সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-কোন্দলে লিপ্ত কর্মীদের তালিকা হবে

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

দেব দুলাল মিত্র : চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের তালিকা করা হবে। তালিকাভুক্তদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীসহ সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের গোপনীয় শাখার কর্মকর্তারা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা করেছে। নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে পুলিশ প্রশাসনকে নানান ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। এ কারণে আগেভাগেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী পরিচয়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। বরিশালের বানাড়িপাড়ায় এক ছাত্রলীগ নেতা চাঁদা না পেয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সিলেটসহ দেশের কোথাও কোথাও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ চলতি মাসের মধ্যেই মাঠ পর্যায়ে বিষদভাবে খোঁজ নিয়ে তালিকা তৈরির কাজ শুরু করবে। ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের সব মেট্রোপলিটন এলাকা, বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও উপজেলা পর্যন্ত পুলিশ মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করবে। দলীয় পদ নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়, চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ, এলাকায় প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জড়িতদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি একটি গোপন প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে গোয়েন্দা নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনগুলোতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ইতিপূর্বে হত্যাকাণ্ড, হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। সামনের দিনগুলোতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারও বেড়ে যেতে পারে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছোসেবক লীগ, শ্রমিক লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। নেতাকর্মীরা একই আদর্শের রাজনীতির অনুসারী হয়েও ব্যক্তিগতভাবে তারা আর্থিক দিক থেকে লাভবান হতে মরিয়া। প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে একাধিক গ্রুপের বিভক্ত রয়েছে। একে অপরের কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী এ ধরনের কার্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এদের এখন থেকেই রুখতে না পারলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা থেকে যাবে। এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তার করা নিয়েই তাদের এই প্রতিযোগিতা। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্যই পুলিশ ও গোয়েন্দারা মাঠে নামবে।

ঢাকা মেট্রেপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, রাজধানীর অপরাধ দমনে পুলিশ কাজ করবে। সব থানা পুলিশের কাছে অপরাধীদের তালিকা আছে। সময়ে সময়ে এই তালিকা হালনাগাদ করা হয়। এতে নতুন নতুন সন্ত্রাসীদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। কে রাজনৈতিক দলের কর্মী আর কে সন্ত্রাসী তা দেখা হয় না। নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরপেক্ষভাবেই তালিকা তৈরি করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, যেসব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, চাঁদাবাজি করা, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল না হলে হুমকি-ধামকি দেয়া, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায়, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের সময় ঠিকাদারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি, ফুটপাথ ও পরিবহন সেক্টরের চাঁদার ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ রয়েছে- তাদের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj