অনন্য শাবানা

শনিবার, ১০ জুন ২০১৭

চলচ্চিত্রের এক অসামান্য শিল্পীর নাম শাবানা। এত গৌরবময় ক্যারিয়ার আর কোনো অভিনেত্রীর নেই। দর্শকদের বিপুল ভালোবাসায় ধন্য শাবানার জন্মদিন ১৫ জুন। তাকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন। লিখেছেন স্বাক্ষর শওকত

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

১৯৮৪

আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘ভাত দে’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কারে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন শাবানা। এ ছবিতে জরি চরিত্রে অভিনয় করেন শাবানা। তার বিপরীতে অভিনয় করেন আলমগীর।

১৯৮৭

দিলীপ বিশ্বাস পরিচালিত ‘অপেক্ষা’ ছবিতে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান শাবানা। সহশিল্পী ছিলেন সোহেল রানা ও আলমগীর। পুরস্কৃত প্রতিটি ছবিতে রাজ্জাক নয়তো আলমগীরকে পাশে পেয়েছেন শাবানা।

১৯৮২

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ‘দুই পয়সার আলতা’ ছবিতে জাতীয় পুরস্কার পান। আমজাদ হোসেন পরিচালিত এ ছবিতে শাবানা অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন। এ ছবিতে আরো অভিনয় করেছিলেন রাজ্জাক ও নূতন।

১৯৯১

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে আবারো হ্যাট্রিক করেন শাবানা। শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘অচেনা’ ছবিতে অভিনয় করেই শাবানা পুরস্কার বগলদাবা করেন। সহশিল্পী ছিলেন আলমগীর ও কাঞ্চন।

চার দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চসংখ্যক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে নিজের অভিনয় সামর্থ্যরে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছেন শাবানা। এখানে তার পুরস্কার বিজয়ের তালিকা।

১৯৮৩

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে এ বছর হ্যাট্রিক করেন শাবানা। সুভাষ দত্তের ‘নাজমা’ ছবির জন্য তৃতীয়বারের মতো পুরস্কার জয় করেন শাবানা। এ ছবিতেও তার সহশিল্পী ছিলেন রাজ্জাক। একটানা তিন বছর রাজ্জাককে পাশে নিয়ে শাবনা পুরস্কার পান।

১৯৮০

শাবানা এই প্রথম পুরস্কার গ্রহণ করলেন। আব্দুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘সখী তুমি কার’ ছবিটির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন শাবানা। একই ছবিতে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেলেন নায়করাজ রাজ্জাক।

১৯৮৯

মতিন রহমান পরিচালিত ‘রাঙা ভাবী’ শাবানার নিজের ব্যানারের ছবি। এতে রোকেয়া চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের কারণে শাবানাকে পুরস্কার দেয়া হয়। এ ছবিতে আলমগীর ও নূতন তার সহশিল্পী ছিলেন।

১৯৯০

আজহারুল ইসলাম খান পরিচালিত ‘মরণের পরে’ শাবানাকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার। আলমগীর ও আনোয়ারা অভিনীত ট্র্যাজেডিধর্মী এ ছবিটিতে সাথী নামের চরিত্রে অভিনয় করেন শাবানা।

শাবানার ৫ নায়ক

বিশাল ক্যারিয়ারে শীর্ষ নায়কদের কারো বিপরীতেই অভিনয় করতে দ্বিধা করেননি শাবানা। তিন শতাধিক ছবিতে প্রায় পঞ্চাশজন নায়ককে পাশে পেয়েছেন। তবে সবার সঙ্গে জুটি গড়ে ওঠেনি তার। কারো কারো সঙ্গে আবার সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। শাবানার জীবন থেকে বেছে নেয়া হলো ৫ জন নায়ককে

রাজ্জাক

রাজ্জাক নাকি আলমগীর- শাবানার সঙ্গে কাকে বেশি মানায়, এই প্রশ্নে দর্শকরা আকুল হয়েছেন। রাজ্জাক ও শাবানা দুজনেই জাঁদরেল অভিনয় শিল্পী। তারা একসঙ্গে পর্দায় এলে তা প্রাণভরে উপভোগ করেছেন দর্শকরা। এই জুটি বেশ কিছু কালজয়ী ছবি উপহার দিয়েছেন। জুটি বেঁেধ প্রচুর ছবিতে অভিনয় করেছেন তারা। তাদের সফল ছবির সংখ্যাই বেশি। তারা দুজনে একই ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন। রাজ্জাক-শাবানা অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- মধুমিলন, অবুঝ মন, অমর প্রেম, সোহাগ, অভিমান, সখী তুমি কার, অংশীদার, রজনীগন্ধ্যা, স্বাক্ষর, স্বাধীন ইত্যাদি।

আলমগীর

শাবানার সর্বাধিক ছবির নায়ক আলমগীর। মধ্য আশি থেকে নব্বই দশকের শেষ অবধি শাবানা-আলমগীর বক্স অফিসে তুমুল প্রভাবশালী জুটি ছিলেন। জনপ্রিয়তায় এই জুটি ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন সব মাত্রা। গ্রামে-গঞ্জে-হাটে-মাঠে ছড়িয়ে গিয়েছিল এই জুটির দাপট। বাণিজ্য সফল, শিল্পশোভন চমৎকার সব ছবিতে কাজ করেছেন শাবানা-আলমগীর জুটি। এই জুটি যেসব ছবিতে অভিনয় করে নন্দিত হয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ছবি হচ্ছে- মান-সম্মান, ঘরের বউ, সখিনার যুদ্ধ, অস্বীকার, অশান্তি, সত্য মিথ্যা, মরণের পরে, গরীবের বউ, পিতামাতার সন্তান ইত্যাদি।

ওয়াসীম

সত্তর দশকে, রাজ্জাক কিংবা আলমগীরের সঙ্গে জুটি বেঁধে ব্যস্ত হওয়ার আগে, শাবানার পয়মন্ত নায়ক ছিলেন ওয়াসীম। ইবনে মিজানের ‘ডাকু মনসুর’, শফি বিক্রমপুরীর ‘রাজদুলারী’, শামসুদ্দিন টগরের ‘বানজারান’, দেওয়ান নজরুলের ‘দোস্ত দুশমন’, মমতাজ আলীর ‘ইমান’ ছবিগুলো সুপার-ডুপার হিট ব্যবসা করে। এই জুটির আরো ছবির মধ্যে রয়েছে ‘ঘরে-বাইরে’, ‘ওমর শরীফ’, ‘আলতা বানু’ ইত্যাদি। বাণিজ্যিকভাবে দারুণ সফল ছিলেন ওয়াসীম-শাবানা জুটি। এই জুটির ছবি মানেই রজতজয়ন্তী, সুবর্ণজয়ন্তী সপ্তাহের ছড়াছড়ি। প্রদর্শকদের স্মৃতিতে এই জুটি এখনো বিরাজমান।

নাদিম

পাকিস্তানের ডাকসাইটে চিত্রনায়ক নাদিমের সঙ্গেই প্রথম জুটি গড়ে ওঠে

শাবানার। নাদিম-শাবানাকে নিয়ে ‘চকোরি’র মতো দর্শকধন্য ছবি নির্মাণ করেছেন এহতেশাম। আরো কিছু সফল ছবি তিনি নির্মাণ করেছেন এই জুটিকে নিয়ে। নাদিম-শাবানা কয়েক দশক ধরে দর্শকদের এবং মিডিয়ার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। শাবানা তার নিজের ব্যানারেও নাদিমকে নিয়ে কাজ করেছেন। নাদিম-শাবানা জুটি বেঁধে উর্দু ও বাংলা এই দুই ভাষাতেই হিট ছবি দিয়েছেন। নাদিম-শাবানা অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- আনাড়ি, শক্তি, চাঁদ অউর চাঁদনী, ঝড় তুফান, কুলি, দাগ ইত্যাদি।

জসীম

ভিলেন থেকে নায়ক হোন জসীম। নায়িকা হিসেবে পাশে পান শাবানাকে। জহিরুল হকের ‘সারেন্ডার’ এই জুটিকে প্রথম দর্শক-প্রযোজকদের নজরে নিয়ে আসে ব্যাপকভাবে। শাবানা-জসীম জুটি একের পর এক সুপারহিট ছবি বক্স অফিসে উপহার দিয়ে নির্ভরযোগ্য এক জুটিতে পরিণত হোন শাবানা-জসীম। শেষের দিকে শাবানার বেশির ভাগ ছবির নায়ক ছিলেন জসীম। এই জুটির দর্শকপ্রিয়তা শেষদিন পর্যন্ত অটুট ছিল। শাবানা-জসীম জুটির ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাজের বেটি রহিমা, মাস্তান রাজা, কালিয়া, বিশ্বনেত্রী, স্বামী কেন আসামী, জিদ্দি ইত্যাদি।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj