বিয়ানীবাজার কলেজে সংঘর্ষে নিহত ১

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ক্লাসরুমেই একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে ছাত্রলীগের ‘পল্লব গ্রুপ’ ও ‘পাভেল গ্রুপ’-এর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কলেজ কতৃপক্ষ জরুরি সভা ডেকে আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। নিহত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম খালেদ আহমদ লিটু (২৩)। ওই ক্লাসরুমে অবস্থানরত অবস্থায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন- বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের মো. হোসেন আহমদের ছেলে ফাহাদ (২২), একই উপজেলার কসবা এলাকার মাসুক আহমদের ছেলে কামরান (২৪) ও খাসা গ্রামের শাহাব উদ্দিনের ছেলে এমদাদুর রহমান (২২)।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা ভোরের কাগজকে বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় সোমবার দুপুরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।’ নিহত খালেদ আহমদ লিটু (২৩) বিয়ানীবাজারের কসবা নয়াটিলা এলাকার খলিল উদ্দিনের ছেলে। তিনি এলাকায় একটি মোবাইলের দোকান চালাতেন। লিটু জেলা ছাত্রলীগের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক পাভেল মাহমুদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

কলেজ এলাকার অধিপত্য নিয়ে দুপুরে পাভেলের অনুসারীদের সঙ্গে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্লবের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তারা বলছেন, সংঘর্ষের পর লিটুসহ পাভেলের দলের কয়েকজন কলেজের একটি কক্ষে বসে ছিলেন। এমন সময় কয়েকজন যুবক এসে তাদের দিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

লিটুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা জানান। তিনি বলেন, ঘটনার পর কলেজ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুম আহমদ জানান, মাথায় গুলি লাগায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই লিটুর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজারে প্রায় ১২ বছর ধরে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। তবে কমিটি না থাকলেও ছাত্রলীগের অন্তত ১২টি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে আধিপত্য বিস্তার করতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পক্ষে সক্রিয়তা দেখা যায়। সম্প্রতি কমিটি গঠনের তোড়জোড় চলায় প্রভাবশালী দুটি পক্ষ কলেজ ক্যাম্পাসে গেলে এ ঘটনা ঘটে। তবে খালেদ ওই কলেজের ছাত্র নন বলে কলেজ সূত্র নিশ্চিত করেছে। যোগাযোগ করলে কমিটি না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম। তবে ঘটনাটি কারা ও কেন ঘটিয়েছে তা খোঁজ নেয়া হচ্ছে বলে জানান শাহরিয়ার আলম সামাদ। সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে আবুল কাশেম পল্লব ও পাভেল মাহমুদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj