ডুমুরিয়ায় জুয়াড়িরা সক্রিয় : প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কৌশলে চলছে জুয়াখেলা

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়ায় প্রশাসনিক চাপে চিহ্নিত জুয়াড়িরা কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও হঠাৎ করে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তারা পরিচালনা করছে জমজমাট জুয়ার আসার। উপজেলার বিভিন্ন স্পট বেছে নিয়েছে এই চক্রটি। আর এ আসরে অংশ নিচ্ছে খুলনা জেলাসহ আশপাশ এলাকার জুয়াড়িরা। জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার জুয়াড়িরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

প্রশাসনিক চাপে তারা কিছুটা ছিন্নভিন্ন অবস্থায় থাকলেও বর্তমানে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন উপজেলার কোথাও না কোথাও আসরের আয়োজন করছে ওই চক্রটি। আর এ জন্য তারা বেছে নিয়েছে বিভিন্ন বিলের ভেতরে থাকা মৎস্য ঘেরের বাসা। মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে জুয়াড়িদের স্পটের বিষয়ে জানান দেয় আয়োজকরা।

আর ঠিক সময়মতো হাজির হয় জুয়াড়িরা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ খেলা চলে। তবে প্রশাসনের নজর এড়াতে তাদের রয়েছে অনেক জনবল। মোড়ে মোড়ে বসানো থাকে নিরাপত্তাকর্মী। কোনো প্রকার পুলিশি উপস্থিতি দেখলেই খবর পৌঁছে যায় নিয়ন্ত্রণকারীর কাছে। আবার জুয়াড়িদের আপ্যায়নের কাজেও আলাদা আলাদা কর্মী রাখা আছে। পান-সিগারেটসহ খাদ্য সামগ্রী ওই কর্মীরা সরবরাহ করে থাকে। তবে একই স্থানে তারা বেশিদিন অবস্থান করে না। তিন থেকে সর্বোচ্চ চারদিন তারা একই জায়গায় অবস্থান করে। এর মধ্যে খলশি গাজী বাড়ির পাশে বিলে, মাধবকাঠি বিলে মৎস্য ঘেরের বাসায়, খর্ণিয়া বাজারের তেলপাম্পের উত্তরপাশে, বারুইকাঠি গেটের পাশে, আঠারো-মাইল বাজারের পাশে রয়েছে স্পষ্ট। আর এ আসর নিয়ন্ত্রণ করে উপজেলার চিহ্নিত কয়েকজন জুয়াড়ি।

ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ সুকুমার বিশ্বাস বলেন, জুয়াড়িদের তৎপরতার খবর আমি পেয়েছি। ক্ষমতাসীন দলের কিছুসংখ্যক নেতার গোপন ইন্ধনে তারা বেড়ে উঠেছিল। আমি যোগদানের কিছুদিন পরে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে প্রাথমিকভাবে তাদের থানায় ডেকে জুয়া-কারবার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি। বর্তমানে তাদের জুয়া-কারবার বন্ধ। তাছাড়াও অভিযান অব্যাহত রয়েছে, সেক্ষেত্রে কোনো জুয়াড়িকে ছাড় দেয়া হবে না।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj