অবৈধভাবে কোটি টাকার সম্পদ অর্জন : চট্টগ্রামে দুদকের অভিযানে রাজস্ব কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

শনিবার, ২০ মে ২০১৭

চট্টগ্রাম অফিস : অবৈধভাবে সোয়া কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে কাস্টমসের এক রাজস্ব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ এলাকা থেকে আবদুুল মমিন মজুমদার (৫৫) নামে ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর ডবলমুরিং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আবদুুল মমিন ঢাকার গুলশান সার্কেল-৪ এর রাজস্ব কর্মকর্তা পদে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নেতরা গ্রামের আবদুল গণি মজুমদারের পুত্র।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর উপসহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর ভোরের কাগজকে বলেন, মমিন ও তার স্ত্রী সেলিনা জামানের বিরুদ্ধে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৪০ লাখ ২৩ হাজার ৮৫৮ টাকার সম্পদ গোপনের অভিযোগ রয়েছে। সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক আইনে কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় আবদুুল মমিন মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মামলায় অপর আসামি মুমিনের স্ত্রী সেলিনা জামানকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মমিনের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হলেও চট্টগ্রামের হালিশহরে তার একটি ছয়তলা ভবন রয়েছে। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১২ সালে তৎকালীন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুুল মমিন মজুমদারের সম্পদের তদন্ত শুরু করে দুদক। তখন সেলিনা জামানকে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ দাখিল করতে নোটিশ দেয় দুদক। এরপর আয়কর বিবরণীতে সেলিনা জামানের দেয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে বাস্তবে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেশি পায় দুদক। এরপর অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করা হয়।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর উপসহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধরের দাখিল করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সেলিনা জামানের নামে আয়কর নথি থাকলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো বৈধ উপার্জন করেন না। তার স্বামী আবদুল মমিন মজুমদার অবৈধ উপার্জনের দ্বারা সেলিনা জামানকে সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন। সেলিনা জামানের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে দেখা যায় তিনি নিজ নামে ২০০৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর হালিশহর এল ব্লুকে (লেন ৩, সড়ক ২, প্লট ১৩) ৩ কাঠা জমি ও আংশিক দালানগৃহ ২০ লাখ টাকায় কেনেন। এরপর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৬ তলা বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে ৮ তলা ভবন তৈরি করেন। যার নির্মাণ ব্যয় ৬৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৮০ টাকা। তিনি নিজ নামে ৫৯/২ আরকে মিশন রোডে ৭৮০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট (পার্কিংসহ) কেনেন ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। ঘোষণা অনুযায়ী তার অর্জিত স্থাবর সম্পদের মূল্য ৮৯ লাখ ১২ হাজার ৯৮০ টাকা।

কিন্তু সম্পদ যাচাইকালে নিরপেক্ষ প্রকৌশল টিম দেখতে পায়, সেলিনা জামান ছয় তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে চিলেকোঠাসহ আটতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ভবনটির সিভিল, স্যানিটারি, পয়ঃপ্রণালি ও পানি সরবরাহ এবং বৈদ্যুতিক কাজের মূল্য ১ কোটি ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৮৩৮ টাকা। অর্থাৎ গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক নিরূপিত নির্মাণব্যয় অপেক্ষা বাড়িটির নির্মাণব্যয় ৪৩ লাখ ২৩ হাজার ৮৫৮ টাকা কম দেখিয়ে আসামি সেলিনা জামান দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন যা দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায় সেলিনা জামান ১ কোটি ২৯ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩৮ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৬৩ লাখ ৪৯৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সময়ে তিনি ২৩ লাখ ১৯ হাজার ৫শ টাকা ব্যয় করেছেন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ