ডিজিটাল শিক্ষাবঞ্চিত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা : মির্জাগঞ্জে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : উপজেলার ২০৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৩টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা নিতে পারছে না। সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বিদ্যালয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে এসব সরঞ্জাম পাওয়ার পরও কোনো কাজে আসছে না।

উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মির্জাগঞ্জে ২০৩টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব মির্জাগঞ্জ এস এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমড়াগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুবিদখালী খাতুনে জান্নাত বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, হাওলাদার ফাউন্ডেশন ওমেন্স কলেজ, আন্দুয়া আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, চত্রা ওলামা মঞ্জিল আল আমিন দাখিল মাদ্রাসা, বাজিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর চৈতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর রানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাবুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।

বাজিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল করিম জানান, বিদ্যালয়ের পাশেই মাত্র ১০০ ফুট দূরে বিদ্যুতের লাইন আছে। শুধু একটি খুঁটি হলেই আমরা এ বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে পারি। তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একদিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা দেয়া যাচ্ছে না, অপরদিকে প্রচণ্ড গরমে শ্রেণি কক্ষে পাঠদানেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, যেসব বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সেই সব বিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান মো. আবু বকর সিদ্দিকী জানান, যেসব বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, ওই সব বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কার্যক্রম চলছে। বর্তমান সরকার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলাকে নিয়ে একটি মেগা প্রকল্প চালু করেছে। আশা করা যায়, ২০১৮ সালের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ