ভেস্তে গেল হাথুরুসিংহের পরিকল্পনা

বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭

আপন আকাশ : ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসটা এসিড টেস্ট হয়ে উঠেছিল সৌম্য সরকার আর ইমরুল কায়েসের জন্য। ঢাকা টেস্টে ব্যর্থতায় দলে ঢুকে যেতে পারেন মুমিনুল। চট্টগ্রাম টেস্টে মুমিনুল থাকছেন, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় এবং তার ব্যাটিং পজিশন হতে পারে তিন নাম্বারে।

সৌম্য আর ইমরুল প্রথম ইনিংসে যারপরনাই ঢাকা টেস্টে ব্যর্থ। সৌম্য করেছেন ৮ এবং ১৫ রান। ইমরুল প্রথম ইনিংসে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে গেছেন সাজঘরে। দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ২ রান। চট্টগ্রামে ইমরুল আর সৌম্যকে আরো একটা সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা টিম ম্যানেজমেন্টর থাকলেও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে কোপটা পড়তে পারে সাব্বির রহমানের ওপরও। দ্বিতীয় ইনিংসে সাব্বির ২২ রান করেছেন। যার নামের প্রতি সুবিচার বলা যায় না। তাহলে হিসাব বা সমীকরণটা দাঁড়াচ্ছে চট্টগ্রাম টেস্টে ফিরছেন মুমিনুল হক। দুই বছর পর দলে ডাক পাওয়া নাসির হোসেন ঢাকা টেস্টের দুই ইনিংসে ২৩ রান তুলেছেন।

বিতর্কের মুখে পড়া হাথুরুর মুখ আর রক্ষা হলো না। দল নির্বাচন নিয়ে, বিশেষ করে মুমিনুলকে বাদ দেয়া এবং ইমরুল কায়েসকে তিন নম্বরে খেলানো নিয়ে যারপরনাই অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল ভক্ত ও সমর্থকদের মনে।

তারপরও সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বপ্ন ছিল অনেকের। গতকাল তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সে স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাবার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ভক্তদের বড় অংশ এখন ঢাকা টেস্টে হারের শঙ্কায় ভুগছেন। আর তাতেই কোচ হাথুরুর দল সাজানো ও গেম প্ল্যান এবং ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ছে। স্পেশালিস্ট ও সফলতম ওপেনার ইমরুল কায়েসের পরিবর্তে সৌম্য সরকারকে দিয়ে ইনিংসের সূচনা করার পরিকল্পনা গেছে ভেস্তে।

সৌম্য সরকারকে দিয়ে ওপেন করানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা অনেকেই করেন না। কারণ মূলত সীমিত ওভারের ফরম্যাটের জন্য খুব লাগসই ও কার্যকর ব্যাটিং প্রতিভা সৌম্য সরকারের টেস্ট পরিসংখ্যান তেমন ভালো না হলেও ওপেনার সৌম্যর রেকর্ড মন্দ নয়। আট টেস্টে এ বাঁ-হাতির রান ৫০৪ রান। গড় ৩৩.৬০ করে, কিন্তু ওপেনার হিসেবে খেলতে নামা সৌম্য পাঁচ টেস্টে করেছেন ৩৯৭ রান।

টানা পাঁচ টেস্টে ওপেন। এ বছর জানুয়ারিতে ইমরুল ইনজুরিতে পড়ার পর ক্রাইস্টচার্চে ইনিংস ওপেন করার সুযোগ পান সৌম্য। আর প্রথম সুযোগেই ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। পরের ইনিংসেও ৩৬। সে থেকে এ পর্যন্ত টানা পাঁচ টেস্ট ওপেনার হিসেবে খেলা। এরমধ্যে আরো তিনবার পঞ্চাশের ঘরে পা রাখা। হায়দরাবাদে ভারতের বিরুদ্ধে ১৫ ও ৪২, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে ৭১+৫৩। কলম্বোর পি সারায় শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬১ ও ১০। আর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চলতি টেস্টে ৮ ও ১৫। এই হলো ওপেনার সৌম্যের পরিসংখ্যান।

অন্যদিকে স্থানচূ্যত ইমরুল কায়েসের রেকর্ডটিও মন্দ নয়। ২৯ টেস্টে ৩ সেঞ্চুরি ও চার হাফ সেঞ্চুরিতে ইমরুলের রান ১৪৬৬। গড় ২৭.৬৬। ওপেনার হিসেবে সেই পরিসংখ্যানটা আরো সমৃদ্ধ। ওপেনার ইমরুল ২৫ টেস্টে ৪৮ ইনিংসে করেছেন ১২৫৮ রান। গড় ২৭.৩৪। শতরান দুটি। হাফ সেঞ্চুরি চারটি। শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়। ইমরুল কায়েস হচ্ছেন বাংলাদেশের এক নম্বর ও সফলতম ওপেনার তামিম ইকবালের সেরা সঙ্গী। টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তিনটি ওপেনিং পার্টনারশিপ ৩১২, ২২৪ ও ১৮৫ রানই তামিম আর ইমরুলের। সেই সফল ওপেনারকে তিন নম্বরে খেলানোর অর্থ মুমিনুলকে সুকৌশলে বাদ দেয়া। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম তিন নম্বরে খেলতে নেমে শতরান (১১৫) করা ছাড়া ওয়ানডাউনে নেমে আর একটিও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি ইমরুল। তিন নম্বরে নেমে ৪ টেস্টে ৭ ইনিংসে তার রান ২০৮। গড় ২৯.৭১। সেটা প্রথম ইনিংসে শতরান করে ফেলায়। এরপর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ান ডাউনে নেমে ৯+৩৪, এ বছর মার্চে কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের শততম টেস্টে ৩৪ ও ০। চট্টগ্রাম টেস্টে হাথুরুসিংহে ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী হিসেবে কাকে নির্বাচন করেন তাই দেখার বিষয়।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj