বন্যার সুরে মুগ্ধ দর্শক

শনিবার, ২০ মে ২০১৭

কাগজ প্রতিবেদক : শুক্রবারের সন্ধ্যাটি আক্ষরিক অর্থেই হয়ে উঠেছিল বন্যাময়। তার সুরের মাধুর্যে ভাসল দর্শক। তিনি আর কেউ নন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। এ গুণী সুরের সুরভী ঢেলে দিয়েই গাইছিলেন একেকটি গান। ‘ঝরো ঝরো ঝরিছে বারি ধারা’ দিয়ে শুরু হয় বন্যার একক সঙ্গীতসন্ধ্যাটি। গানের পর হলভরা শ্রোতাদের জানান, এ বঙ্গে এসেই শুরু হয়েছিল কবিগুরুর প্রকৃতি পর্বের গান লেখা।

গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার এ একক সঙ্গীতানুষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের দ্বিতীয় দিনের এ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন অভিনেতা আফজাল হোসেন।

বন্যা গেয়ে শোনান রবীন্দ্রনাথের ‘গগন কসুম কুঞ্জ মাঝে’, ‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে’, ‘আজ আকাশের মনের কথা’, ‘শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা’সহ আরো বেশ কিছু গান। শুধু গানই নয়, কী অনুভূতি থেকে কবি গানগুলো লিখেছেন সেসব নিয়ে টুকরো টুকরো কথাও বলেন নন্দিত এ শিল্পী। এ আসরে একক গান পরিবেশন করেন তার সহশিল্পীরাও। আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে ৭ দিনে ২৩ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। বিকেলে সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ছিল আচার্য দিনেশ চন্দ্র সেন স্মারক বক্তৃতা, সন্ধ্যায় নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে ছিল মহাস্থানগড়ে পাওয়া প্রাচীন নিদর্শনের প্রদর্শনী।

জাদুঘর দিবস উপলক্ষে আজ সকালে রয়েছে সেমিনার, স্মারক বক্তৃতা ও সন্ধ্যায় লুভা নাহিদ চৌধুরীর একক সঙ্গীতানুষ্ঠান।

শহীদদের স্মরণ করল ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতিকর্মীরা’ : ১৯৬১ সালের ১৯ মে ভারতের আসাম রাজ্যে বাংলাকে সরকারি ভাষার দাবিতে আন্দোলনরত জনতার ওপর সরকারি বাহিনীর গুলি বর্ষণে ১১ জন বাঙালি শহীদ হন। সে শহীদদের স্মরণ করলেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিকর্মীরা। আলাপন, গান-কবিতার আয়োজন শেষে সে ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধার প্রদীপ প্রজ্বলন করলেন তারা। শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকর্মীদের আয়োজনে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতিকর্মীরা’- নামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আয়োজনের শুরুতেই বহ্নিশিখার শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে গেয়ে শোনায় ‘অপমানে তুমি জ্বলে উঠেছিলে সেদিন বর্ণমালা’ ও ‘ও মুই না বলং’ গান দুটি। এর পর বাচিকশিল্পী মজুমদার বিপ্লব আবৃত্তি করেন আবদুল হাকিমের ‘বঙ্গবাণী’ কবিতাটি। আরিফ রহমান গেয়ে শোনান ভাষা আন্দোলনের প্রথম গান ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলে রে বাঙালি’।

এর পর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন জোটের সহসভাপতি ঝুনা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ ও সিলেট সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম সেলিম। সঞ্চালনায় ছিলেন হানিফ খান।

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘এক সময় আসামে বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। সে রাজ্যের বিধানসভাও পরিচালিত হতো বাংলা ভাষায়। ১৯৫০ সালের পর থেকে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। রাজ্য বিভক্ত হয়ে গেলে অসমীয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায়। সে সময় তারা বাঙালিদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করে। এমনকি বাংলা ভাষার বিদ্যালয় দখল করে অসমীয়া ভাষার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ১৯৬১ সালের ১৯ মে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের নিয়ে আলোচনা হয় না। আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের সংস্কৃতিকর্মীরা তাদের পাশে রয়েছেন।’

হাসান আরিফ বলেন, ‘আমাদের ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে আসামের বাঙালিদের ভাষা আন্দোলনের যোগসূত্রতা রয়েছে। রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষাকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার। ১৯৬১ সালের ১১ জনই শুধু এ আন্দোলনের শহীদ নন, ১৯৬৪ ও ১৯৮৪ সালেও আন্দোলনে সেখানকার বাঙালিরা শহীদ হন। আজও সেই সংকট বিদ্যমান রয়েছে।’

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj