ফেনীছড়া নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে মাটিরাঙ্গার বিস্তীর্ণ জনপদ

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

দিদারুল আলম, গুইমারা (খাগড়াছড়ি) থেকে : থামছে না ফেনীছড়া নদীর করাল। প্রতি বছরই ফেনীছড়া নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে মাটিরাঙ্গার বিস্তীর্ণ জনপদ। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি। এবারের টানা বর্ষণেও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না।

পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন ৪০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধীন আমতলী বিওপি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির তোড়ে ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একইভাবে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে দেওয়ান বাজার ও অযোধ্যা সীমান্ত এলাকায়। টানা বর্ষণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১ কিলোমিটার নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। দেওয়ান বাজার এলাকায় পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. খালিদ আহমেদ পিএসসির উদ্যোগে ব্লুক স্থাপনের মাধ্যমে ভাঙনরোধের চেষ্টা করলেও তা কাজে আসছে না। আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবদুল গণি বলেন, অব্যাহত ভাঙনের বিষয়টি পলাশপুর জোন কমান্ডার ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। বাংলাদেশের ভূখণ্ড রক্ষায় নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্লুক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম মশিউর রহমান বলেন, পলাশপুর বিজিবির জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. খালিদ আহমেদ পিএসসির মাধ্যমে ভাঙনের খবর পেয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ছবিসহ জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছি। জেলা প্রশাসক ফেনীছড়া নদীর ভাঙনরোধে প্রকল্প গ্রহণের সহায়তা চেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়েছেন। আশা করছি খুব শিগগিরই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ সময় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশের ভূখণ্ড রক্ষার স্বার্থে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক মো. শাহ এমরান ও মো. মনির হোসেন বলেন, ফেনীছড়া নদীর ভাঙনের ফলে দিন দিন বাংলাদেশের ভূখণ্ড নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে করে জমি কমে যাচ্ছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তাদের অনেক কষ্টে বোনা ফসল। ফেনীছড়া নদীর ভাঙনরোধে সরকারের জরুরি উদ্যোগ দাবি করেন তারা।

ইতোমধ্যেই অনেক সীমান্ত পিলার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে উল্লেখ করে পলাশপুর বিজিবির জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. খালিদ আহমেদ পিএসসি অব্যাহতভাবে ফেনীছড়া নদীর ভাঙনের বিষয়টি বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ফেনীছড়া নদীর ভাঙনের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। দেওয়ান বাজার এলাকায় বিজিবির উদ্যোগে ভাঙনরোধে ব্লুক স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj