নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ

শনিবার, ২০ মে ২০১৭

ঝর্ণা মনি : জনগণের মন জয় করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে আবারো ক্ষমতায় আসার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ শুরুর পাশাপাশি মাঠ পর্যালোচনা, তৃণমূলের কোন্দল মেটানো, মনোনয়ন জরিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন শীর্ষ নেতারা। আজ শনিবার দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠেয় দলের বর্ধিত সভায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী ২০১৮ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার কথা ভাবছে সরকার। আর আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেড় বছর আগেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে। এর অংশ হিসেবে আজ বর্ধিত সভায় সারাদেশের জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক ও তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকদের গণভবনে ডেকেছেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, বৈঠকে সারাদেশ থেকে আসা নেতাদের কাছে দলের সাংগঠনিক অবস্থার খবর নেবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এরপর খবর অনুযায়ী পরামর্শ দেবেন তিনি। এদিকে, আজকের সভা থেকেই আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভার আয়োজন করেছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। এর মাধ্যমে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতির সর্বাত্মক কাজ শুরু করব আমরা।

তৃণমূলের মুখোমুখি হচ্ছেন মন্ত্রী ও এমপিরা : আজ তৃণমূল নেতাদের মুখোমুখি হচ্ছেন মন্ত্রী ও এমপিরা। সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠেয় বর্ধিত সভায় দলীয় মন্ত্রী এবং এমপিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আ.লীগের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ধিত সভায় ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পাশাপাশি ১৮০ সদস্যের জাতীয় পরিষদ এবং ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের উপস্থিত থাকার বিধান রয়েছে। এর বাইরে আজকের সভায় দলীয় মন্ত্রী এবং এমপিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এদিকে, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তৃণমূল নেতারাই বর্ধিত সভায় দলের তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক অবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুলত্রুটি তুলে ধরার সুযোগ পান। এবারো এর ব্যতিক্রম হবে না বলেই মনে করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা মন্ত্রী ও এমপিরা সমালোচনার মুখোমুখি হতে পারেন। ক্ষমতাসীন দলটির বিভিন্ন জেলায় দলীয় সংসদ সদস্য এবং নেতাদের বিরোধের খবর নানা সময়ই গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। আজকের সভায়ও সেই বিষয়টি উঠে আসার ইঙ্গিত মিলেছে।

এ ছাড়া বৈঠকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে আটজন বক্তৃতা করবেন। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বর্ধিত সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বক্তৃতা করবেন। দলের উপদেষ্টা পরিষদ, দলীয় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদ সদস্য, সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর শাখার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ সবকটি সাংগঠনিক জেলার দপ্তর সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, উপ-দপ্তর সম্পাদক, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকরা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

সুনাম বিনষ্টকারীদের জন্য ‘সুনামী বার্তা’ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনোই দলের সুনাম ক্ষুণœকারী, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বরদাস্ত করেন না। এর আগে অনেক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিষোদ্গার করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে দীর্ঘদিনের আওয়ামী রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও শেষ হয়ে গেছে অনেক ক্ষমতাধর নেতার। আজকের বৈঠকেও দলের সুনাম বিনষ্টকারীদের জন্য ‘সুনামী বার্তা’ আসছে বলে মনে করছেন শীর্ষ নেতারা।

তারা জানান, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার গোপন জরিপের প্রতিবেদন দলীয় নেত্রীর কাছে। সূত্র মতে, আগামী নির্বাচনে বর্তমান এমপিদের মধ্যে একটি বড় অংশই বাদ পড়তে পারেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নিষ্ক্রিয়তা, তৃণমূলে যোগাযোগ না থাকায় এসব এমপির ভাগ্য সুতোয় ঝুলছে বলেও মনে করেন তারা। শুধু বর্তমান দলীয় সংসদ সদস্যই নন, আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেকের আমলনামাই শেখ হাসিনার হাতে রয়েছে। তৃণমূলের মতামত এবং নিজের চালানো জরিপের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দেয়া হবে বলে সংসদ সদস্যদের হুঁশিয়ারও করেছেন তিনি। সম্প্রতি দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠকে কারো মুখ দেখে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে শেখ হাসিনার জরিপ চালানোর কথা এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও জানিয়েছিলেন। গত ৩০ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তৃণমূলে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে জরিপ চালানো হচ্ছে। শেখ হাসিনা কয়েকটি জরিপ পরিচালনা করছেন। তার ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ছয় মাস পর পর জরিপের কথা বলেছেন। এ জরিপে যারা ভালো করবেন, আগামী নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ