খুলনায় শিশু হাসমি হত্যা মামলায় মাসহ ৪ জনের ফাঁসি

বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭

বাবুল আকতার ও ইমরুল ইসলাম, খুলনা থেকে : খুলনায় চাঞ্চল্যকর শিশু হাসমি মিয়া (৯) হত্যা মামলায় শিশুটির মাসহ ৪ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামিরা হলো- নিহত শিশু হাসমির মা-সোনিয়া আক্তার, তার প্রেমিক মো. নুরুন্নবী, মো. রসুল ও মো. হাফিজুর রহমান। এ মামলার অপর আসামি রাব্বি সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোসাম্মৎ দিলরুবা সুলতানা এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিল। এর আগে গত ২১ আগস্ট এ মামলার রায়ের দিন ধার্য থাকলেও তা পেছানো হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালে মানিকতলার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খানের মেয়ে সোনিয়ার সঙ্গে মো. হাফিজুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের ৬ মাস পর হাফিজুর রহমান বিদেশে চলে যান। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সোনিয়ার চলাফেরা উচ্ছৃঙ্খল হতে থাকে। তিনি একাধিক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। দেশে আসার পর বিষয়টি জানতে পারেন স্বামী হাফিজুর রহমান। তিনি স্ত্রীকে শোধরানোর চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তালাক দেন স্ত্রীকে। যে কারণে সরদারডাঙ্গা শহিদ হাতেম আহম্মেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র হাসমি থেকে যায় তার বাবা হাফিজুরের সঙ্গে। হাসমিকে তার বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে আনার জন্য নুরুন্নবী ও রসুলের সঙ্গে ৫০০ টাকা ও অনৈতিক কাজের চুক্তি হয় সোনিয়ার।

২০১৬ সালের ৬ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে শিশু হাসমিকে অপহরণ করে তার মায়ের কাছে নিয়ে আসে তারা। এরপর চুক্তি অনুযায়ী সরদারডাঙ্গা বাগানের (বাঁশ ঝাড়) মধ্যে পালাক্রমে অপহরণকারীরা সোনিয়ার সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। শিশু হাসমি ঘটনা দেখে তার মাকে বলে, মা, তুমি কি করছ আমি বাবাকে বলে দেব। এ ঘটনা বাইরে ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে পাষণ্ডরা মা সোনিয়ার সামনেই শিশু হাসমিকে মুখ চেপে ধরে গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর ওই রাতেই লাশ সিমেন্টের বস্তায় ভরে খুলনা বাইপাস সড়ক-সংলগ্ন সরদারডাঙ্গা বিলের মধ্যে ফেলে দেয়। ৯ জুন সকালে খুলনা বাইপাস সড়ক-সংলগ্ন সরদারডাঙ্গা বিলের মধ্যে থেকে সিমেন্টের বস্তায় ভরা হাসমির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সেদিনই হাসমির বাবা মো. হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মো. নুরুন্নবী, হাফিজুর রহমান ও মো. রসুলের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২-৩ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আড়ংঘাটা থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান ওই বছরের ৩০ জুন এজাহারভুক্ত হাফিজুর রহমান ও আসাদ ফকিরকে বাদ দিয়ে সোনিয়া আক্তার, তার প্রেমিক মো. নুরু ন্নবী ও মো. রসুলের বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি আবেদনের পর পুনরায় তদন্ত শেষে সিআইডির পরিদর্শক মিঠু রানী দাস একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিট গৃহীত হওয়ার পর মামলাটি বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়। ২ এপ্রিল অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ মামলার চার্জশিটভুক্ত দুজন আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠন হওয়া ৫ আসামি হলো- সোনিয়া আক্তার, মো. নুরুন্নবী, মো. রসুল, মো. হাফিজুর রহমান ও রাব্বি সরদার।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj