রোহিঙ্গাদের নিয়ে চলছে বহুমুখী ব্যবসা

বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭

সৈয়দুল কাদের, কক্সবাজার থেকে : রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাণিজ্যে মেতে উঠেছে একাধিক দালাল চক্র। তারা আগত রোহিঙ্গাদের নানা কৌশলে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিচ্ছে। বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা টাকা-পয়সা। যার ফলে কৌশলে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের সেবাদানের প্রতিযোগিতা শুরু করেছে ওই দালাল চক্রের লোকজন। রোহিঙ্গাদের একটি অংশের সঙ্গে স্থানীয় কিছু দালাল মিলে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে ফেলে আসা গবাদি পশু পাচার করার খবর পাওয়া গেছে। রোহিঙ্গা পাচারকারী দালাল ও মুদ্রা পাচারকারী হুন্ডি কারবারিদের তৎপরতা অত্যধিক বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন বা ইউএনএইচসিআর অফিস থেকে পুলিশ, আনসার ব্যারাক পেরিয়ে হাসপাতাল ও কমিউনিটি সেন্টার পর্যন্ত সড়কযোগে হাজার তিনেক রোহিঙ্গার জটলা দেখতে পাওয়া যায়। এদের সবাই গত সোমবার ভোর থেকে এখানে আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত কুতুপালং ও বালুখালী নিবন্ধিত শিবিরে প্রতিনিয়ত চতুর্দিক দিয়ে রোহিঙ্গা প্রবেশ করতে দেখা গেছে। কুতুপালংয়ে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলে কয়েক লক্ষ ও বালুখালী নতুন অনিবন্ধিত শিবিরে প্রায় ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে।

কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে পূর্বে বিদ্যমান প্রায় ১৯ হাজার পরিবারের প্রতিটি ঘরে নতুন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা আশ্রয় নিচ্ছে। রাখাইনের সীমান্ত-সংলগ্ন গ্রাম ঢেঁকিবনিয়া, চাকমাকাটা, ফকিরাপাড়া, তুমরু, মেদায়, কুমিরখালী, বলীবাজার, টংবাজার, ধুমবাইপাড়া, ফকিরা বাজার, সাহাব বাজার, মংগ্রিচং, রেইখ্যাপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসব রোহিঙ্গারা সকালে এসে এখানে জড়ো হয়েছে।

স্থানীয় পাচারকারী দালালরা পাহাড়ি রেজু আমতলী, ফাত্রাঝিরি হয়ে উখিয়ার ডেইলপাড়া, করইবনিয়া, ডিগলিয়া, হাতিমোরা, দরগাহবিল ও ঘুমধুমের বড়বিল, আজুখাইয়া দিয়ে টম টম ও অটোরিকশাযোগে কুতুপালং ও বালুখালীতে নিয়ে আসছে। অভুক্ত ক্লান্ত এসব রোহিঙ্গা নারী ও শিশুর মাঝে গতকাল বিশ্ব পাঠ্য কর্মসূচি স্থানীয়ভাবে একটি এনজিওর মাধ্যমে পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুট বিতরণ করে। সেল্টারহীন রাস্তার পাশে অবস্থান নেয়া ৪০০ পরিবারের মাঝে এ বিস্কুট বিতরণ করা হয় বলে এনজিও মুক্তির এপিসি আবদুল্লাহ আল মামুন শাহীন জানান। বালুখালী রোহিঙ্গা শিবির নেতা লালু মাঝি জানান, গতকাল সকাল পর্যন্ত এখানে প্রায় ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার প্রবেশ করেছে। সে অনুযায়ী বালুখালী ও কুতুপালংয়ে অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি বলে খবর পাওয়া গেছে।

রাখাইনের সীমান্ত এলাকা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকের স্বামী, ছেলে, বাবাসহ নিকটাত্মীয় সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। তারা স্থানীয় হুন্ডি কারবারি কোটবাজারের আবদুর রহমান, থাইংখালীর নুরুল ইসলাম, উত্তর পুকুরিয়ার আনোয়ার, পালংখালী তাহের, ডেইলপাড়ার একরাম, উলুবনিয়ার ফজল হাকিম, বক্তারসহ অনেককে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরাঘুরি করে টাকা বিলাচ্ছে বলে স্থানীয় সচেতন লোকজন অভিযোগ করেছেন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj