দিবসভিত্তিক চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

শনিবার, ২০ মে ২০১৭

দেশের অন্যতম নাট্যদল প্রাঙ্গণেমোর ২০১০ সালের ১৭ জুন মঞ্চে আনে কাজী নজরুল ইসলামের ‘আলেয়া’ গীতিনাট্য অবলম্বনে নাটক ‘দ্রোহ প্রেম নারী’। এ নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনা দিয়েছেন রামিজ রাজু। আগামী ১১ জ্যৈষ্ঠ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ভোরের কাগজের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেতা ও নির্দেশক রামিজ রাজু। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহনাজ জাহান

ভো কা : আপনার এ সময়ের ব্যস্ততার খবর জানতে চাই?

রামিজ রাজু : এই মুহূর্তে ব্যস্ত আছি থিয়েটার আর টিভি মিডিয়ার কাজ নিয়ে। থিয়েটারের নতুন প্রযোজনার পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া আমাদের দলের বেশকিছু নাটক নিয়মিত মঞ্চস্থ হচ্ছে। দলের প্রায় সবগুলো নাটকেই অভিনয় করছি। প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলের রক্তকরবী, স্বদেশী, লোকনায়ক, শ্যামা-প্রেম, ঈর্ষা, আওরঙ্গজেব, শেষের কবিতা, বিবাদী সারগাম, কনডেমড সেল নাটকগুলোতে আমি অভিনয় করি। পাশাপাশি টেলিভিশনের কাজ তো আছেই। সামনে ঈদের জন্য কিছু টিভি নাটকে অভিনয় করছি। এগুলোর শুটিং, ডাবিং নিয়েও ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।

ভো কা : মঞ্চে আপনি অভিনেতা ও নির্দেশক। কোন পরিচয়টা বেশি ভালো লাগে?

রামিজ রাজু : ১৯৯৯ সাল থেকে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। তখন থেকে আজ পর্যন্ত নির্দেশনার চেয়ে অভিনয়টাই বেশি করেছি। মঞ্চে আমি মূলত অভিনেতা, হ্যাঁ নির্দেশনাও দিয়েছি। আসলে আমি মনে করি প্রতিটা অভিনেতা একজন নির্দেশক। কারণ নির্দেশকের আগে অভিনেতাকেই নিজের অভিনয়টা সাজাতে হয়। অভিনেতা এবং নির্দেশক দুটো পরিচয় আমার কাছে ভালো লাগার। তবে অভিনয়টাই আমার কাছে মুখ্য।

ভো কা : নজরুলের ‘আলেয়া’ অবলম্বনে ‘দ্রোহ প্রেম নারী’ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে যদি বলেন?

রামিজ রাজু : কাজী নজরুল ইসলামের ‘আলেয়া’ গীতিনাট্য অবলম্বনে ‘দ্রোহ প্রেম নারী’ নাটকটি মূলত নবনাট্যায়ন। মানুষের জীবনের প্রেম-ভালোবাসা, সুখ-দুঃখ নিয়েই এই নাটক। মানুষ সব বাস্তবতাকে উপলব্ধি করার পরও বারবার হৃদয়ের কাছে হেরে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রেমেরই জয় হয়। যুদ্ধ নয়, হিংসা নয়, হানাহানি নয়- প্রেমেরই জয়। এটাই বোঝানো হয়েছে এ নাটকে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার এক দৃঢ় লড়াই দেখানো হয়েছে। এই নাটকের তিনটি পুরুষ ও তিনটি নারী চরিত্র চিরকালের যত পুরুষ-নারী আছে সবার প্রতিনিধিত্ব করে।

ভো কা : নজরুল সাহিত্য নিয়ে খুব বেশি নাটক হয়নি। এর কারণ কি বলে মনে করেন?

রামিজ রাজু : রবীন্দ্র, নজরুল এখন সিজনাল চর্চা হয়ে গেছে। বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা কেবল একবারই তাদের স্মরণ করি। আর সেটা তাদের জন্ম অথবা মৃত্যু দিবসে। এই দিবসভিত্তিক চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রবীন্দ্র, নজরুলকে তো প্রতিদিন চর্চা করতে হয়।

ভো কা : থিয়েটার নিয়ে আপনার আগামী দিনের পরিকল্পনার খবর জানতে চাই?

রামিজ রাজু : আমি চাই অন্যান্য পেশার মতো থিয়েটারও যেন পেশা হিসেবে স্বীকৃত হয়। থিয়েটার করে যেন জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা হয়। আমাদের থিয়েটার থেকে শুধু অভিনেতা নয় বরং লাইট ডিজাইনার, সেট ডিজাইনার, মিউজিক, কোরিওগ্রাফার যেন তৈরি হয়। থিয়েটারের নেপথ্যকর্মী হওয়ার জন্যও যেন তরুণদের স্বপ্ন তৈরি হয়। ব্যক্তিগতভাবে আমার একটাই পরিকল্পনা, আজীবন থিয়েটার করতে চাই।

ভো কা : বাংলাদেশের সা¤প্রতিক সময়ের নাট্যচর্চা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই

রামিজ রাজু : মঞ্চনাটক বাংলাদেশে অনেক শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ। ভালো ভালো নাটক হচ্ছে, তরুণ নাট্যকার, নির্দেশকরাও ভালো কাজ করছে। দু’একটি নাটক ছাড়া অধিকাংশ নাটকই মানসম্মত। কিন্তু ভার্চুয়াল জগত এখন মানুষকে এত ব্যস্ত করে রেখেছে যে থিয়েটার মিলনায়তনে এসে এখন অনেকেই নাটক দেখতে চাইছে না। সবাই এখন ইউটিউবে ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপস দেখতে চায়। টেকনোলজিতে আমরা যে দেশগুলোকে অনুসরণ করি তারা কিন্তু নিয়মিত থিয়েটার দেখে, সিনেমা দেখে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশেও থিয়েটারের দর্শক বাড়বে।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj