লালমনিরহাটে রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি, কৃষক দিশেহারা

বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭

বেলাল হোসেন, লালমনিরহাট থেকে : সাম্প্রতিক সময়ে বন্যায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শাক-সবজির ক্ষেতসহ রোপা আমনের ক্ষেত বন্যায় ৮-১০ দিন পানির নিচে ডুবে থাকায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ও সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ও সবজি পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

জেলায় বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাজারে আমন ধানের চারা দেখা মিলছে না। যদিও কোথায় পাওয়া যাচ্ছে তাও আবার চড়া দামে ক্রয় করতে হচ্ছে কৃষকদের। যাদের অর্থ আছে তারা চড়া মূল্যে রোপা আমনের চারা কিনে আবারো রোপণ করছেন। এ ক্ষেত্রে শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ কৃষক অর্থের অভাবে এখনো জমিতে চারা রোপণ করতে পারেননি। তারা সরকারের সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ ব্যাপারে সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সুজন মিয়া, তৈয়ব আলীসহ আরো অনেকেই জানান, ‘এ ব্যানায় হামার আর কিছুই থাকিল না বাহে,- হামরা কি করে সংসার চালামো, হামরা কিস্তি নিয়া ও গোলার ধান বেচেয়া আমন ধানের চারা গারছিনো। এলাতো সব শ্যাষ হইছে। হামার এলা কি হইবে তোমরাই কন? সরকার কি হামরা গুলাক বেছন (চারা) দিবার নয়?’ এমনি আর্তনাদ শুধু সদর উপজেলায় নয়, সারা জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক কৃষক পরিবারে বিরাজ করছে। তারা ত্রাণ হিসেবে চাল চান না, চান রোপা আমনের চারা।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ৮২ হাজার ২৫৯ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ৮৪ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে। ধানের চারা রোপণের এক মাসের মাঝে বন্যার পানিতে ডুবেছে ৩১ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমির ক্ষেত। যার মধ্যে ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর এখনো পানির নিচে রয়েছে। এ ছাড়া ৭১০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেতের মধ্যে গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৬৫ হেক্টর জমি। তবে কৃষি বিভাগের তথ্যের চেয়ে দ্বিগুণ ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তাদের ধারণা, কৃষি বিভাগ তাদের দায় এড়াতে ক্ষতির মনগড়া তথ্য প্রকাশ করেছে। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিধু ভূষণ রায় জানান, টানা বেশ কয়েক দিন পানির নিচে থাকায় আমন ক্ষেতের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করে তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পানি পুরোপুরি না কমায় ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা যাচ্ছে না। ধান গাছের শিকড় থাকলে কুড়ি গজাবে। এ সময় কৃষকদের উদ্দেশে পরামর্শ হিসেবে কৃষকদের ধান গাছে লেগে থাকা বন্যার কাদা মাটি ধুয়ে দেয়ার পরামর্শ দেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj