ফের বেপরোয়া ছাত্রলীগ

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

ঝর্ণা মনি : আবারো বেপরোয়া ছাত্রলীগ। তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের শিক্ষাঙ্গন। ছাত্রলীগ নামধারীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অস্থির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিলেট, রাজশাহী, পাবনাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, সরকারি সম্পদ ধ্বংসসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম এই সংগঠনটি। গতকাল সোমবার সিলেটের বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার মধ্যদিয়ে আবারো পুরনো বিধ্বংসী চেহারায় ফিরে এসেছে ছাত্রলীগ। যদিও ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ দাবি করে ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, ছাত্রলীগে তাদের ঠাঁই নেই। এদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গতকাল সোমবার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের পল্লব গ্রুপ ও পাভেল গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ কর্মী খালেদ আহমদ লিটু (২৩) নিহত হন। এদিকে গতকাল সকালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু আবাসিক হলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা হলের দুটি কক্ষে ভাঙচুর চালিয়েছেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

একইদিন দুপুরে রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। টেন্টে বসাকে কেন্দ্র করে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম বাপ্পি ও সাধারণ সম্পাদক বাইতুল হোসেন তরুর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান হাফিজ।

গত রোববার দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দুই দফা হামলায় আহত হয়েছেন ১০ জন। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ছাত্রলীগ কর্মী শান্তকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) ভোরে ফের এমসি কলেজের হোস্টেলে ভাঙচুর করে ছাত্রলীগের দুগ্রুপ। আগ্নেয়াস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল, রড, দা, হকিস্টিকসহ ছাত্রাবাসের ৪ ও ৫নং ব্লুক এবং শ্রীকান্ত ব্লুকে ভাঙচুর চালানো হয়।

ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসীদের এহেন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সব নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন। তিনি বলেন, পাবনার ঘটনার পরপরই আমরা দুজনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছি। সিলেটে এমসি কলেজের ঘটনার পরেই অপরাধী গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। বিয়ানীবাজারের নিহত ব্যক্তি ছাত্রলীগের কর্মী নয় বলে দাবি করে জাকির হোসাইন বলেন, তিনি একজন মোবাইল মেকানিক। নিজের মেগাজিন লোড করার সময় ওই গুলিতেই তিনি মারা গেছেন। এর দায় ছাত্রলীগের নয়।

অপরাধীর বিরুদ্ধে আমরা সবসময়ই জিরো টলারেন্স দাবি করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অপরাধীদের কোনো দল নেই, সংগঠন নেই, ধর্ম নেই। এদের একটাই পরিচয়, তারা অপরাধী। ছাত্রলীগের কেউ অন্যায় করে পার পাবে না।

মূলত, সরকারের আগের মেয়াদের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচিত ছিল ছাত্রলীগ। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর নানা পদক্ষেপের পরও লাগাম টানা সম্ভব হয়নি ছাত্রলীগের। তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনটি দেখাশোনা করার জন্য ছাত্রলীগের এক সময়ের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু তাতে করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে নৌকাকে ডুবানোর জন্য ছাত্রলীগ একাই যথেষ্ট এমন আলোচনা দলের মধ্যেই হচ্ছে। তাই সময় থাকতে ছাত্রলীগের দড়ি টেনে ধরতে না পারলে সরকারকে চরম মাশুল দিতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, এমন কোনো কাজ হলে সাংগঠনিকভাবে, প্রশাসনিকভাবে আমরা কাউকে রেহাই দেব না। আমাদের এত উন্নয়ন, এত অর্জন, এত কীর্তি, এত খ্যাতি বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কীর্তিকে গুটিকয়েক অপকর্মকারীদের হাতে জিম্মি হতে দিতে পারি না।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj