ভোটার হালনাগাদ : রোহিঙ্গা অন্তর্ভূক্তিরোধে বিশেষ শর্ত দেখাতে হবে বাবা-মায়ের এনআইডি

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

কাগজ প্রতিবেদক : ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে বিশেষ এলাকার পরিধি বাড়ানোসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহত্তর চট্টগ্রামের যেসব এলাকায় রোহিঙ্গারা বসবাস করছেন সেসব এলাকার জনগণকে ভোটার হতে হলে তার বাবা-মা, ফুফু বা চাচার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখাতে হবে এবং ওই এলাকার জনগণকে ভোটার করার জন্য বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

গতকাল সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসি সচিব আবদুল্লাহ বলেন, হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মোট সাত ধরনের কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে তারা এখন আর কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলে ইসির কাছে তথ্য এসেছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে তার ওপর বিস্তারিত নির্দেশনা দেয়া আছে। এ ক্ষেত্রে এসব এলাকায় কেউ ভোটার হতে চাইলে বাবা-মায়ের এনআইডি, ফুফু-চাচার এনআইডি, প্রয়োজনে অন্য আত্মীয়ের এনআইডিও প্রমাণ হিসেবে দিতে হবে। এছাড়া আরো অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশেষ কমিটি বিদেশিদের বা রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করবে।

সচিব বলেন, রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়ার বিশেষ এলাকা আছে। এর আগে ২০টি উপজেলা ছিল। এবার আরো ১০টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ৩০টি এলাকার জন্য বিশেষ কমিটিও রয়েছে। বিশেষ এলাকার যে কার্যপরিধি আছে সেখানেও নির্ধারিত করা আছে কী কী বিষয় তারা দেখবেন।

তিনটি ধাপে মোট ৭২ দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ৩১ জানুয়ারি ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ২০০০ বা তার আগে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে এবার তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে ১৩ নম্বর ফরম পূরণ করে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করা যাবে। তবে তথ্য হালনাগাদে নাম সংশোধনের বিষয়টি রাখা হয়নি। নাম বা অন্য যে কোনো সংশোধনের জন্য যে কোনো দিন নির্দিষ্ট অফিসে গিয়ে কার্য সম্পাদন করা যাবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj