কুরবানির পশুর বহরে চাঁদাবাজি ঠেকান

বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রধান শহরগুলোতে কুরবানির পশু আসছে। অন্যান্যবারের মতো এবারো গবাদিপশু পরিবহনে অবৈধ চাঁদাবাজির শিকার হতে হচ্ছে- ভুক্তভোগীদের এমন অভিযোগের কথা উঠে আসছে পত্রপত্রিকায়। এর সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো উঠছে হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে, যারা কিনা এসব প্রতিরোধ করবে।

গতকালের ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা পর্যন্ত আসতে একটি পশুবাহী ট্রাককে ৫-৬ স্থানে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। স্থান ভেদে ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা পরিশোধ না করলে চাঁদাবাজরা ট্রাক আটকে রাখার হুমকি দিচ্ছে। কোথাও কোথাও অস্ত্রের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পদ্মা নদীর দুই পাড় দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়ার উভয় দিকেই কুরবানির পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজি হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর দুই তীরের সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলেও চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। রংপুরের মিঠাপুকুর, বগুড়ার নন্দীগ্রাম, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকার বিভিন্ন স্থানে চাঁদা না দিলে পশুর ট্রাকের চাকা ঘুরচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজরা রাস্তায় সক্রিয় না হলেও শীতলক্ষ্যা নদীতে সক্রিয় রয়েছে। দিনে ও রাতে চাঁদাবাজরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পশুর ট্রলারগুলো থেকে আকার ভেদে ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে। কুরবানির সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদাবাজির মাত্রা আরো বাড়বে বলে ট্রাকচালক ও পশু ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের জন্য রাজধানীর প্রবেশমুখেই রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক পয়েন্ট। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কুরবানির পশু নিয়ে ঢাকায় ঢুকতে এসব স্থানে চাঁদা পরিশোধ করতে হচ্ছে। কুরবানির ঈদের সময় পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দেশে একটা বড় অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য দেখা দেয়। একে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করা জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থেও খুবই দরকারি। পেশাদার সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ চক্রকে ঠেকাতে সড়ক-মহাসড়কে ও নৌপথে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার বিষয়টি গভীর উদ্বেগজনক। তাই ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত চাঁদাবাজির অভিযোগ আমলে নিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। ঈদে চাঁদাবাজি রোধে মনিটরিং জোরদার করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj