চকরিয়া ও পেকুয়ায় মন্দির ও বৌদ্ধপল্লীতে বাড়তি নিরাপত্তা

বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭

চকরিয়া প্রতিনিধি : মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা, অমানবিক নির্যাতন ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুই সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেনারা গুলি করে হত্যা করছে রোহিঙ্গাদের। বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করছে। রোহিঙ্গারা বসতি ছেড়ে পালিয়ে চলে আসছে বাংলাদেশে। ইতোমধ্যে সীমান্তে জড়ো হয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এ অবস্থায় চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলাতেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই উপজেলার ২৩টি বৌদ্ধ পল্লীতে রাখাইন ও বড়–য়াদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বৌদ্ধ পল্লীতে।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলায় ১১টি মন্দির ও ১১টি বিহার এবং পেকুয়ায় ১টি বৌদ্ধ বিহার রয়েছে। এর মধ্যে হারবাং ইউনিয়নে ৫টি বড়–য়াদের মন্দির ও ৫টি বৌদ্ধ বিহার, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নে বড়–য়াদের ২টি মন্দির ও ৪টি বৌদ্ধ বিহার, বমুবিলছড়ি ইউনিয়নে বড়–য়াদের ২টি মন্দির ও রাখাইনদের একটি বৌদ্ধ বিহার এবং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে একটি বড়–য়াদের মন্দির রয়েছে। চকরিয়া পৌরসভার বুড়িপুকুরে বড়–য়াদের একটি মন্দির ও মগবাজারে রাখাইনদের একটি বৌদ্ধ বিহার রয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা বারবাকিয়া রাখাইন পল্লীর সভাপতি থোইং সিং রাখাইন বলেন, এখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান একসঙ্গে সব পূজা-পার্বণ করে থাকি। আশা করি তেমন কোনো সমস্যা হবে না। পুলিশ এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছে। চকরিয়া উপজেলা ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি মাস্টার মংয়াই রাখাইন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের ঘটনায় আমরা খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম। প্রশাসন সেই উদ্বিগ্নতা দূর করেছে। মন্দির ও বিহারগুলোতে পুলিশি টহল বাড়িয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারও সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। আশা করি তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

পেকুয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, পেকুয়ার বারবাকিয়ায় একটি মন্দির রয়েছে। মন্দির ও বিহারের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। আশা করছি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক বলেন, তার ইউনিয়নে মন্দির ও বৌদ্ধ পল্লীগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। বৌদ্ধ পল্লীগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি আনসার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে। এখানে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি।

চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চকরিয়ার ২২টি বৌদ্ধ মন্দির ও বিহারে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রত্যেকটি মন্দির ও বিহারে সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য স্থানীয় চৌকিদারদের বলা হয়েছে। যে কোনো ধরনের ঘটনা এড়াতে পুলিশের মোবাইল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহাবুব-উল করিম বলেন, এখানে একটা বৌদ্ধ পল্লী রয়েছে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনরা যাতে দুঃচিন্তায় না থাকে সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশকে টহল জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় চকরিয়া বৌদ্ধ পল্লীতে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। পুলিশ টহলে রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj