আরো চাল এসেছে ভিয়েতনাম থেকে : দাম নিম্নমুখী বাজারে স্বস্তি

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

আহসান হাবিব, চট্টগ্রাম অফিস : চাল আমদানিতে ১৮ শতাংশ শুল্ক কমানোর পর সরকারি ও বেসরকারিভাবে চাল আমদানি বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। সব ধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি ২-৩ শ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এক মাসের ব্যবধানে তা কেজিতে ৪-৫ টাকা কমেছে। আমদানি শুল্ক কমানোর ঘোষণার পর ভারত ও মিয়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণে চাল আসছে। শুধু আমদানিকৃত চাল নয়, উত্তরবঙ্গ থেকেও চাল দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়াতে চালের বাজার কমতে শুরু করেছে। ফলে জনমনে স্বস্তি ফিরছে।

প্রসঙ্গত, চাল আমদানিতে আগে ২৮ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। কিন্তু সাম্প্রতিককালে দেশে বন্যার কারণে ধান-চালের সংকট দেখা দেয়ায় এই শুল্ক ১৮ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ চাল আমদানির ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এদিকে ভিয়েতনাম থেকে সরকারিভাবে আমদানি করা আড়াই লাখ টন চালের প্রথম চালান গত ১৩ জুলাই ২০ হাজার টন ও দ্বিতীয় চালান ২৭ হাজার টন চাল নিয়ে ‘এমভি ভিসাদ ও এমভি ট্যাক্স নামে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার থেকে ভিয়েতনাম থেকে আনা চাল খালাস করা হবে। এছাড়া ভিয়েতনাম থেকে সরকারিভাবে আরো ২ লাখ টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র।

খাদ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, ভিয়েতনাম থেকে আরো ২ লাখ টন চাল আমদানির জন্য চুক্তি করা হয়েছে। এগুলো ধারাবাহিক আসবে। তবে প্রথম চালানের চাল নিয়ে বহির্নোঙরে থাকা বড় জাহাজ এবং লাইটারিং করা ছোট জাহাজ জেটিতে ভিড়বে আজ (মঙ্গলবার)। এরপর ট্রাকে খালাস করা হবে। খাদ্য অধিদপ্তর সড়ক, রেল ও নৌপথে পণ্য পরিবহনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা আছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় পরিবহনের ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট খাদ্য অধিদপ্তরের দুটি সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো (সিএসডি) আছে। এখানে ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিকটন। চট্টগ্রাম ছাড়াও সিলেট ও ঢাকা বিভাগের খাদ্য গুদামে পৌঁছে দেয়া হবে। এদিকে ভিয়েতনাম থেকে আরো ২৭ হাজার টন চাল নিয়ে গত সোমবার ‘এমভি ট্যাক্স’ নামে আরেকটি বড় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে। এমভি ক্যাটারিং নামে অপর একটি জাহাজ আগামী ২২ জুলাই এসে পৌঁছাবে।

এদিকে চালের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা আতপ ও বেতি চাল ছাড়া অন্যান্য চালও বস্তাপ্রতি প্রায় তিনশ টাকা হারে কমেছে। পাইকারি বাজারে মিনিকেট আতপ বিক্রি হচ্ছে বস্তাপ্রতি ২৪০০ টাকা, যা আগে ছিল বস্তা ২৭০০ টাকা, ২৬০০ টাকার আশুগঞ্জ সুপার বেতি বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ টাকায়, সাধারণ বেতি ২০০০ টাকা, ভারতীয় সিদ্ধ ২০০০ টাকা থেকে ২১০০ টাকা, দেশি পাইজাম ২৩০০ টাকা, জিরাশাইল ২১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একমাস আগে এসব চাল বস্তাপ্রতি ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মোটা আতপ চাল মানভেদে কেজিতে ৩৪-৩৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে। একমাস আগেও এই চাল ৩৮-৪০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়েছিল। ভারতীয় আমদানি করা বেতি চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকা ধরে। একমাসের ব্যবধানে তা কেজিতে ৪-৫ টাকা কমেছে। মোটা সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৩৭ টাকা। মিয়ানমার থেকে আমদানি করা বেতি ইতোমধ্যেই বাজারে এসেছে। মিয়ানমারের বেতি চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৪ টাকা দরে।

চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও মেসার্স আলম এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. এনামুল হক ভোরের কাগজকে বলেন, সরকার চাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর ঘোষণার পর প্রচুর পরিমাণে চাল আমদানি হচ্ছে। মিয়ানমার ও ভারত থেকে প্রচুর চাল আসছে। এরপর থেকে সব ধরনের চাল বস্তাপ্রতি ২-৩ শ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তিনি বলেন, সরকার চাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর পর ভারত ও মিয়ানমার সরকার চালের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। না হলে চালের দাম আরো কিছুটা কমত। তারপরও আমদানিকৃত চালের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চল থেকেও চাল আসতে শুরু করেছে। এর ফলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে চালের পাইকারি ও খুচরা বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ