জঙ্গিবিরোধী আরেকটি সফল অভিযান

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কয়েকশ’ গজের মধ্যেই তেজগাঁওয়ের পশ্চিম নাখালপাড়ায় একটি জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে। দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য। ধারণা করা হচ্ছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালানোর জন্য সেখানে আস্তানা গেড়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের হোস্টেলের কয়েকশ গজের মধ্যে জঙ্গি আস্তানার বিষয়টি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। তবে আশার কথা, জঙ্গিদের একটা বড় অঘটন পরিকল্পনা আগেই নস্যাৎ করা গেছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বড় সাফল্য। ২০১৭ সালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩৫ অভিযানে ৫৭ জঙ্গি নিহত হয়। জঙ্গিদের হাতে প্রাণ হারান র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন কর্মকর্তা। তবে নতুন বছরে এই প্রথম কোনো জঙ্গি আস্তানায় বড় ধরনের অভিযানের ঘটনা ঘটল।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত বারোটার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম নাখালপাড়ায় আস্তানাটির সন্ধান পায় র‌্যাব। মাত্র দুই কাঠা জমির ওপর ১৩/১ নম্বর রুবি ভিলা নামের ছয়তলা বাড়ির পঞ্চম তলায় গড়ে তোলা আস্তানাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাত্র কয়েকশ’ গজ দূরে। র‌্যাবের ভাষ্য মতে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ ঢাকার কয়েকটি এলাকায় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে নব্য জেএমবির জঙ্গিরা ওই বাড়িতে উঠেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের অভিযানিক দল রাতে ওই বাড়িটি ঘেরাও করে। এরপর তারা অভিযান শুরু করতে গেলে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গিরা গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর র‌্যাব পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। অভিযানের পর দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে ৩ জনের ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে আছে। নিহতদের বয়স ২৫ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। তাদের শরীর রীতিমতো পুড়ে গেছে। শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হওয়া ছাড়াও তারা আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আস্তানার ভেতরের দেয়ালগুলো আর বোমার স্পিøন্টার বিদ্ধ হয়ে ঝাঁজরা হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় বোমার বিস্ফোরণে দেয়ালের পলেস্তার ধসে পড়েছে। ভেতরের জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বিস্ফোরণে আগুন ধরে ভেতরের বেশিরভাগ জিনিসপত্রই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাদের কাছ থেকে সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার হয়েছে। তারা আত্মঘাতী জেএমবি সদস্য ছিল বলে সার্বিক পর্যালোচনা ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট র‌্যাব-পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল। তখন বাড়ি থেকে দুইজনকে আটক করেছিল। ২০১৩ সালেও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দুই দফা এই বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল। ২০১৭ সালেও বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। বাড়িটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় মেস ভাড়া দেয়া নিয়ে এলাকার অনেকের আপত্তি ছিল। ওই বাড়ি থেকেই ইতোপূর্বে চালানো চার দফা অভিযানে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আটক হয়েছিল। আটককৃতদের মধ্যে জঙ্গি ছাড়াও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী ছিল।

বর্তমান সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। বলতেই হবে দেশে জঙ্গি তৎপরতা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সা¤প্রতিক সময়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগাম তথ্য নিয়ে বেশ কিছু জঙ্গি আস্তানায় সফল অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে। নাখালপাড়ার ঘটনায় জঙ্গিদের একটা অঘটন পরিকল্পনা আগেই নস্যাৎ করা গেছে। এটা প্রশংসনীয়। এই তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। তবে এটাও সত্যি যে, এত ধরপাকড়ের পরও কিন্তু জঙ্গিদের অপতৎপরতা থেমে নেই। চলছে নানা নামে জঙ্গিদের সংগঠিত হওয়া ও নাশকতার চেষ্টা। জঙ্গি ধরপাকড়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে নতুন করে জঙ্গিবাদে যুক্ত হওয়ার ধারাও। এ কাজে বিশেষ জোর দিতে হবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj