ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রকাশ বৃহস্পতিবার : কোভিন্দই যাচ্ছেন রাইসিনা হিলে!

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

কাগজ ডেস্ক : জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ ভারতের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে। আগামী বৃহস্পতিবার এ নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হবে। পরোক্ষ এ নির্বাচনে লোকসভা, রাজ্যসভা ও বিধানসভার সদস্যরা ভোট দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ভারতের একজন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করছেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লোকসভার ৫৪৩, রাজ্যসভার ২৩৩ এবং ভারতের ২৯ রাজ্য এবং দিল্লি ও পন্ডিচেরির মোট ৪ হাজার ১২০ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের প্রার্থী রামনাথ কোভিন্দই জয়ের মালা গলায় তুলে নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলিত সম্প্রদায়ের এ নেতা এর আগে ছিলেন বিহারের রাজ্যপাল। তার প্রতিদ্ব›দ্বী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএর প্রার্থী লোকসভার সাবেক স্পিকার মীরা কুমার। তিনিও দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।

রাজনীতির এ খেলায় প্রধান দুই জোটই এবার প্রার্থী বেছে নিয়েছে দলিত সম্প্রদায় থেকে। ফলে ১৯৯৭-২০০২ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী কে আর নারায়ণের পর এবার দ্বিতীয় দলিত রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে ভারত। দিল্লির পার্লামেন্ট ভবন এবং সব রাজ্যের বিধানসভায় ভোটগ্রহণ চলে। এসব ভোট গণনা হবে আগামী ২০ জুলাই, বৃহস্পতিবার। আগামী ২৪ জুলাই ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মেয়াদপূর্তির পরদিন শপথ নিয়ে দিল্লির রাইসিনা হিলের রাষ্ট্রপতি ভবনে উঠবেন নতুন রাষ্ট্রপ্রধান।

বিবিসি জানায়, ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তাদের শরিক দলগুলোর বিধায়ক সংখ্যা ধরে হিসাব করলে ৭১ বছর বয়সী রামনাথ কোভিন্দের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। তা ছাড়া জনতা দল ইউনাইটেড, বিজু জনতা দল, এআইএডিএমকে ও তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির মতো আঞ্চলিক দলগুলো এনডিএর প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় বিরোধী শিবির বড় ধাক্কা খেয়েছে।

পেশায় আইনজীবী রামনাথ কোভিন্দ বিহারের গভর্নর হওয়ার আগে দুবার রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর তার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী ৭২ বছর বয়সী মীরা কুমার ২০০৯ সালে লোকসভার স্পিকার হওয়ার আগে পাঁচবার লোকসভার সদস্য ছিলেন।

ভারতের ইতিহাসে কেবল প্রথম রাষ্ট্রপতি বাবু রাজেন্দ্র প্রসাদ দুই মেয়াদে ওই পদে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। কংগ্রেসের সময়ে রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ফের রাষ্ট্রপতি করার প্রস্তাব কোনো কোনো দল দিলেও ক্ষমতাসীনরা তা মানেনি। হিন্দুত্ববাদীদের সমর্থনে ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিজেপি এই প্রথম নিজেদের আদর্শের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পেয়েছে।

ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গণনা পদ্ধতি সাধারণ নির্বাচনের মতো সরল নয়। সাধারণ নির্বাচনে প্রতিটি ভোটের মান সমান হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের মান নির্ভর করে ভোটারের ওপর। ভোটার যদি লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য হন তাহলে তার ভোটের মান ৭০৮। আবার বিধানসভার সদস্যদের ভোটের মান নির্ধারিত হয় ওই বিধানসভার মোট আসন ও জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে। এ বিচারে উত্তর প্রদেশের বিধায়কদের ভোটের মান সবচেয়ে বেশি, ২০৮। আর সিকিম ও অরুণাচলের বিধায়কদের ভোটের মান সবচেয়ে কম, মাত্র ৮।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj