এনজিও ব্যুরোতে রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রম অনুমোদনের দাবি

সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

কাগজ প্রতিবেদক : এনজিও ব্যুরোতে জমা দেয়া রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমসংক্রান্ত প্রকল্পগুলো আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনুমোদনসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ)। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স হলে ‘এনজিও ব্যুরোর বিধিসম্মত কর্তৃত্ব ফিরিয়ে দিন : রোহিঙ্গা ত্রাণ প্রকল্প অনুমোদন জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা-প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার বিরোধাত্মক বিষয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক এবং সিসিএনএফের কো-চেয়ার রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফোরামের অপর কো-চেয়ার এবং পালসের নির্বাহী পরিচালক আবু মোর্শেদ চৌধুরী। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এডাবের পরিচালক এ কে এম জসিম উদ্দিন, আইএসডিইর নির্বাহী পরিচালক নাজের আহমেদ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করার বিধান প্রবর্তনের কারণে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মূলত ত্রাণ-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে করে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জরুরি মানসিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই রোহিঙ্গাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা সমুন্নত রাখতে রোহিঙ্গা ত্রাণ প্রকল্প অনুমোদনে অহেতুক জটিলতা বিলোপ করার আহ্বান জানানো হয়।

আবু মোর্শেদ চৌধুরী জানান, এনজিও ব্যুরোর অনুমোদন প্রক্রিয়ার এ বিধান অব্যাহত থাকলে অচিরেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষ করে ডিপথেরিয়া এবং ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। পাশাপাশি এ বিধানের ফলে এনজিওগুলোহ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে আনতে বাধ্য থাকবে, যা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মোটেও সুখবর বয়ে আনবে না। এ সময় তিনি ছয় দফা দাবি জানান। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রম-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর অনুমোদন প্রদান, অনুমোদনটি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী হতে হবে, যা সময় নষ্ট হয়েছে তা নতুন অনুমোদনে কাউন্ট করতে হবে, ত্রাণ কার্যক্রমগুলোর সময়সীমা ৩ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাসে উন্নীত করতে হবে, সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম, শিক্ষা এবং নতুন উদ্ভাবনী কার্যক্রম-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং ব্যুরোতে একজন পূর্ণাঙ্গ মহাপরিচালক নিয়োগ দিতে হবে।

এ কে এম জসিম উদ্দিন বলেন, এনজিও ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত এনজিওগুলোর জন্য ধর্মীয় জঙ্গিবাদের উত্থানে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বজায় রেখে এনজিওগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এনজিওগুলো যদি তাদের কার্যক্রম উঠিয়ে নিয়ে যায় তাহলে ট্রমার মধ্যে থাকা এসব রোহিঙ্গা দ্রুত জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj