প্রধানমন্ত্রীর শঙ্কা : নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র চলছে

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় অরাজনৈতিক সরকারকে আনার জন্যই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে ওই মহল। কারণ, ওরা ক্ষমতায় এলে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি নামধারী একটি মহল নানা রকম সুবিধা নিতে পারে। আবার অনির্বাচিত সরকারও ওই মহলটি ছাড়া চলতে পারে না। তবে আমরা কোনো ভয়ে ভীত নই। সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। সংবিধানের বিধিবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এমন মন্তব্য করেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ভোরের কাগজকে জানিয়েছেন।

বৈঠক সূত্র আরো জানায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার হঠাৎ যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়া নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিসভার একাধিক সিনিয়র সদস্য। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উনি আর দেশে আসবেন কিনা জানি না…? মামলার ভয়ে হয়ত বিদেশ পালিয়েছেন। উনি (খালেদা জিয়া) এতিমদের টাকা-পয়সা মেরেছেন, দুর্নীতি করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে, এজন্য তার সাজাও হতে পারে। এই মামলার ভয়েই তিনি পালিয়ে গেছেন। এভাবে পিলখানায় বিডিআরের ঘটনার পরও তিনি গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। এবার নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বিদেশে গেছেন। হয়ত সেখান থেকে নতুন ষড়যন্ত্র করবেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) নিয়ে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়। আলোচনায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার কয়েকজন সিনিয়র সদস্য। এমন আলোচনার সময় নির্বাচনসংক্রান্ত ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। কীভাবে নির্বাচন হবে সেটা সংবিধানেই বলা আছে। এটা নির্বাচন কমিশনই দেখবে। তারা তাদের মতো করে কাজ করবে। এ নিয়ে আমাদের কথা বলার দরকার নেই। পক্ষে-বিপক্ষে মতামত ব্যক্ত করারও প্রয়োজন নেই। কিছু মানুষ আছে তারা চান নির্বাচন যাতে না হয়। নির্বাচন না হলে আর অনির্বাচিত ব্যক্তিরা ক্ষমতায় এলে তারা ক্ষমতার ভাগ পায়। সরকারপ্রধান আরো বলেন, আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসুক। সব দল নির্বাচনে এলে ভালো হয়, নির্বাচন অধিকতর গ্রহণযোগ্য হয়। কিন্তু কোনো দল যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে আমাদের কিছু করার নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিএনপি নামক দলটি যদি আরেকবার ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশে পাকিস্তানি ভাবাদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দেবে। এজন্য বিএনপিকে আমরা বিরোধীদল হিসেবেও দেখতে চাই না। তিনি বলেন, যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন আওয়ামী লীগ তাতে ভয় পায় না। কারণ পাকিস্তানের মুসলিম লীগের খোলা তরবারির নিচে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল।

মন্ত্রিসভার একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে সবাইকে সতর্ক হয়ে কথা বলতে হবে। আবার দলের সভাপতি হিসেবে আমিও সব সময় কথা বলতে পারি না। মন্ত্রিসভার ওই সদস্য আরো জানান, ইসির রোডম্যাপ নিয়ে দলের অবস্থান জানাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে কথা বলার দায়িত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেছেন, এই রোডম্যাপ বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা দেখতে হবে। এজন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।

রোডম্যাপের বিষয়ে অতি উৎসাহী না হতে সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোডম্যাপ ইসির বিষয়। এই রোডম্যাপ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আপনারা কোনো মন্তব্য করবেন না। রোডম্যাপ নিয়ে মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা যেন একেক জন একেক ধরনের বক্তব্য না দেন, সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

খালেদার দেশে ফেরা নিয়ে সন্দেহ কাদেরের : বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার লন্ডন থেকে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, একজন মামলার ভয়ে বিদেশে বসে আছেন অনেক দিন, অনেক বছর। আরেকজন সেই টেমস নদীর পাড়ে গেলেন। উনি যাচ্ছেন এটা নিয়ে আমাদের মন্তব্য নেই। তবে ফেসবুক, টুইটারে জনশ্রæতি হচ্ছে, উনি (খালেদা জিয়া) এতো সময় নিয়ে গেলেন কেন? তিনি কি মামলার ভয়ে পালিয়ে গেলেন? আমাদেরও দেখতে হবে তিনি ফিরে আসবেন কিনা? ওবায়দুল কাদের বলেন, ১/১১-এর সময় শেখ হাসিনার মতো সাহস করে তিনি দেশে ফিরে আসবেন কিনা, তার ফিরে আসার সময় দীর্ঘ হবে কিনা- তা সময় বলে দেবে। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসি যে রোডম্যাপ দিয়েছেন সেটি আওয়ামী লীগের রোডম্যাপ- বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, রোডম্যাপ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করব না। রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেখে কথা বলব।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ