আশুলিয়ায় আত্মসমর্পণকরা জঙ্গি রাশেদুন নবীর বাড়ি ফুলছড়ি

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি রাশেদুন নবীর বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ উদাখালী গ্রামে। তার পুরো নাম রাশেদুন নবী ওরফে রাশেদ (২১)। সে ওই গ্রামের হোমিও চিকিৎসক রেজাউল করিমের ছেলে। মা রিনা বেগম গৃহিণী। দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে রাশেদুন নবী চতুর্থ। সবার বড় বোন রেহেনা খাতুন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তিনি বাবার বাড়িতেই থাকেন। অপর দুই বোন ইসমত আরা ও নাজমুন নাহারের বিয়ে হয়েছে। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই রানা মিয়া ঢাকার একটি কলেজে মাস্টার্সে পড়েন। রাশেদুন নবী ওরফে রাশেদ উদাখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে। ২০১৪ সালে একই উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জমিলা আক্তার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। পরে সে প্যাথলজি বিষয়ে বগুড়া সাইক ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল টেকনোলজিতে ভর্তি হয়। বর্তমানে সে চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র।

গাইবান্ধা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ উদাখালী গ্রাম। উদাখালীর ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন রাশেদুন নবীর টিনশেড বাড়ি। গতকাল সোমবার বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, রাশেদুন নবীর বাবা রেজাউল করিম বাড়িতে নেই। জমিতে গেছেন। মা রিনা বেগম ঘরে শুয়ে আছেন। বাড়িতে লোকজন নেই বললেই চলে।

পরে ডেকে নেয়া হলে রাশেদুন নবীর বাবা রেজাউল করিম গতকাল সোমবার বিকেলে বলেন, আমার ছেলে রাশেদুন নবী বগুড়ার একটি মেসে থেকে পড়ালেখা করত। গত এপ্রিল মাসের ২৭ তারিখ সে বাড়ি আসে। বাড়িতে কয়েক দিন থাকার পর গত ১ মে আমার কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে বগুড়া যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরদিন তার কলেজ থেকে ফোন আসে, আপনার ছেলে পরীক্ষায় অনুপস্থিত। ওই দিনই আমি বগুড়ায় গিয়ে প্রথমে কলেজে ও পরে তার মেসে খোঁজ নেই। তার মেসের মালিক আমাকে জানান, দুজন অপরিচিত ছেলে আপনার ছেলের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে মেসে থাকত। আমি বাধা দেয়ায় তারা অন্য মেসে চলে যায়। এরপর কিছু ‘জানি না’ বলে ওই মেস মালিক আমাকে জানিয়ে দেন।

রেজাউল করিম আরো বলেন, তখন থেকে থানা পুলিশসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও ছেলের সন্ধান পাইনি। পরে গত ২২ মে বগুড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। গত রোববার ফেসবুকের মারফত জানতে পারি আমার ছেলে আত্মসমর্পণ করেছে। তার মা রিনা বেগম নিজের ভাষায় বলেন, ‘হামার ছোলটে ভালো আচিলো। কোনো দিন অন্যায় করে নাই।’ রাশেদুন নবী জঙ্গি হিসেবে আত্মসমর্পণ করায় তার বাবা-মা বিস্মিত হয়েছেন।

এদিকে দক্ষিণ উদাখালী গ্রামবাসী জানান, আগে রাশেদুন নবীর চলাফেরায় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। এমনকি এলাকায় কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে সে জড়িত ছিল না। রাশেদুন নবীর বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল বিকেলে ফুলছড়ি থানার ওসি আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, রাশেদুন নবীর নামে থানায় কোনো মামলা নেই।

গত রোববার ঢাকার আশুলিয়ার চৌরাপাড়া গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ১১ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর র‌্যাবের কাছে ৪ জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে। তারা জঙ্গি সংগঠন জেএমবির তামিম-সারোয়ার গ্রুপের সদস্য।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ