সিলেটে থানা হাজতে আসামির মৃত্যু, পুলিশ বলছে আত্মহত্যা

শনিবার, ২০ মে ২০১৭

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের জৈন্তাপুরে থানায় পুলিশ হেফাজতে নারী নির্যাতন মামলার নজরুল ইসলাম বাবু নামে এক আসামির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, সে আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার ফুটেজ থানার সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। তবে পরিবারের দাবি, বাবুকে থানা হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হতে পারে। গতকাল শুক্রবার ভোররাতে জৈন্তাপুর মডেল থানার হাজত কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নজরুল ইসলাম বাবু জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। তিনি একই উপজেলার কহাইগড় গ্রামের আবদুল জলিল বীরের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্ত্রীর দায়ের করা নারী নির্যাতন মামলার আসামি ছিল বাবু। গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে শহরতলীর বটেশ্বর এলাকা থেকে পুলিশ নজরুল ইসলাম বাবুকে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে রাখে। গতকাল শুক্রবার ভোর রাতে হাজতের ভেতর তার মরদেহ পাওয়া যায়।

তবে নিহতের চাচা মদরিছ আলী ও বোন জামাই লুদু মিয়ার দাবি, বাবুকে নির্যাতন করে মেরে ফেলে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হতে পারে। পুলিশ প্রহরায় থাকা থানা হাজতের ভেতর আসামি আত্মহত্যা করে কিভাবে- এমন প্রশ্ন তোলেন তারা।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা বলেন, স্ত্রীর দায়ের করা মামলার আসামি ছিল বাবু। তাকে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে সে থানা হাজতের ভেতরে আত্মহত্যা করে। তাকে কোনো রকম নির্যাতন করা হয়নি। আত্মহত্যার দৃশ্য থানার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায়ও রেকর্ড হয়েছে।

থানার সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, বাবু কম্বল ছিঁড়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শুক্রবার ভোরের দিকে আত্মহত্যা করে। ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কর্তব্যে অবহেলা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা।

নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৬ নভেম্বর জৈন্তাপুরের ঘিলাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন ফাতেমাকে বিয়ে করে নজরুল ইসলাম বাবু। বিয়ের পর তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। একপর্যায়ে নাসরিন ফাতেমা পিত্রালয়ে চলে যান এবং নির্যাতনের অভিযোগ এনে বাবুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj