বন্যাদুর্গত এলাকার একটি মানুষও না খেয়ে মরবে না : ত্রাণমন্ত্রী

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

তৈয়বুর রহমান, কুড়িগ্রাম থেকে : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুলী মায়া এমপি বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার সব সময় প্রস্তুত রয়েছে, গুদামে যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য মজুত রয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকার কোনো মানুষ না খেয়ে থাকবে না। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নদীভাঙনের শিকার প্রত্যেকটি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বানভাসি মানুষের ত্রাণ নিয়ে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যাতে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে এ জন্য প্রশাসনসহ দলীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। এর ব্যত্যয় ঘটলে সে যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে শতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি গৃহহীন সবাইকে গৃহনির্মাণ করে দিতে বলেছেন। পানি না নামা পর্যন্ত প্রকৃত অসহায় ও দুর্গতদের তালিকা তৈরি করে সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি বানভাসিদের পাশে না দাঁড়িয়ে চিকিৎসার নামে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। দুর্যোগের সময় তারা দুঃখী মানুষের পাশে থাকে না, এদের চিনে রাখুন।

গতকাল সোমবার সকালে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার প্রত্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে দ্বীপচর শাখাহাতীর আশ্রয়ন প্রকল্প মাঠে এবং উলিপুর উপজেলার চাঁদনী বজরা সরকারি প্রাথমিক মাঠে পৃথক পৃথক সমাবেশে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। চিলমারীর শাখাহাতীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ও উলিপুরের বজরা ইউনিয়নে তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি। সমাবেশে এাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল বানভাসিদের পুনর্বাসন বিষয়ে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত সচিব খালেদ মাহমুদ, যুগ্ম সচিব মো. মোহসিন, যুগ্ম সচিব আলী রেজা, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলী, জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, উলিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হায়দার আলী মিঞা, চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

এর আগে সকালে মন্ত্রী চিলমারী উপজেলার চর শাখাহাতী গ্রামে ব্রহ্মপুত্রের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার পরিবারের মাঝে এাণ বিতরণ করেন।

কুড়িগ্রামের জন্য বিশেষ ত্রাণ বরাদ্দ : মন্ত্রী আগের দিন রোববার রাত ১০টায় কুড়িগ্রামে পৌঁছে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় মিলিত হন। তিনি পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর কুড়িগ্রাম জেলার বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তাৎক্ষণিকভাবে আরো ৫০০ টন চাল, নগদ ১০ লাখ টাকা, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং নদীভাঙনের শিকার মানুষের জন্য ৫০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ বাবদ ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj