঘদিন কত্থক শিখেছেন। নাচের মুদ্রায় তিনি যেমন অনাবিল আনন্দ খুঁজে পান, তেমনই এই অভ্যেস তার বয়স ধরে রাখার টোটকাও বটে।

আবেদনময়ী : ‘ধক ধক’ গানে মাধুরীর এক্সপ্রেশন এক মুহূর্তে তাকে ইন্ডাস্ট্রির ‘ধক ধক’ গার্ল তকমা দিয়েছিল। আবার ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’-এ সালমান খানের সঙ্গে বড়পর্দায় রোমান্স তাকে পৌঁছে দিয়েছিল অন্য মাত্রায়। ফলে বড়পর্দায় তার সেনসুয়াল পারফরমেন্সও দর্শকদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে।

ব্যক্তিগত জীবন : ব্যক্তিগত জীবন কী করে ব্যক্তিগত রাখতে হয় তা বোধহয় মাধুরীর কাছ থেকে শেখার। সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে তার ডেটিংয়ের জল্পনায় একসময় সরগরম ছিল ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু তারপর গø্যামার ওয়ার্ল্ড বা মিডিয়া থেকে পার্সোনাল লাইফকে একেবারে আলাদা করে রেখেছেন মাধুরী। ১৯৯৯ সালে মাধুরী কার্ডিওভাসকুলার সার্জন শ্রীরাম মাধব নেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর তার ঘর আলো করে আসে দুই পুত্র আরিন ও রায়ান।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj