ভুল চিকিৎসায় প্রাণনাশ!

শনিবার, ২০ মে ২০১৭

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী মারা যাওয়ার অভিযোগ এনে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সংক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালটি ভাঙচুর করেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্লিনিক-হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা বা চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর খবর এখন প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকার ক্লিনিক-হাসপাতাল থেকে রাজধানীর নামি-দামি হাসপাতাল সবার বিরুদ্ধে রয়েছে এরকম অভিযোগ, যা খুবই অনাকাক্সিক্ষত ও উদ্বেগজনক। অন্যদিকে রোগীর সংক্ষুব্ধ স্বজনদের হাতে হাসপতাল ভাঙচুর বা চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়গুলোও কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়।

সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী আফিয়া আক্তার চৈতী গত বুধবার জ্বর নিয়ে রাজধানীর গ্রিন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হন। তার স্বজনদের অভিযোগ কিন্তু তাকে নাকি ব্লুাড ক্যান্সারের চিকিৎসা দেয়া হয় এবং এ কারণেই তার মৃত্যু ঘটে। এর প্রতিক্রিয়ায় নিহতের স্বজন ও সহপাঠীরা হাসপাতালে ভাঙচুর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলী বাদী হয়ে ছাত্রীর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। উল্লেখ করা দরকার, এর আগে বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক মৃদুল কান্তি চক্রবর্তী ল্যাবএইড প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার দরুন মারা গেছেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণ গুনতে হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এরকম চিকিৎসা অবহেলার শিকার নায়ক মান্না, সংবাদ পাঠিকা রাশেদা মহিউদ্দীনসহ আরো অনেকেই। সমাজের বিশিষ্টজনরা যেখানে ভোগান্তির শিকার সেখানে সাধারণ মানুষদের কথা বলে শেষ করা যাবে না। দেশের মফস্বল এবং গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কত মানুষ যে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করছে তার ইয়ত্তা নেই। এ ধরনের পরিস্থিতির মূল কারণ আমাদের চিকিৎসকদের বাণিজ্যিক মনোভাব, যথাযথ নিয়ম না মেনে যত্রতত্র হাসপাতাল-ক্লিনিক গড়ে ওঠা, যেখানে ভুয়া ও হাতুড়ে ডাক্তাররাই চিকিৎসা সারেন।

চিকিৎসাসেবা একটি মহান পেশা। তাই সমাজে ডাক্তাররা বিশেষ সম্মান পেয়ে থাকেন। কিন্তু মাঝে মাঝে চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্টদের ভুল কিংবা খামখেয়ালিপনা রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের ভুল চিকিৎসা একটি পরিবারের সবকিছু ধ্বংস করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। চিকিৎসকদের কারো কারো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কাছে সাধারণ মানুষ অসহায়। কারণ অসুখ-বিসুখে আমাদের তাদের কাছেই যেতে হবে। চিকিৎসকদের কাছে মানবিক ও সহমর্মী আচরণই রোগীরা আশা করেন। না পেলে সংক্ষুব্ধ হন। সত্যিই যদি কারো মনে হয় যে তার নিকটজনটি হাসপাতালে অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার শিকার, তাহলে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার নিশ্চয়ই তার রয়েছে। তবে আদৌ অবহেলা বা ভুল চিকিৎসা হয়েছে কিনা, তা হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষমাণ আত্মীয়স্বজন বুঝে না বুঝে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভাঙচুর চালাতে শুরু করবেন, এটা খুবই খারাপ দৃষ্টান্ত। রোগীর স্বজনদের কাছে এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত।

ভুল চিকিৎসায় ঢাবি ছাত্রী আফিয়ার মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়টি এখন তদন্তসাপেক্ষ ও বিচারাধীন। আমরা আশা করবো তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক সমাজ আন্তরিক হবেন।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj