উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সিভিল সার্জন : চিকুনগুনিয়ায় চট্টগ্রামে দুএকজন আক্রান্ত

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

চট্টগ্রাম অফিস : কিছুদিন আগে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম জেলায় চিকুনগুনিয়ার কোনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি মন্তব্য করলেও গত রোববার জেলা সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী তার সেই বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন। গত রোববার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির জুলাই মাসের সভায় তিনি বলেন, দেশের কিছু অঞ্চলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় মানুষ আক্রান্ত হলেও চট্টগ্রাম জেলায় তেমন আক্রমণ করতে পারেনি। তবে চিকুনগুনিয়ার দুএকজন রোগী আছেন। তারা সুস্থ আছেন। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন ও করণীয় নির্ধারণে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় কাজ করছে। এছাড়া ফেসবুকে আমার প্রায় ৩০ হাজার ফ্রেন্ড আছে (ফলোয়ারসহ)। আমি এ বিষয়ে সেখানেও (ফেসবুক) জানাব ভাবছি।

জেলা সিভিল সার্জনের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কিছু মানুষ আছে ফেসবুক লাইভে এসে আজাইরা কথা বলে। কোনো কাজের কথা বলে না। খুব বিরক্ত লাগে। আপনি ফেসবুক লাইভে এসে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন, চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে মানুষদের জানান, তাদের সতর্ক করেন।’ জুন মাসের চট্টগ্রাম জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি তাদের এলাকায় সরকারি চিকিৎসকরা যান না বলে অভিযোগ করেছিলেন। সেই সভায় জানানো হয়, চন্দনাইশের দুর্গম এলাকা ধোপাছড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সপ্তাহে একদিন করে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য পাঁচ জন চিকিৎসককে নির্দেশ দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। কিন্তু দুর্গম এই অঞ্চলে তাদের কেউ কেউ কাজে অনিয়মিত হওয়ায় তাদের শোকজ করা হয়। গতকালের সভায় সেই শোকজের জবাব সন্তোষজনক নয় বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায় বলে সুপারিশ করেন তিনি। সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, চাইলেই তো বদলি করা যায় না। তাই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৩ সপ্তাহের জন্য রাঙ্গামাটিতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য উপজেলা যেসব চিকিৎসক নিয়মিত নন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সভায় চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত উপজেলার চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ৪২টি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা তাদের বক্তব্যে সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj