বোয়ালমারীতে নিজের মা ও শিশু কন্যাকে হত্যা : ঘাতকের আত্মহত্যার চেষ্টা

বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭

ফরিদপুর ও বোয়ালমারী প্রতিনিধি : জেলার বোয়ালমারী পৌরসভার বড় কামারগ্রাম ভাড়া বাড়িতে গত সোমবার রাতে ছেলে শ্রীকান্ত দাস শিশিরের (৩০) হাতে মা ও মেয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে।

শিশির নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। শিশির বিভুতিভূষণ সাহার বাড়িতে মা-সুন্দরী দাস (৫৫) ও আড়াই বছর বয়সী মেয়ে শ্রাবন্তীকে নিয়ে ভাড়া থাকত। সে রেডিও সাইট কোম্পানির বোয়ালমারী উপজেলার বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করত। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা উপজেলার খলিসখালি গ্রামে।

তার বাবা মৃত অশোক দাস। থানা-পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘাতক শিশিরকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে।

বাড়ির মালিক বিভুতি সাহার স্ত্রী পুতুল সাহা বলেন, তারা ৬ মাস আগে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বাসা ভাড়া নেয়। শিশিরের মা সাধারণত সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে ওঠেন। ওই দিন ৮টা পার হয়ে গেলেও না ওঠায় দরজায় ধাক্কা দিলে শিশির জানালা খোলেন। তখন তার হাত ও শরীর রক্তাক্ত দেখতে পাই। এ সময় ঘরের মেঝেতে শিশিরের মা ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার দেই। তখন আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিশির দরজা খুলে দেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার ও শিশিরকে আটক করে।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে গত সোমবার রাত ১০টা-১২টার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। হত্যাকাণ্ডের পর শিশির নিজেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সুরতহালে দেখা গেছে মাকে শ্বাসরোধে ও মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিশির প্রথমে তার মেয়ে শ্রাবন্তীকে ভাগ্নি বলে পরিচয় দিয়েছিল। পরে ঝিনাইদহের একটি এনজিওতে চাকরিরত তার ভগ্নিপতি গোপালের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান শ্রাবন্তী শিশিরের মেয়ে। উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে শিশিরের স্ত্রী পায়েল তাকে বেশ কিছু দিন আগে ছেড়ে চলে যায় বলে জানা গেছে। তারা দুই ভাই-বোন। শিশির মাদকাসক্ত ও কিছুটা মানসিক ডিপ্রেশনে ভুগছে বলে মনে হচ্ছে। তার সঙ্গে পরিবারের অন্য কারো সম্পর্ক নেই। আহত অবস্থায় শিশিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে সৎকারের জন্য হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj