স্বরূপে মোস্তাফিজ

শনিবার, ২০ মে ২০১৭

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মোস্তাফিজুর রহমান- বাংলাদেশের এক বিস্ময় বালক। অভিষেকের পর থেকেই ঝলক দেখিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন। সারা বিশ্ব তাকে ‘কাটার বয়’ বলেই চেনে। আন্তর্জাতিক, ঘরোয়া, আইপিএল, বিগ ব্যাশ- সব জায়গাতেই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। এ অল্পদিনের ক্যারিয়ারে ক্রিকেট ভক্তদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন ‘মি. ফিজ’ খ্যাত এ বোলার। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু ২৪ এপ্রিল, ২০১৫ পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টেয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে। সে ম্যাচে তিনি তুলে নেন শহীদ আফ্রিদি ও মোহাম্মাদ হাফিজের উইকেট।

টি-টোয়েন্টির পর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই তুলে নেন ৫ উইকেট। এরফলে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসের ১০ম বোলার হিসেবে তিনি অভিষেকে ৫ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়েন। এর পরের ম্যাচে তিনি আরো ভয়ঙ্কর। এবার নিলেন ৬ উইকেট। দুই ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে দুই ম্যাচেই হলেন ম্যাচসেরা। ক্যারিয়ারের ১ম দুই ম্যাচে ম্যাচসেরা হওয়ার নজির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর একটিও নেই। ৩য় ওয়ানডেতে ২ উইকেট- সব মিলিয়ে প্রথম তিন ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে ক্যারিয়ারে প্রথম তিন ম্যাচে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক হলেন মোস্তাফিজ।

এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও ছিলেন স্বরূপে। এ আফ্রিকার বিপক্ষেই অভিষেক টেস্টে তুলে নেন ৪ উইকেট। এমন পারফরমেন্সে মুগ্ধ হয়ে তিনি সুযোগ পান আইপিএলে। সানরাইজেস হায়দরাবাদের হয়ে প্রথমবারের মতো খেলতে গিয়ে তিনি সবার মন কেড়ে নেন। টুর্নামেন্টে তিনি তুলে নেন ১৭ উইকেট। আইপিএল শেষ করেই বিগ ব্যাশে সাসেক্সের হয়ে খেলতে যান মি. ফিজ। সেখানেও চলে আগুন বর্ষণ। প্রথম ম্যাচে মাত্র ২২ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট। হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। কিন্তু এরপরই ইনজুরিতে পড়েন।

এ ইনজুরি তাকে ৬ মাসের জন্য মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। তিনি মিস করেন নিউজিল্যান্ড ও ভারত সফর। সুস্থ হয়ে তিনি যখন ফিরলেন তখন দেখা গেল তিনি পাল্টে ফেলেছেন তার বোলিং অ্যাকশন। তার বলের সেই ধার আর নেই।

এ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ থেকে শুরু করে দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তাসহ সারাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী দুশ্চিন্তায় ভোগেন। তবে তার প্রত্যয় ছিল জ্বলে ওঠার। তাইতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২১ রান দিয়ে শিকার করেছিলেন ৪ উইকেট। আর দুই টেস্টে তুলে নেন ৮ উইকেট। এরপর ঢাকা ফিরে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়েছেন। মোস্তাফিজকে পেয়ে উইনিং কম্বিনেশন ভেঙে তাকে সুযোগ দেয় হায়দরাবাদ। কিন্তু মাত্র ১৬টা বল করে দিয়ে দেন ৩৪ রান।

পরে আর তাকে একাদশেই নেয়নি হায়দরাবাদ। আইপিএল থেকে ফিরে এসে আবার জ্বলে ওঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি দেখিয়েছেন তার কিছু পুরনো ঝলক। বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচে বল করারই সুযোগ পাননি তিনি। ২য় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট। তার বলে ছিল সেই অফ-কাটার আর মারাত্মক ¯েøায়ার।

গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বল করতে নেমে শুরু থেকেই তার অসাধারণ ডেলিভারিতে নাজেহাল করে আইরিশদের ব্যাটিং লাইন-আপকে। ৯ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট। তাহলে কি হারানো মুস্তাফিজকে আবার ফিরে পাচ্ছে ক্রিকেটবিশ্ব? সামনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। আইসিসি থেকে মোস্তাফিজের ওপর বিশেষ নজর রাখতে বলেছে। এ তরুণ পেসারই হয়ত বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্কের নাম হবে। তবে পেসারদের ইনজুরি থেকে ফিরতে সব সময়ই একটু বেশি সময় লেগে যায়। মোস্তাফিজের বেলায় তা লেগেছে আরো বেশি।

এমনিতে মাত্র ২০ বছরের অগঠিত শরীর। তার ওপর অস্ত্রোপচারের ধকল। সেই দুঃসময় পেছনে ফেলে আগের রূপে ফেরার কাজটা মোস্তাফিজের জন্য বেশিই কঠিন ছিল। কিন্তু তিনি পেরেছেন। তার এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এমনই প্রত্যাশা বাংলাদেশের হাজারও ক্রিকেটপ্রেমদের।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj