সরকারি প্যাকেজের বাইরে এজেন্সির ‘ভোগান্তি’ হজ প্যাকেজ! : মিনার পথে লাখো হজযাত্রী

বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭

কারুজ্জামান খান, মক্কা (সৌদি আরব) থেকে : হজযাত্রীদের জন্য সরকার প্রতিবছর প্যাকেজ নির্ধারণ করলেও অনেক হজ এজেন্সি এর তোয়াক্কা করছে না। চলতি বছর সরকার কুরবানিসহ সর্বোচ্চ তিন লাখ ৬০ হাজার ও সর্বনি¤œ তিন লাখ ১৯ হাজার টাকার হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করে। মক্কা, মিনা ও মদিনায় হজ পালনের জন্য ৪০-৪৫ দিনের এ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ হজ এজেন্সি এর বাইরে এ, বি ও সি প্যাকেজ তৈরি করে ইচ্ছেমতো হজ প্যাকেজ সাজিয়েছে। এরমধ্যে থাকা-খাওয়ার সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় দুই লাখ ৮০ হাজার থেকে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এ হিসাবের বাইরে রয়েছে কুরবানির খরচ। হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশেন অব বাংলাদেশ (হাব) কর্তৃপক্ষ এজেন্সিগুলোর এমন নয়ছয়ের ব্যাপারে অবগত হলেও চুপ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা এজেন্সির এসব প্যাকেজের নাম দিয়েছেন ‘ভোগান্তি হজ প্যাকেজ’!

এদিকে আজ বুধবার দুপুরের মধ্যেই মক্কা থেকে সব হজ যাত্রী মিনায় পৌঁছবেন। এরইমধ্যে মুসলিম বিশ্বের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের ওই জমায়েতের জন্য সবাই মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন। মসজিদে-মসজিদে চলছে বয়ান। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩ দিন পর সবাই ফিরবেন মক্কায়। এরপর যাবেন মদিনায়।

হজ এজেন্সির খপ্পরে পড়া মক্কায় থাকা ভুক্তভোগী বাংলাদেশি হজযাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, এজেন্সিগুলোর প্রতারণা পদে পদে। তবে তা যেন দেখার কেউ নেই। হজ মিশন ও দূতাবাসের অভিযোগ করেও সুফল মিলছে না। অব্যবস্থাপনার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকেই। কুরবানি ও টাকা জমা দেয়ার পদ্ধতি নিয়েও জটিলতা কাটছে না। মিনা, মুজদালিফা ও আরাফার ময়দানে যাওয়া-আসার বাহন নিয়েও ধোঁয়াশা কাটছে না। বয়োবৃদ্ধ ও স্বল্প শিক্ষিতরা পড়েছেন চরম বিপাকে। রাস্তায় রাস্তায় দেয়া খাবার ও পানি খেয়ে দিন কাটছে অনেকের। ভিসা পেয়েও মক্কায় আসতে না পারা ৩৬৭ জন হজযাত্রীর জন্য ১৮টি এজেন্সিকে দায়ী করেছে সরকার।

অন্যদিকে, এজেন্সিগুলোর কথায় বিশ্বাস করে ক্যাটাগরি বিবেচনায় মক্কায় এসে অনেক হজযাত্রীর চোখ যেন চড়কগাছ। এ, বি ও সি ক্যাটাগরি মিলে একাকার হয়ে পড়েছে। বাড়তি টাকা দিয়েও মিলছে না কাক্সিক্ষত সেবা। তা ছাড়া, এখানে ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিদের খোঁজ মিলছে না অনেক ক্ষেত্রেই। এরপরও ইবাদতের আশায় সবাই মুখ বুজে সব সহ্য করছেন। অনেকেই আবার নিরুপায় হয়ে হজ অফিসে নালিশ করছেন। এক্ষেত্রে ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোর মালিকদের বক্তব্য অনেকটা দায়সারা। আবার হাব নেতারা এ নিয়ে কোনো কথা বলছেন না।

বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল (জেদ্দার হজ কাউন্সিলর) মাকসুদুর রহমান বলেন, যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণা অভিযোগ পাওয়া গেছে, তা তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনিয়ম করে কেউ ছাড় পাবে না। এ ছাড়া যেসব হজযাত্রী শেষ পর্যন্ত আসতে পারেননি, তার জন্য দায়ীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। তাদের লাইসেন্স পর্যন্ত বাতিল হতে পারে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj