বরিশালে প্রতিমা ভাঙচুর, বাধা দেয়ায় গৃহবধূকে মারধর

বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭

এম মিরাজ হোসাইন, বরিশাল থেকে : বরিশাল নগরীর বিএম কলেজ এলাকায় টিএনটি কার্যালয়ের সামনের মনসা ও কালী মন্দিরের প্রতিমা রাতের আঁধারে ভাঙচুর করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাদের (দুর্বৃত্ত) বাধা দেয়ায় এক গৃহবধূকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার রাত আড়াইটার দিকে।

অভিযোগ উঠেছে, বিরোধীয় জমি জবর দখলে নিতে স্থানীয় কাউন্সিলর ও জমির অবৈধভাবে মালিকানা দাবিদাররা তাদের সহযোগীদের নিয়ে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। জমির মালিকানা দাবিদার লিপি রানী দাস জানান, মন্দির এবং এর পার্শ্ববর্তী বাড়ির ২৩ শতক জমি নিয়ে একই এলাকার জাহিদুর রহমান জাহিদ ও সবুজের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছে। তাদের ঠাকুর মা রানী বালা শীল জীবিত থাকাবস্থায় জমি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলা পরিচালনার জন্য জাহিদকে জমির পাওয়ার দেয়া হয়। মামলায় পক্ষে রায় হলে জাহিদকে জমি থেকে ৩ শতক দেয়ার চুক্তি ছিল। এরই মধ্যে রানী বালা শীলের মৃত্যুর পর জমির পাওয়ারকে কাজে লাগিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দলিল তৈরি করে পুরো জমি জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন জাহিদ। এমনকি ওই জমির কিছু অংশ সবুজ নামে এক ব্যক্তির কাছে সে (জাহিদ) বিক্রিও করেছে।

লিপি রানী দাস অভিযোগ করেন, বেশ কিছু দিন ধরে বিরোধপূর্ণ জমিটি জবর দখলের জন্য নানাভাবে পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে জাহিদ এবং সবুজ। এ জন্য ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় দুই কাউন্সিলর এবং জেলা ছাত্রলীগের এক সহসভাপতি ও বিএম কলেজের কতিপয় ছাত্রনেতার সহযোগিতায় ১৮ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেয়া হয়। এর থেকে জমি বাবদ মাত্র ৪ লাখ টাকা লিপি রানী দাসকে দেয়ার প্রস্তাব দেন ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী নঈমুল হোসেন লিটু। এতে রাজি না হওয়ায় গত ২৪ আগস্ট লিপির বাবা তপন কুমার শীলকে অপহরণের চেষ্টা করে কাউন্সিলর লিটু ও জাহিদের লোকজন। এ ঘটনায় ওই দিনই থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

ওই ঘটনার ৩ দিনের মাথায় গত ২৭ আগস্ট গভীর রাতে জাহিদ ও তার সহযোগীরা ওই জমিতে থাকা ৮৫ বছরের পুরনো মনসা ও কালী মন্দিরে হামলা চালিয়ে দুই নারীকে মারধর করে মন্দিরের বেড়া ও টিনের চালা খুলে নিয়ে যায়। এরপর গত সোমবার গভীর রাতে মনসা ও কালী মন্দিরের প্রতিমা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি টের পেয়ে মন্দিরের পাশে বসবাসকারী জমির মালিক মিলন চন্দ্র শীলের স্ত্রী ঝুমা রানী হামলাকারীদের বাধা দিলে তাকে মারধর করে আহত করা হয়।

সূত্রমতে, রাতে প্রতিমা ভাঙচুরের পর গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকেরা ইট ও বালু নিয়ে ইমারত নির্মাণের মাধ্যমে মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন লিপি রানী দাস।

অভিযোগ অস্বীকার করে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, মন্দির ভাঙচুরের কোনো ঘটনা তার জানা নেই। এমনকি কেউ অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এ ব্যাপারে কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj