ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে রাজনীতিকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

এন রায় রাজা : জাতীয় নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। কোনো কোনো দল এটিকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করলেও কোনো কোনো দল রোডম্যাপ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। গতকাল সোমবার দলগুলোর পক্ষ থেকে ভোরের কাগজকে এমনি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

ইসি প্রদত্ত রোডম্যাপকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যদিও গতকাল দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোডম্যাপটি বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেখে আমরা কথা বলব। তারা যা বলেছেন, তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটা দেখতে চাই আমরা।

তবে রোডম্যাপ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক বিরোধীদল বিএনপি। গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সম্প্রতি ইসি একাদশ জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। নির্বাচন করতে হলে সব রাজনৈতিক দলকে একই রাস্তায় নিয়ে আসতে হবে, সেই রাস্তা কোথায়? রোডই যখন নেই তখন ম্যাপে কী হবে? তিনি বলেন, আগে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন। অন্যথায় নির্বাচনী রোডম্যাপ সার্থক হবে না। আর ব্যর্থ হলে এর দায় আপনাদের নিতে হবে।

এদিকে মহাজোট সরকারের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ এটিকে স্বাগত জানিয়েছে। দলটির সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সমগ্র নির্বাচন নিয়ে ইসির যে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি দরকার সেটি রোডম্যাপে প্রকাশিত হয়েছে। কোনো একটি জাতীয় নির্বাচনের বিশাল কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে যে টাইম ফ্রেম থাকে সে অনুযায়ী ইসির কাজ এতে প্রকাশিত হয়েছে। এটি সময়মতো বাস্তবায়িত হলে ইসি তার দক্ষতা ও সক্ষমতা প্রকাশ করতে সমর্থ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরেক শরিকদল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, এটি ইসির স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে। কোনো একটি নির্বাচনের আগে একটি কর্মপরিকল্পনা অবশ্যই থাকতে হবে। সুতরাং এটি তারা করেছে, যাকে সাধুবাদ জানাই।

মেনন বলেন, তবে সংলাপের মাধ্যমে কোনো দলের যদি মতামত থাকে তা দেবার সুযোগ রয়েছে। যেমন, আইনের সংস্কার বিষয়ে এবং সংসদীয় আসনের ডিলিমিটেশন নিয়ে দলের প্রস্তাব তারা দেবেন বলেও জানান। তাই এখুনি এটাকে নেতিবাচক বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।

আবার জাতীয় সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টি ইসি প্রদত্ত রোডম্যাপকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে। জাপার কো- চেয়ারম্যান জি এম কাদের মনে করেন, রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়গুলো এগিয়ে নেবার জন্য টাইম ফ্রেমও এতে রয়েছে। সে কারণে ইসি জবাবদিহিতার মধ্যে পড়বে। যদি ফেল করে তাহলে সমালোচনাও হবে। সুতরাং আশা করি কমিশন টাইম ফ্রেম অনুযায়ী তাদের কর্মপরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবে।

যদিও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ইসি প্রদত্ত রোডম্যাপকে প্রহসনমূলক কাজের আরেকটি নিদর্শন বলে মন্তব্য করেছে। দলটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম গতকাল ভোরের কাগজকে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে টেকনিক্যাল কার্যক্রম তাই রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু এখানে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ব্যবস্থাপনার যে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে তার কোনো নিদর্শনই নেই, যেমন সংখ্যানুপাতে আসন বণ্টন, সংখ্যালঘু ও দলিতদের জন্য আসন সংরক্ষণ, পেশিশক্তি বা কালো টাকা ব্যবহারের প্রতিরোধ ইত্যাদি নিশ্চিত করা দরকার ছিল। এসব কোনো কিছুই রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত নেই। তাই এটি সরকারের প্রতি আনুগত্যের গতানুগতিক নিদর্শন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইসির রোডম্যাপ নিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নীতিগত বিষয়সহ দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করার কোনো নিদর্শন এ রোডম্যাপে নেই। এটি কারিগরি সমস্যার সমাধান করলেও মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ