চালকের আসনে অজিরা টাইগাররা আশা ছাড়েনি

বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জিততে হলে অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ১৫৬ রান। হাতে আছে আট উইকেট। এ অবস্থায়ও ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখছেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। বোলারদের দারুণ কিছু কারিশমা দেখার অপেক্ষায় তিনি। কারণ, জানেন উইকেটের ধরন। নিজে টিকে ছিলেন ৯৭ ওভারেরও বেশি। তার চাইতে ভালো কে জানে? ধৈর্য ধরে সঠিক জায়গায় বল করতে পারলেই সাফল্য মিলবে বলে বিশ্বাস দেশসেরা এ ওপেনারের, উইকেটের কথা বলব যে, এটা আনপ্রেডিক্টেবল। যে কোনো সময় যে কোনো কিছু হতে পারে। ধৈর্য্য ধরে আমাদের থাকতে হবে। আগের ইনিংসগুলোতে দেখছেন যে, একটা উইকেট পড়লে দুই তিনটা উইকেট পড়ে যায়। খুবই আনপ্রেডিক্টেবল। আমাদের এখন ভালো জায়গায় বল করতে হবে।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের এ ম্যাচ অনেক দিক দিয়েই মনে করিয়ে দিচ্ছে অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সে ম্যাচের কথা। দুই দলেরই রানের জন্য হাপিত্যেশ করা। স্পিনারদের দাপটের পর দর্শকের হতাশার দৃশ্যেও তাই মিল ছিল। ২৭৩ রানের লক্ষ্যে নেমে বিনা উইকেটেই একশ করে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। সেদিনের দুপুরটাও কেমন যেন বিষণœ হয়ে উঠেছিল মিরপুরের গ্যালারিতে। কিন্তু মিরাজের এক বল সব বদলে দিয়েছিল। বেন ডাকেটের সেই আউটে কণ্ঠ খুঁজে পেয়েছিল মিরপুরের গ্যালারি। ৬৪ রানের মধ্যে ১০ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশও জিতে নিয়েছিল সে ম্যাচ। আজও টাইগার সমর্থকরা সেই স্বপ্নে বিভোর থাকবেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

স্পিনাররা প্রথম ইনিংসে অস্ট্র্রেলিয়াকে যেভাবে চেপে ধরেছিল, দ্বিতীয় ইনিংসেও যদি সেভাবে চেপে ধরা যায়- তাহলে জয়টা নিশ্চিতই বলা যায়। ২৮ রানের মধ্যে ম্যাট রেনশ এবং উসমান খাজাকে ফিরিয়ে দিয়ে সে সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং সাকিব আল হাসান। কিন্তু অস্ট্র্রেলিয়ার দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার এবং স্টিভেন স্মিথ অস্ট্রেলিয়াকে আর বিপর্যয়ে পড়তে দেয়নি। বাংলাদেশের স্পিনারদের সব চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে গতকাল শেষ বিকেলেই অস্ট্রেলিয়াকে চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছে। ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিন শেষ হলো তাই ২ উইকেটে ১০৯ রানে। ওভার খেলেছে তারা ৩০টি। ৭৫ রান নিয়ে উইকেটে রয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার। ২৫ রানে রয়েছেন স্টিভেন স্মিথ। ওয়ার্নার যেন ওয়ানডে স্টাইলে খেলছেন। ৭৫ রান তুলতে ৯৬ বল খেলেছেন তিনি। ১১টি বাউন্ডারির সঙ্গে ১টি ছক্কার মারও মেরেছেন তিনি। স্মিথ খেলেছেন ৫৮ বল। তার ইনিংসে বাউন্ডারির মার কেবল ১টি।

অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের জন্য করতে হবে আর মাত্র ১৫৬ রান। হাতে রয়েছে আরো ৮ উইকেট। তবে উইকেট কতটি রয়েছে সেটা বড় কথা নয়, টেস্টের চতুর্থ দিন আজ সকালে যদি ডেভিড ওয়ার্নার আর স্টিভেন স্মিথের ব্যাট আরো চওড়া হয়, তাহলে ম্যাচের পরিণতি অস্ট্র্রেলিয়ার পক্ষেই যাবে এটা নিশ্চিত। আর সকাল সকাল যদি ওয়ার্নার এবং স্মিথের উইকেট তুলে নিতে পারেন মিরাজ-সাকিবরা, তাহলে জয়ের সম্ভাবনা খানিকটা হয়তো থাকবে বাংলাদেশের পক্ষে।

গতকাল মঙ্গলবার দিনের শুরুটায় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েই শুরু করেছিলেন ওপেনার তামিম। প্যাট কামিন্সের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে চার দিয়ে দিনের খেলা শুরু করেন। সঙ্গে ছিলেন নাইটওয়াচম্যান তাইজুল ইসলাম। প্রথম কয়েক ওভার ব্যাটসম্যানদের মতোই প্রতিরোধের দেওয়াল তৈরি করছিলেন। ২৮তম ওভারের শুরুতেই সেই দেওয়ালে আঘাত হানেন গোট খ্যাত নাথান লিওন। তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন অসি এই স্পিনার। তাইজুল ২২ বলে ফেরেন ৪ রানে। যেখানে ছিল একটি চার।

তাইজুল প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান না হলেও এই কোটায় ছিলেন বামহাতি ইমরুল। অথচ প্রথম ইনিংসের মতো তিনিও ছিলেন ব্যর্থ। ২ রানে তাকে ওয়ার্নারের তালুবন্দি করান লিওন। এরপরই ফিফটি হাঁকান তামিম ইকবাল। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন ক্যারিয়ারের ২৩তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে। ইমরুল বিদায় নেয়ার পর মাঠে নামেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক। আগের ইনিংসে ব্যর্থ ছিলেন ভালো ইনিংস খেলতে। এবার তামিমের সঙ্গী হয়ে ভালো ইনিংসের সেতু গড়ছেন দুজন। ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটা ছিল বাংলাদেশেরই। তামিম ইকবালের ফিফটিতে ভর করেই বড় লিডের এদিকে এগুচ্ছিল স্বাগতিকরা। মুশফিককে নিয়ে ৬৮ রানের জুটিও গড়েছিলেন। প্রতিরোধের এই দেওয়ালটা পোক্ত হওয়ার আগেই তা ভেঙে দিলেন প্যাট কামিন্স। তার লাফিয়ে উঠা বলে তালুবন্দি হন ম্যাথু ওয়েডের হাতে। অবশ্য তা ক্যাচ ছিল কিনা জানতে রিভিউ নেয় অসিরা। তার পরেই সাজঘরের পথ ধরেন ৭৮ রানে ব্যাট করতে থাকা তামিম। মধ্যাহ্নভোজের পরেই ধীরে ধীরে রূপ পাল্টায় বাংলাদেশের ইনিংস। সাব্বির মুশফিক মিলে ৪৩ রানের জুটি গড়ে লিড সমৃদ্ধ করার চেষ্টায় ছিলেন। অথচ দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে রান আউট হন মুশফিক। বোলারের প্রান্তা থেকে ক্রিজ ছেড়ে আগেই বেরিয়ে এসেছিলেন মুশফিক। আর তখনই লিওনের হাত স্পর্শ করে বল লাগে স্টাম্পে। মুশফিক বিদায় নেন ৪১ রানে। এরপরেই ঝটপট বিদায় নেন নাসির হোসেন (০) ও সাব্বির রহমান (২২)। নাসিরকে ফেরান অ্যাগার আর সাব্বিরকে ফেরান লিওন।

এর আগে প্রথম সেশনে দুই উইকেট হারালেও প্রাপ্তি হিসেবে ছিল মুশফিক ও তামিমের ৬৬ রানের জুটি। আর এই জুটিতে ভর করেই বড় লিডের দিকে ছিল স্বাগতিকরা। বিরতির পর ফিরে সেই জুটিকে আঘাত হানলেন কামিন্স। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৬৬ রান। মুশফিক ব্যাট করছেন ৩১ রানে আর সাব্বির রহমান ১৬ রানে। ৭৪.৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ২১৭ রানে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj